বাংলাদেশের শতকরা আশিভাগ লোক গ্রামে বাস করে। পরে কর্মজীবনের তাগিদে গ্রাম ছেড়ে অনেকেই শহরবাসী হয়। কিন্তু গ্রামে বেড়ে ওঠা মানুষরা তার শৈশব স্মৃ’তি কে হৃদয়ে ধারন করে পরমযত্নে। শৈশবে সেই গ্রামীন খেলাধূলার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা দুরুন্তপনার দিনগু’লি একজন ব্যক্তিমানুষের জীবনস্মৃ’তির বড় অংশ হয়ে ওঠে। বয়স পেরিয়ে গেলে একদিন মানুষরা শৈশবের সেই দিনগুলো কে কাছে ফিরে পেতে মাঝে মাঝেই ম্মৃ’তি কাতর হয়ে ওঠে।
সময়ের পরিক্রমায় শি’শু কি’শোর বয়সের সেই শৈশব জীবনের চিরচেনা অধ্যায়ের পরিবর্তন হচ্ছে। শৈশব জীবনের দুরন্তপনার দিনগু’লি গ্রাস করছে আন্ড্রয়েট মোবাইল ফোনের সস্তা বিনোদন আর ভিডিও গেম।
বগুড়া জে’লার দুপচাঁচিয়া উপজে’লায় শি’শু- কি’শোরদের শৈশব জীবনের উপরও একইভাবে প্রভাব বিস্তার করছে মোবাইল ফোন। তাদের শৈশব জীবন থেকে ধূলাবালি মাখা দুরুন্তপনার দিনগু’লি হারিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার ( ২১.০৫.২০২১) সকালে শি’শু-কি’শোরদের উপর মোবাইল ফোনের নেতিবাচক প্রভাব স’ম্পর্কে জানতে আদম’দীঘি হাজী তাছের উদ্দিন মহিলা কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শামছুজ্জামান সালামের সাথে কথা হয় আগামী নিউজের।
প্রভাষক শামছুজ্জামান সালাম বলেন, সময় এখন বিজ্ঞান ও প্রযু’ক্তি নির্ভর। প্রযু’ক্তি মানুষের জীবনধারা কে পরিবর্তন করে দিয়েছে। ২০০০ সালের পর থেকে প্রযু’ক্তির প্রভাবে গতানুগতিক জীবনধারায় বড়বেশি প্রভাব পড়ে। প্রযু’ক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভ’য় প্রকার প্রভাব কাজ করছে জীবনধারার উপর। তবে অ’পরিপক্ব বয়সের কারণে আন্ড্রয়েট মোবাইল ফোনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শি’শু কি’শোরদের উপর।
প্রভাষক শামছুজ্জামান সালাম মোবাইল ফোনের নেতিবাচক প্রভাব ব্যাখা করতে গিয়ে বলেন, শি’শু কি’শোরদের উপর এই নেতিবাচক প্রভাব অ’ত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। শি’শু কি’শোররা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে একাকিত্ব কে বেছে নিচ্ছে। এতে শি’শু কি’শোরদের সামাজিকিকরন মা’রাত্বকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একাকিত্ব আর অসামাজিকভাবে বেড়ে ওঠা শি’শু কি’শোররা পরিনত হচ্ছে দ্বায়িত্ব ও কর্তব্যহীন ব্যক্তিমানুষে। এদের মধ্য যেমন থাকে না সামাজিক মূল্যবোধ, তেমনি সৃষ্টি হয় না দ্বায় বোধ।
মোবাইল ফোনের আসক্তি কেড়ে নিচ্ছে শি’শু কি’শোরদের গ্রামীন খেলাধূলার জীবন। শি’শু কি’শোররা খেলাধূলা করলে নিয়ম মেনে চলা শেখে, সেইসাথে শেখে অ’পর কে সুযোগদান করা। খেলাধূলাবিহীনভাবে বেড়ে ওঠা শি’শু কি’শোরদের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শৃংখলাবোধ। এসব শি’শু কি’শোররা ব্যক্তিজীবনে হয়ে ওঠে বেপরোয়া।
মোবাইল ফোনের আসক্তি শি’শু কি’শোররা হারিয়ে ফেলছে যোগাযোগ দক্ষতা। মোবাইল ফোন কে সঙ্গী ভেবে শি’শু কি’শোররা একে অ’পরের সাথে যোগাযোগ কমে দেয়। এতে করে ওইসব শি’শু কি’শোররা একদিন ব্যক্তিজীবনেও আপনজনদের সাথেও তেমন যোগাযোগ রাখেনা। এভাবেই মানুষরা হয়ে উঠছে স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক।
এছাড়াও মোবাইল ফোনের নানাবিধ নেতিবাচক প্রভাব কাজ করে শি’শু কি’শোরদের উপর।
তিনি আরও বলেন, শি’শু কি’শোরদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে না দিয়ে তাদের সাথে অ’ভিভাবকদের সময় কা’টানো উচিত। সেইসাথে লেখাপড়ার পাশাপাশি গ্রামীন খেলাধূলার প্রতিও প্রলুব্ধ করতে হবে তাদের। তা না হলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়জীবনেও পড়বে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব।













































