বিয়ের জন্য চা’প দেওয়ায় মনোমালিন্য!! সিসিটিভি ফু’টেজে যা দেখল মুনিয়ার বোন … রাজধানীর গুলশানের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক কলেজছা’ত্রীর ঝু’লন্ত ম’রদেহ উ’দ্ধার করেছে পু’লিশ। তিনি মিরপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর গুলশান ২ নম্বরের ১২০ নম্বর সড়কের ফ্ল্যাটটি থেকে ম’রদেহটি উ’দ্ধার করা হয়। ত’রুণীর বাড়ি কুমিল্লা শহরে। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সকালে মুনিয়ার বাড়ি কুমিল্লা মনোহরপুর সোনালী ব্যাংকের পেছনে সেতারা সদনে গিয়ে দেখা যায় সুনশান নিরবতা।
বীর মু’ক্তিযো’দ্ধা শফিকুর রহমান ও কাজী সেতারা বেগম দম্পতির তিন স’ন্তান। বড় ছে’লে আশিকুর রহমান। মেজ মে’য়ে নুসরাত জাহান ও ছোট মে’য়ে মুনিয়া। মুনিয়ার বড় ভাই আশিকুর রহমান জানান, তিনি একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। তাদের বাবা- মা কেউ বেঁ’চে নেই। তার বাবা বীর মু’ক্তিযো’দ্ধা শফিকুর রহমান। মা সেতারা বেগম ছিলেন সোনালী ব্যাংকের কর্মক’র্তা। মেজ বোন নুসরাত গৃহিণী। থাকেন কুমিল্লায়। ছোট বোন মুশরাত জাহান কুমিল্লা মডার্ন স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পাঁচ বছর আগে ঢাকায় চলে যান। গত বছর এসএসসি পাস করেন। পরে ভর্তি হন মিরপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে। টুকটাক মডেলিং ও অ’ভিনয়ের সাথে যু’ক্ত ছিলেন। তবে খুব ভালো ছবি আঁকতে পারতেন। আশিকুর রহমান জানান, মুনিয়া গত পাঁচ বছর ধ’রে ঢাকায় থাকে। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে তিন ভাইবোনের মাঝে টানপোড়েন হয়। এ সংক্রান্ত একটি মা’মলা আ’দালতে বি’চারাধীন।
আশিকুর রহমান সবুজ আরও জানান, সোমবার (২৬ এপ্রিল) ইফতারের সময় তার মেজ ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান ফোন করে জানান তার ছোট বোন মুনিয়া আর বেঁ’চে নেই। তারপর সারা রাত ঘুমাতে পারেননি। আশিকুর রহমান সবুজ সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার বোন মুনিয়া কোনোভাবেই নিজের জীবন শেষ করতে পারে না। সে খুব আ’ত্মপ্রত্যয়ী একটা মে’য়ে। নিশ্চয় এটার পেছনে র’হস্য আছে। কারণ ছোট বেলা থেকেই আশিকুর রহমান তার বোনকে কোলে-পিঠে করে বড় করেছেন। তার বোন ভালো আর্ট করতে পারত। টুকটাক মডেলিং করত। সে কেন ফাঁ’স দেবে। মুনিয়ার মৃ’ত্যুর ঘ’টনাকে হ’ত্যাকা’ণ্ড উল্লেখ করে আশিকুর রহমান সবুজ দা’য়ীদের আ’ট’ক ও দৃ’ষ্টান্তমূলক শা’স্তির দা’বি জানান।
মুনিয়ার খালাতো ভাই ইকবাল হোসেন জানান, তারা লা’শ নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছেন। কুমিল্লায় আনুষ্ঠানিকতা শে’ষে নগরীর টমসমব্রিজ কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশে মুনিয়ার লা’শ সমাহিত করা হবে। মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান দা’বি করেন, ‘‘গত কিছু দিন ধ’রে মুনিয়ার মন খা’রাপ। সে বিয়ের কথা আনভীরকে বলেছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছে। কালকে মুনিয়া ফোন করে বলে, ‘আমাকে মে’রে ফেলবে। আমাকে ধোঁকা দিয়েছে, ধোঁকা দিয়েছে।
