ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা জিইয়ে রাখা এবং নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করা। তিনি বলেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউজের নীতিতে পরিবর্তন আনবেন না বরং নীতি বাস্তবায়নের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন আইআরজিসি’র প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামির এ বক্তব্য থেকে পশ্চিম এশিয়ার ব্যাপারে মার্কিন কূট-কৌশল ও ষড়যন্ত্রের বেশ কিছু দিক ফুটে উঠেছে। সালামির বক্তব্যে যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে এ অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা ও আধিপত্যকামী লক্ষ্য বাস্তবায়ন করাই মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির মূল উদ্দেশ্য। এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোকে ভেঙে আরো টুকরা টুকরা করা এবং নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিতে মার্কিন ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেছেন, মুসলিম দেশগুলোর শক্তি খর্ব করা এবং তাদের অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে তার পূর্বসুরিদের নীতি অনুসরণ করে ইহুদিবাদী ইসরাইল ও সৌদি আরবকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ অঞ্চলে মার্কিন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য আসলে কি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্ব তো এতটুকু কমেনি বরং শক্তির ভারসাম্য ইসরাইল ও মার্কিন বিরোধী প্রতিরোধ শক্তিগুলোর পক্ষে চলে যাওয়ায় ওয়াশিংটন আরো বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে। ইরানের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ হোসেন হাজিলু বলেছেন, ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস জঙ্গি গোষ্ঠী পরাজিত হওয়ার পর এ অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তিগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার সুযোগ পায়। কিন্তু মার্কিন সরকার প্রতিরোধকামী দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে নিজের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে।
দ্বিতীয়ত, অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত দখলদার ইসরাইলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মাধ্যমে মার্কিন সরকার এ অঞ্চলে তাদের স্বার্থ ধরে রাখার চেষ্টা করছে। ইসরাইল হচ্ছে এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ও সন্ত্রাসবাদের প্রাণকেন্দ্র। সেই ইসরাইলকে ব্যবহার করে মার্কিন সরকার এ অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তিগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
তৃতীয়ত, পশ্চিম এশিয়ার প্রধান শক্তি ইরানকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে ওয়াশিংটন। এ জন্য ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে মার্কিন সরকার ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা সে লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। সে কারণে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র সরকার গত বছর ৩ জানুয়ারি ইরানের কুদস ব্রিগেডের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদ বিমান বন্দরের কাছে শহীদ করে। এরপর ইরাকের সংসদ সেদেশ থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের জন্য প্রস্তাব পাশ করে।
এ ব্যাপারে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি বলেছেন, মার্কিন সেনারা এখনো ইরাকে অবস্থান করছে এবং সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। একইসঙ্গে সৌদি আরবকে দিয়ে ইয়েমেনে গণহত্যা চালাচ্ছে। শুধুমাত্র আফগানিস্তান থেকে তারা বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, মার্কিন সেনাদেরকে অবশ্যই এ অঞ্চল থেকে চলে যেতে হবে। যদি তারা না যায় তাহলে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করা হবে। আর এটা তাদের বোঝা উচিত।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩০













































