প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বন্ধ রেখে হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহের নির্দেশ

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

ভারতে অক্সিজেন সংকট দেখা দেওয়ায় তরল অক্সিজেন রপ্তানি বন্ধ করেছে দেশটি। গত চার দিনে কোনো অক্সিজেনবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। সর্বশেষ গত ২২ এপ্রিল একটি অক্সিজেনবাহী ট্যাংকার খালাস হয় বেনাপোল বন্দরে। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় জীবনরক্ষাকারী প্রধান উপাদান অক্সিজেন।

দেশের বর্তমান অক্সিজেন চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে আমদানি করা অক্সিজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। এই পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় দেশে ভয়াবহ অক্সিজেন সংকট দেখা দিতে পারে। এমনকি অক্সিজেনের অভাবে বাড়তে পারে করোনায় আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুহার।এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণ চলাকালে শিল্পে অক্সিজেনের ব্যবহার ও সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিস্ফোরক পরিদপ্তর। এমনকি বিকল্প হিসাবে সিঙ্গাপুর থেকে অক্সিজেন আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যা সময়সাপেক্ষ।

সম্প্রতি প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ এক স্মারকে শিল্পে ব্যবহারের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসজনিত রোগের সংক্রমণ সম্প্রতি দ্রুত বাড়ছে। দেশের হাসপাতাল/ক্লিনিকে করোনা ভাইরাসে মারাত্মক আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন হ্রাসের কারণে দ্রুত মেডিক্যাল গ্রেডের অক্সিজেন সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতাল/ক্লিনিকে চাহিদা অনুসারে মেডিক্যাল অক্সিজেন পাওয়া যাচ্ছে না।

এ অবস্থায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে মেডিক্যাল অক্সিজেন উৎপাদন বাড়ানো এবং হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্নভাবে অক্সিজেন সরবরাহ বজায় রাখা প্রয়োজন। তাই দেশে করোনা সংক্রমণ চলাকালীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অক্সিজেন ব্যবহার বন্ধ রেখে শুধু হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হলো।

দেশের পাঁচটি অক্সিজেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো- লিন্ডে বাংলাদেশ, স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেড, ইসলাম অক্সিজেন লিমিটেড, ডিআর ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও মেসার্স বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস লিমিটেড।

উল্লেখ্য, দেশে যখন করোনার উচ্চ সংক্রমণ চলছিল তখন মেডিক্যাল অক্সিজেনের চাহিদা ছিল ১৮০-২০০ টন। তবে বর্তমানে এই চাহিদা কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন অক্সিজেন প্রস্ততকারকরা। শিল্প কারখানায় এখন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে দেশের দুই বৃহৎ অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লিন্ডে এবং স্পেক্ট্রা। যেটুকু উৎপাদন হচ্ছে তার সম্পূর্ণটুকু হাসপাতালে সরবরাহ করছে তারা। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কম থাকায় আপাতত স্বস্তি দেখছেন সরবরাহকারীরা। তবে রোগী বাড়লে নতুন করে সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করেন তারা।