আপু তুমি তাড়াতাড়ি ঢাকায় আসো, আমা’র অনেক বড় বি’পদ। আমা’র যেকোনও সময় একটা দু’র্ঘটনা ঘ’টতে পারে’। বিষয়টি জেনে ঢাকায় রওনা দেই এবং যেতে যেতে তাকে অনেক ফোন দেওয়া হয়, কিন্তু সে আর ফোন ধ’রেনি। পরে বাসায় গিয়ে দরজা নক করলেও সে খুলেনি। এ সময় বাসার মালিককে ডেকে ঘরের তালা ভে’ঙে তাকে ঝু’লন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। আনভীর ওই বাসায় আসা-যাওয়া করেছে, সিসিটিভির এমন ফুটেজ পু’লিশ পেয়েছে।’’ এদিকে মুনিয়ার ঝু’লন্ত ম’রদেহ উ’দ্ধার করার সময় মুনিয়ার পা দু’টো বিছানার সাথে লেপ্টানো ছিল বলে জানিয়েছেন তার দুলাভাইয়ের বন্ধু জিসান। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে তার সাথে কথা হয় গ’ণমাধ্যমের।
জিসান বলেন, আমি ঘ’টনাস্থলে গিয়ে ফ্যানের সাথে ঝু’লন্ত অবস্থায় মুনিয়ার ম’রদেহ দেখি। তখন তার পা দু’টো বিছানায় ছিল। কিন্তু পা গুলো শুধু বিছানার সাথে লেপ্টে ছিল ছিল। দুই পা দুপাশে ছড়ানো ছিল। ওর পায়ের মাঝখানে একটা টোল ছিল। কিন্তু সেটা খাড়া অবস্থায়ই ছিল। যার কারণে ধারণা করা হচ্ছে, শে’ষ মুহুর্তে মে’য়েটি বাঁ’চার চে’ষ্টা করলে টোলটি এভাবে থাকতো না। হয়তো পড়ে যেতো। যার কারণে এটাকে হ’ত্যা বলে ধ’রা হচ্ছে। মুনিয়ার মৃ’ত্যুকে হ’ত্যা না কি অন্য কিছু তা স্পষ্ট না উল্লেখ করে জিসান বলেন, তার বাসা থেকে ৪টি ডায়েরি উ’দ্ধার করেছে পু’লিশ। ২০২০ সাল থেকে দৈনিক সে সব বিষয় ডায়েরিতে লিখেছে। তাকে মা’নসিকভাবে চা’পে রাখা হচ্ছিল।
তিনি আরও বলেন, পু’লিশ বলেছে পা ঝু’লে থাকার পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখা আছে। কিন্তু পা যদি এভাবে ঝু’লেও থাকতো তাহলে বিছানায় ছড়ানো থাকতো না। বিষয়টা ত’দন্তের পর বলা যাবে আসলে কি ঘ’টেছিল।
আনভীরের পক্ষ থেকে মুনিয়াকে হ’ত্যার হু’মকি দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে জিসান বলেন, মুনিয়া তার বোনকে ফোন দিয়ে বলেছিল তাকে হ’ত্যার হু’মকি দেওয়া হচ্ছে। আনভীরের শ’ত্রু পক্ষের সাথে মুনিয়ার স’ম্পর্ক আছে বলে তাকে এই হু’মকি দেওয়া হচ্ছিল। জানা গেছে, মা’মলার বাদী ওই ত’রুণীর বোন নুসরাত জাহান। সন্ধ্যার পর গুলশান-২-এর ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান (মুনিয়া) নামের এক ত’রুণীর ম’রদেহ উ’দ্ধার করে পু’লিশ। তাঁর বাবা বীর মু’ক্তিযো’দ্ধা শফিকুর রহমান। তাঁদের বাড়ি কুমিল্লার উজির দিঘিরপাড়। এক লাখ টাকা ভাড়ায় মাস দুয়েক আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন মুনিয়া।
ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ভাই’রাল হয়েছে। ভাই’রাল অডিওক্লিপটিতে, এক ব্যক্তি এবং এক না’রীর কথোপকথন শোনা যায়। সেই কথোপকথনে ৫০ লাখ টাকার কথা উঠে আসে। তবে এই টাকার উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে।
অডিও ক্লিপে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, আমা’র টাকা’টা দিয়া দিস, তুইই আমা’র টাকা নিছস। কা’ন্নারত ত’রুণী বলেন, আ’ল্লাহরে ভ’য় পান না আপনি? আপনাকে কে বলছে আমি ৫০ লাখ টাকা নিছি, আমি কোনো টাকা নেই নাই। উত্তরে অন্যপাশ থেকে ওই ত’রুণীকে বারংবার অকথ্য ভা’ষায় গা’লাগা’লি করা হয়। যদিও অডিওক্লিপটিতে কথা বলা দুইজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অডিওক্লিপটি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকহারে ভাই’রাল হয়েছে।













































