প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

যে ভালোবাসাটা পেয়েছি তা হারাতে চাই না: জোভান

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

এবার ঈদে ২৫টির মতো কাজ নিয়ে পর্দায় হাজির হয়েছেন ছোট পর্দার তরুণ জনপ্রিয় অ’ভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। অন্যান্য অনেক তারকার ভিড়ে শুধু সংখ্যায় নয়, মানে, অ’ভিনয়ে হয়েছেন প্রশংসিত।

নিজেকে নতুন করে এনেছেন আলোচনায়। সম্প্রতি এক আড্ডায় কথা হয় এ তারকার সঙ্গে। কাজ ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে হওয়া আলাপের চুম্বকাংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধ’রা হলো…এবার ঈদে কতগুলো কাজ গিয়েছে? কাজগুলো থেকে কেমন সাড়া পেয়েছেন?

হ্যাঁ। এবার ঈদে আমা’র প্রায় ২৫টির মতো নাট’ক প্রচারে এসেছে। ঈদের আগে আমি খুবই চিন্তায় ছিলাম। কারণ, এই সময়টাতে প্রায় ১ মাস ১০দিনের মতো কাজ করতে পারিনি আমি। শেষের দিকে এসে আমা’র কোভিড পজেটিভ আসে। লকডাউন এবং নিজের সুস্থতা সবকিছুর জন্য বাসাতেই ছিলাম।

অনেকগুলো কাজ থেকেই ভালো সাড়া পেয়েছি। এরমধ্যে ‘অ্যাওয়ার্ড’, ‘মাতাল হাওয়া’, ‘বালক বালিকা’, ‘লাড্ডু সোনা’, কাজগুলো অনেক বেশি ভালো সাড়া পেয়েছি। প্রত্যেকটা কাজেই নতুনত্ব ছিলো। আমি নাচতে পারিনা কিন্তু ‘লাড্ডু সোনা’ নাট’কে একটা আইটেম গান ছিলো, সেখানে পারফর্ম করতে হয়েছে। এরকম প্রতিটা কাজেই ভিন্নতা ছিলো অনেকটা।এবার ঈদের কাজগুলোর মধ্যে ব্যতিক্রম কি ছিলো যা আপনাকে মুগ্ধ করেছে?

আমি বলবো অনেকটাই ব্যতিক্রম ছিলো। আগে যেমন অনেক নাট’কেই গল্প না থাকলেও বিভিন্ন ফানি দৃশ্য কিংবা স্ল্যাং ব্যবহারের কিছু ব্যাপার ছিলো। এবার সেরকম কিছুই ছিলো না। ভালো ভালো গল্প পেয়েছি, কাজ করেও তৃপ্তি পেয়েছি। ভালো গল্প পেলে সেখানে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। সেদিক থেকে মাই ভাগ্যবান কিছু ভাল গল্প পেয়েছি, কাজ করতে পেরেছি। এই বিষয়গুলো আমা’র কাছে ভালো লেগেছে খুব।

একটা কথা বলতে চাই, এবার ঈদ এবং গেল ভালোবাসা দিবস; দুটো বিশেষ দিবসেই আমা’র ভালো কিছু কাজ গিয়েছে। দর্শকদের ভালোবাসাটা নতুন করে পেয়েছি। তারা আমা’র কাজগুলো দেখেছেন এবং দেখছেন। আমি অনেক ভাগ্যবান। নিজের খা’রাপ সময়টা কিছু হলেও পার করতে পারছি। সেদিক থেকে এ বছরটা আমা’র জন্য লাকি। আমি জানি, আমাকে আরও অনেক বেশি হার্ড ওয়ার্ক করতে হবে। দর্শকদের এই ভালোবাসাটা ধরে রাখতে চাই। আমা’র যারা ভক্ত কিংবা শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন তাদের সবাইকে আমা’র পক্ষ থেকে অনেক অনেক ভালোবাসা।

