প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

মিরাজের স্পিন জাদুতে দিশেহারে শ্রীলংকা,৭ম উইকেটের পতন,

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

সবাই যখন উইকেট নিচ্ছেন, তখন মেহেদি মিরাজ বসে থাকবেন কেন? গত ম্যাচে মাত্র ৩০ রানে চার উইকেট নেওয়া এই অল-রাউন্ডার আজ কুশল মেন্ডিসকে (৪) ফিরিয়ে প্রথম শিকার ধরেন। কুশলকে লেগ বিফোর উইকেট ঘোষণা করেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি কুশল। মিরাজ এখন পর্যন্ত নিয়েছেন ৩ উইকেট। ১১৪ রানে ৭ উইকেটের পতন হলো শ্রীলঙ্কার।

মিরপুর শেরে বাংলায় রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা। দলীয় ২৪ রানে অভিষিক্ত শরীফুলের বলে তামিম ইকবালের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন অধিনায়ক কুশল পেরেরা (১১)। এদিকে ব্যাটিং করার সময় মাথায় চোট পেয়ে এই ম্যাচে আর খেলা হচ্ছে না সাইফউদ্দিনের। তার ‘কনকাশন সাব’ হিসেবে বল করছেন তাসকিন। দলীয় ৫৩ রানে অপর ওপেনার দানুশকা গুনাথিলকাকে (২৪) সাকিব আল হাসানের তালুবন্দি করেন মুস্তাফিজুর রহমান। স্কোরবোর্ডে ১৮ রান যোগ হতেই মঞ্চে আসেন সাকিব। তুলে নেন পাথুম নিশাঙ্কাকে (২০)। মিড উইকেটে ক্যাচ নেন তামিম ইকবাল।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৮.১ ওভারে ২৪৬ রানে অল-আউট হয় বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে নেমে যথারীতি বিপর্যয়ের শুরু। তামিম আজ বড় রান করতে পারেননি। ৬ বলে ৩ চারে ১৩ রানে আউট হন। দলীয় ১৫ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে। সাকিব আজও ব্যর্থ। চামিরার বলে বোল্ড হওয়ার আগে তিন বল খেলে ‘ডাক’ মারেন। লিটন দাসের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল টেস্ট খেলছেন। ৪২ বলে ২৫ রান করে সান্দাকানের শিকার হন। তার ইনিংসে দুটি চার ছিল।

তুমুল সমালোচিত মোহাম্মদ মিঠুনের জায়গায় সুযোগ পাওয়া অল-রাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন ১২ বলে ১০ করে সান্দাকানের শিকার হলে ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর যথারীতি দলের সম্মান রক্ষার ভার নেন মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাদের পঞ্চম উইকেট জুটিতে এসেছে ৮৭ রান। ৭০ বলে ক্যারিয়ারের ৪১তম ফিফটি পূরণ করেন মুশফিক। মাহমুদউল্লাহও সেই পথে হাঁটছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য। ৫৮ বলে ১ চার ২ ছক্কায় ৪১ রান করে তিনি লক্ষণ সান্দাকানের শিকার হন।

উইকেটে এসেই হাত খুলে মারতে থাকেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। দুটি চার মারার পর তাকে ১০ রানেই থামিয়ে দেন ইসুরু উদানা। গত ম্যাচের বল হাতে নায়ক মেহেদি মিরাজ আজ হাসরাঙ্গার বলে ০ রানে ফিরেন। ২৩ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে নতুন বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। উইকেটে আসেন সাইফউদ্দিন। এমন সময় বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ২০ মিনিট পরে আবার খেলা শুরু হয়। হাত খুলে খেলতে থাকেন মুশফিক। তিন অংক ছুঁতে যখন তার মাত্র ৪ রান দরকার, তখন ফের বৃষ্টি নেমে আসে। কিছুক্ষণ পর আবারও শুরু হয় খেলা। তখনো ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছিল। এর মাঝেই দুষ্মন্ত্য চামিরাকে বাউন্ডারি মেরে ১১৪ বলে ক্যারিয়ারের ৮ নম্বর সেঞ্চুরি তুলে নেন মি. ডিপেন্ডেবল।

সাইফউদ্দিন বেশিক্ষণ সময় দিতে পারেননি মুশফিককে। ৩০ বলে ১১ রান করে তিনি মেন্ডিসের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হয়ে যান। ৪৭তম ওভারে দলীয় ২৩২ রানে পতন হয় ৮ম উইকেটের। অভিষিক্ত শরিফুল ইসলাম ‘ডাক’ মারেন। শেষ উইকেট হিসেবে মুশফিক চামিরার বলে আউট হয়ে যান। ৪৮.১ ওভারে ২৪৬ রানে প্যাকেট হয় বাংলাদেশ। মুশফিক ১২৭ বলে ১০ চারে ১২৫ রান করেন। ৪৪ রানে ৩ উইকেট নেন চামিরা। সান্দাকান নেন ৫৪ রানে ৩ উইকেট। হাসরাঙ্গা ১টি আর ইসুরু উদানা নেন ২টি।