প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

মুজিবুল-হনুফা দম্পতি ও তাদের সন্তানেরা…

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

মুঠোফোনে কল করতেই ধরলেন সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। পরিচয় বিনিময়ের পর বললেন, ‘বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা করছি। ব্যস্ত আছি। বলেন কী বলবেন?’কেমন আছেন, সময় কীভাবে কাটছে? জানতে চাইলে কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম আসনের এই সংসদ সদস্য বললেন, ‘ভালো আছি সবাই। এখনো আল্লাহ ভালো রাখছেন।’

ছয় দশকের দীর্ঘসময় কৌমার্য ধরে রাখা মুজিবুল হক বিয়ে করেন ৬৭ বছর বয়সে। তখন তিনি সরকারের রেলমন্ত্রী। কনে ছিলেন নিজ জেলা কুমিল্লার চান্দিনার হনুফা আক্তার। তৎকালীন মন্ত্রীর বিয়ে নিয়ে আলোচনা ছিল মুখে মুখে। গণমাধ্যমেও বিয়ের পূর্বাপর খবর ছিল যথারীতি।

বিয়ের দুই বছরের মাথায় সুসংবাদ দিয়েছিলেন রেলমন্ত্রী। সেদিন সহাস্য বদনে জানিয়েছিলেন, ‘মেয়ের বাবা হয়েছি। সবাই দোয়া করবেন।’ ২০১৬ সালের ২৮ মে মুজিবুল-হনুফা দম্পতির মেয়ের জন্ম হয়। সামনের মাসেই মেয়ের পাঁচ বছর পূর্ণ হতে চলল।

প্রথম সন্তান জন্মের তার বছর দুই পর আবার বাবা হন মুজিবুল হক। এবার যমজ পুত্র তাদের ঘর আলো করে। দিনটি ছিল ২০১৮ সালের ১৪ মে। তখনো তিনি রেলমন্ত্রী। ছেলে দুজন আসছে মাসে তিন বছর শেষ করে চারে পা রাখবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা থেকে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুজিবুল হক। কিন্তু এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি তার। সেই থেকেই একরকম আড়ালে চলে গেছেন তিনি।ঢাকাটাইমসের সঙ্গে আলাপে মুজিবুল হক জানান, পরিবারের সঙ্গে ঢাকাতেই আছেন। করোনার কারণে বের হচ্ছে না তেমন একটা। করোনা আসার পর নিজ নির্বাচনী এলাকাতেও খুব একটা যেতে পারছেন না।

মুঠোফোনে কথা বলার সময় তার আশপাশে বাচ্চাদের চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছিল। নিজে থেকেই বললেন, ‘বাচ্চাদের নিয়েই সময় কাটে। এখন তো লকডাউন ঘরবন্দি। বাইরে আর কোথায় যাব?’

করোনার প্রতিষেধক নিয়েছেন কি না? জানতে চাইলে বলেন, তিনি এবং তার স্ত্রী দুজনই টিকা নিয়েছেন। সুস্থ আছেন।বছর দুয়েক আগে ফেসবুকে সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের পহেলা বৈশাখ উদযাপনের একটি পারিবারিক ছবি ভাইরাল হয়। ছবিতে দেখা যায়, হলুদ পাঞ্জাবি পরে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি বসে আছেন। মুখে সেই চিরচেনা স্মিত হাসি। ওই ছবিতে স্ত্রী হনুফা আক্তার পরেছিলেন লাল সালোয়ার-কামিজ। আর তাদের তিন সন্তান লাল-সাদা টি-শার্ট।

২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর ৫ লাখ ১ টাকা দেনমোহরে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মীরাখোলা গ্রামের মেয়ে হনুফা আক্তার রিক্তার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন মুজিবুল হক।একটু বেশি বয়সে বিয়ে করলেও জাঁকজমকভাবে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেই কনেকে ঘরে তোলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী। গায়ে হলুদ, কনের বাড়িতে ধুমধামের সঙ্গে বিয়ের আয়োজন, ঢাকা থেকে বরযাত্রী নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে বৌভাত কোনোটারই কমতি ছিল না বিয়েতে।

১৯৪৭ সালের ৩১ মে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বসুয়ারা গ্রামে মো. মুজিবুল হক জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তিনি চৌদ্দগ্রাম থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি রেলপথমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যদিকে ১৯৮৫ সালের ২০ মে হনুফা আক্তার ওরফে রিক্তা জন্মগ্রহণ করেন। ২০০১ সালে গল্লাই আবেদা নূর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে রিক্তা এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে এলএলবি পাস করেন।