ভিউয়ের একটা প্রতিযোগিতা চলছে এখন। বিষয়গুলোকে কী’ভাবে দেখেন?ভিউয়ের বিষয়গুলো আমি পজেটিভলি দেখি। আগে যেমন টেলিভিশনে টিআরপি’র একটা প্রতিযোগিতা ছিলো এখন ইউটিউবের কারণে ভিউয়ের দিকে ঝুঁকেছে। এটা অবশ্যই পজেটিভ দিক। ভিউ যেটা হয় সেটা সবার চোখের সামনেই হয়, এখানে লুকানোর কোনো বিষয় নেই।

এটাকে খা’রাপভাবে দেখার কিছু নেই। দর্শকরা কোন কাজগুলো কিংবা কার কাজ বেশি দেখছেন, সেটা জানা যায়। ইউটিউবের মন্তব্যের ঘরে নানারকম মন্তব্য দেখা যায়। ভাল-মন্দ দুটো বিষয়ই দেখা যায় এখানে। এতে করে ভালোটা দেখে আরও বেশি অনুপ্রা’ণিত হওয়া যায়। ভালো কিছু করার প্রতি আগ্রহটা বেড়ে যায়। আমা’র কাছে মনে হয় এই ভিউয়ের প্রতিযোগিতাটা থাকা দরকার।

একটা দুঃসময় পার করেছেন। ইন্ডাস্ট্রিতে পড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়ানোটা খুবই কঠিন। মাঝখানের এই সময়টা কী’ভাবে পার করেছেন, কী’ উপলব্ধি করেছেন সময়টাতে?হ্যাঁ। আমি একটা দুঃসময় পার করেছি। ২০১৮-১৯ সময়টা আমা’র খুবই খা’রাপ গিয়েছে। আমি বলবো এটা আমা’র নিজের কারণেই, অস্বীকার করার কিছু নেই। নিজের কিছু গাফিলতি, গল্প বাছাই না করে কাজ করা, গড়পড়তা কাজ এবং আমা’র ব্যক্তিগত কিছু সমস্যা; যার কারণে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছিলাম।

আমি যখন আমা’র ভুলগুলো অনুধাবন করতে শুরু করলাম তখন থেকে নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। আমাকে তো কাজ করতে হবে। কারণ, আমা’র একটা পরিবার আছে, পরিবারের দায়িত্ব আছে। মানুষ ভুল থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করে। আমিও করেছি। এই সময়টাতে অনেককেই পাশে পেয়েছি আবার অনেককেই পাইনি। কি পাইনি সেটা হিসেবে করতে চাই না, যা পেয়েছি সেটা নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

অনেক অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি, সাপোর্ট পেয়েছি। যে ভালোবাসাটা পেয়েছি সেটা আর হারাতে চাই না।অবস্থান কতটুকু বা কি, সেটা নিয়ে ভাবছি না। আমি আমা’র কাজটাকেই গুরুত্ব দিচ্ছি বেশি। অবস্থানের বিষয়টা আসলে দর্শকদের ওপরে নির্ভর করে। তারা আমা’র কাজ কতটুকু পছন্দ করছেন! তবে আমি যা পেয়েছি আলহাম’দুলিল্লাহ। যেহেতু অ’ভিনয় নিয়ে আমা’রদের কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড শিক্ষা নেই,

তাই দেখতে দেখতে কিংবা করতে করতে শিখছি। এখনো অনেক কিছু শিখছি। জীবনে অ’ভিজ্ঞতা অর্জনের কোনো শেষ নেই। আর আমা’র মনে হয়, একজন অ’ভিনয়শিল্পীর তৃপ্তির বিষয়টা এত সহ’জে আসে না। একটা ভালো কাজ করার পর আরও ভালো কাজ করার ক্ষুধা জন্মে। তবে হ্যাঁ, কিছুটা তৃপ্তি অনুভব করার চেষ্টা করি, নাহলে একটা অস্থিরতা কাজ করতে পারে। তারপরও প্রায় প্রতিদিনই আমি নতুন কিছু শিখছি, শিখতে চাই।