ভারতে করোনা পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। আর ভারতের সীমান্ত বেষ্টিত বাংলাদেশ থাকার কারণে বাংলাদেশে যেকোনো সময় করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আর এই আশঙ্কা থেকেই সরকার আরেক দফা লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়েছে এবং আগামী ৫ মে পর্যন্ত এই লকডাউন থাকবে। সরকারের পরামর্শক একাধিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন যে, ভারতের যে করোনা সংক্রমনের ধরন সেটি যদি বাংলাদেশে আসে তাহলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেক ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করতে পারে। যে কারণে বিশেষজ্ঞরা এটি মনে করছেন তার কারণ হলো,
১. বাংলাদেশে দ্বিতীয় ঢেউয়ে হাসপাতালগুলো পূর্ণ: বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালগুলো প্রায় পরিপূর্ণ হয়েছে। যদিও এখন রোগীর চাপ কিছুটা কমেছে কিন্তু আইসিইউগুলো খালি নেই। এ অবস্থায় যদি ভারতের ধরনটা আসে তাহলে পরে ব্যাপকভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে এবং তখন হাসপাতালগুলোতে জায়গা দেওয়া সম্ভব হবে না। তখন ভারতের মতো পরিস্থিতি বাংলাদেশ হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি মাত্র দুই থেকে তিন ভাগ রোগী বৃদ্ধ হয় তাহলে হাসপাতালগুলোতে আর জায়গা দেওয়া সম্ভব হবে না। এটি বাংলাদেশের জন্য ভয়ঙ্কর হবে।
২. গ্রামাঞ্চলে করোনা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা: এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের যেটি ইতিবাচক দিক তা হলো গ্রাম অঞ্চল বা গরিব মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে নি। করোনাকে এখনও একটি আরবান ডিজিজ বা শহরের রোগ হিসেবেই চিহ্নিত করা হচ্ছে। যার কারণে মানুষ করোনার ভয়ে সবকিছু বন্ধ করে রাখার ব্যাপারটিকে সমর্থন জানাচ্ছে না। কিন্তু যদি ভারতের এই ধরণটি বাংলাদেশে সংক্রমিত হয় তাহলে তা সীমান্তবর্তী অঞ্চল গুলোতে হবে। কারণ সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে চলাফেরা অত্যন্ত বেশি হয়। মানুষ অনুমতি নিয়ে বা অনুমতি ছাড়াই ঘোরাফেরা করে এবং এটি পুরোপুরিভাবে বন্ধ করা সম্ভব না। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশে যদি ভারতীয় সংক্রমণটি ধরা পরে তাহলে এই গ্রামীণ জনপদ, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হবে এবং সেটি যদি হয় তাহলে পরে তা ভয়াবহ হবে। কারণ আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার ঢাকা এবং শহরকেন্দ্রিক। মফস্বলগুলোতে আইসিইউ তো দূরের কথা করোনা চিকিৎসার ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেই। এর ফলে আমাদের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩. দীর্ঘমেয়াদি অক্সিজেন সংকট: করোনা সংক্রমণ বাড়লেই অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। আর বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই অক্সিজেন রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। বাংলাদেশ অক্সিজেনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তিনটি প্রতিষ্ঠান এখানে অক্সিজেন উৎপাদন করে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দিনরাত উৎপাদন করেও কুলাতে পারছে না। সামনে যদি পরিস্থিতির অবনতি হয় তাহলে অক্সিজেন সংকট ভারতের চেয়েও তীব্র হতে পারে বাংলাদেশে এমন শঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৪. সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করার প্রবণতা: বাংলাদেশে করোনার পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা এজন্যই বেশি যে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানা, মাস্ক ব্যবহার করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করা ইত্যাদি প্রবণতাগুলো একেবারেই কম। আর এই কারণেই বাংলাদেশে যদি ভারতের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, আর আমরা যদি এরকম ঢিলেঢালা লকডাউন এবং স্বাস্থ্যবিধির প্রতি উপেক্ষা করি তাহলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভারত বা তার চেয়েও খারাপ হতে পারে। সে জন্যই বিশেষজ্ঞরা এবং পরামর্শকরা মনে করছেন যে, আমাদের এখন থেকেই সতর্ক হতে হবে এবং আমরা লকডাউন যদি পুরোপুরি নাও করতে পারি আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানাটাকে গুরুত্ব দিতে হবে।













































