যুগে যুগে আওলিয়া পীর দরবেশ সুফী সাধকের পবিত্র সংস্পর্শে আমাদের এই মাতৃভূমি ধণ্য হয়েছে। ইসলাম প্রচারের জন্য পারস্য ইয়ামেন ও আরবের বিভিন্ন এলাকা থেকে ওইসব লোকজন ভারতবর্ষের বিভিন্নস্থানে এসেছেন। ওইসব ইসলাম প্রচারক ব্যক্তিদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া পৌর শহরের খড়মপুরের হযরত সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ কল্লা শহীদ (র:) ছিলেন অন্যতম। তার সমাধীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে খড়মপুর কল্লা শাহ্ মাজার শরীফ।
এই মাজারের মধ্যে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন বিশাল আকৃতির একটি ডেকচি। ওই ডেকচিটি মাজারে আগত ভক্ত-আশেকানদের নজর কাড়ছে। তারা উৎসাহ নিয়ে ডেকচি দেখছেন এবং মনের ভাসনা পূরণে সাধ্যনুযায়ী টাকা পয়সা দান করছেন।
তবে এই ডেকচির মধ্যে কোন প্রকার খাবার রান্না করা হয় না। উরশ উপলক্ষ্যে প্রথমে রাখা হতো রান্না করা তাবারক। এই ডেকচিটিতে ৫০-৫৫ মন তাবারক বা খিচুরি রাখা যায়। ডেকের মধ্যে তারারক তৈরী ও বিতরণ করা সহজ হওয়ায় এক পর্যায়ে ওই ডেকচিটি আর কোন প্রকার তাবারক রাখেনি মাজার পরিচালনা কমিটি। বর্তমানে খাদেম পরিবারেরর লোকজন মাজারে আগত ভক্ত আশেকানদের দান করার কাজে এই ডেকচিটি ব্যবহার করছেন। এই ডেকচিটি সৌন্দর্যের প্রতীক মনে হলে ও অর্থ উপার্যনের প্রধান কৌশল বলে অনেকে মনে করছেন।
মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. হাসান খাদেম, মো. শরীফুল ইসলাম, সাবেক সদস্য কাজী হান্নান খাদেম বলেন, ১৯৯৬ সনে সায়েদুর রহমান খাদেম (মিনু) মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় তৎকালিন রাজউকের চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম তার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে ডেকচিটি নির্মাণ করা হয়। যা সম্পুর্ণ পাথর, রড, সিমেন্ট দিয়ে ডেকচিটি তৈরী করা হয়। ডেকচিটির উচ্চতা রয়েছে সাড়ে ছয় ফুট। এর মুখের চারপাশের আয়তন ২৫ফুট। আর ডেকচিটির উপর অংশে চারকোণে রড দিয়ে জালি করে দেওয়া আছে। পাশাপাশি ডেকচিটি ঝড় বৃষ্টি হতে রক্ষা পেতে ৪টি পিলার দিয়ে উচু করে একটি ছাদ দেওয়া হয়। এটির নির্মাণ ব্যয় হয় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। এই মাজার দেখবাল করতে ২শতাধিক খাদেম পরিবার রয়েছে। তারাই মূলত এইটি রক্ষণাবেক্ষন করে আসছেন। প্রতিদিন যেসব ভক্ত আশেকানরা মাজার জিয়ারত করতে এখানে আসেন তাদের মধ্যে অনেকেই এই ডেকচির মধ্যে নগদ টাকাসহ যা কিছু দান করছেন ।
খাদেমদের সাথে কথা বলে জানা গেছে , বার্ষিক ওরশ ছাড়া ও মাজার জিয়ারত করতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত ভক্ত আশেকান এখানে আসছেন।
তাছাড়া প্রতি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তুলনামূলক ভাবে ভক্ত আশেকানদের ভিড় থাকে তাই এসময় দৃষ্টি নন্দন ডেকচির মধ্যে অনেকেই টাকা পয়সা দান করছেন।
ভক্ত মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন সময় সুযোগ হলে মাজার জিয়ারত করতে তিনি এখানে আসেন বলে জানায়। পাশাপাশি মনের আশা পুরণে ওই ডেকচির মধ্যে সামর্থনুযায়ী টাকা দেন। খোদেজা বেগম বলেন, মাজারে একটি মানত ছিল। সময় সুযোগ না থাকায় আসা হয়নি। তাই পরিবারের লোকজন নিয়ে এখানে আসা।
প্রতি বছর ১০ আগস্ট শাহপীর কল্লা শহীদ (র:) সপ্তাহব্যাপী বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ওরশ মোবারকে সড়ক, রেল ও নৌপথে দেশের বিভিন্ন প্রান্তর থেকে অসংখ্য ভক্ত আশেকানরা আসেন। ওরশকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী মেলা বসে।
ওরশ চলাকালিন সময় মাজার জিয়ারত,কোরআন খানি, হালকায়ে জিকির, বয়ান হয়ে থাকে । বয়ানে দেশের প্রখ্যাত আলেমরা অংশ নেয়। আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত আশেকানদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়ে উঠে খড়মপুরসহ আশ পাশের এলাকা।













































