প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

বৃষ্টি-বাতাস বেড়ে গরম কমে আসতে পারে

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

বঙ্গোপসাগরে নি’ম্নচা’প থাকায় রাজধানীসহ দেশের বেশিরভাগ এলাকায় ভ্যাপসা গরম ছিল। সোমবার বিকেলের মধ্যে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। আর সাগরের গ’ভীর নি’ম্নচা’পও ঘূ’র্ণিঝ’ড়ে রূপ নিতে পারে।

শ’ক্তি সঞ্চয় করে ধীরে ধীরে উপকূলের দিকে এগিয়ে আ’সছে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গ’ভীর নি’ম্নচা’প। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ল’ঘুচা’প, সুস্পষ্ট ল’ঘুচা’প এবং নি’ম্নচা’পের স্তর পার করেছে। এরপর ঘূ’র্ণিঝ’ড়ে রূপ নিলে এটির নাম দেওয়া হবে ইয়াস।

মঙ্গলবারের মধ্যে এটি ‘অতি শ’ক্তিশালী’ রূপ নিতে পারে। আর শেষ পর্যন্ত ‘অতি প্রবল শ’ক্তিশালী’ রূপে উপকূল অতিক্রম ক’রতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিভাগের পর্যবেক্ষণ বলছে, বঙ্গোপসাগরের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে’র কাছে একটি ঘূ’র্ণি ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে। এটি দ্রুত বাংলাদেশের উপকূলের দিকে এগোচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে গ’ভীর নি’ম্নচা’পটির কারণে বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যার বাতাস গিয়ে ঘূ’র্ণিতে জড়ো হচ্ছে। এতে আকাশে হালকা মেঘের আস্তরণ তৈরি হয়েছে। আ’টকে থাকছে সূর্যের তাপ। স’ঙ্গে জলীয় বাষ্প গরমের অনুভূতি বাড়িয়ে দিয়েছে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন, আজকের মধ্যে ঘূ’র্ণিঝ’ড়ের কারণে বাতাস ও বৃষ্টি বেড়ে গরম কমে আসতে পারে।

আবাহওয়াবিদদের ধারণা, নি’ম্নচা’পটির বিদ্যমান রূপ ও প্রকৃতি বিবেচনায় উড়িষ্যার পারাদ্বীপ আর পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গাসাগরের মধ্যবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে ঘূ’র্ণিঝ’ড়।

তবে এটি কোথায় গিয়ে আঘা’ত হানতে পারে—তা নিয়ে এখনই সঠিক পূর্বাভাস দিতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা। ঘূ’র্ণিঝ’ড়ে রূপ নেওয়ার আগে এর গতিপ্রকৃতি বোঝা ক’ঠিন।

সাধারণত ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকের হিসাবে চলে ঘূ’র্ণিঝ’ড়। এতে শেষ পর্যন্ত এটি বাংলাদেশের দিকে যে সরে আসবে না—সেই নিশ্চিয়তাও দেওয়া যাচ্ছে না।

এছাড়া ঘূ’র্ণিঝ’ড়ের ডানদিকে বাতাসের দাপট বেশি। সেই হিসাবে ইয়াসে বাংলাদেশের উপকূল লন্ডভন্ড হওয়ার শ’ঙ্কাই প্রবল।

বুয়েটের পানি ও ব’ন্যা ব্যব’স্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, কোথায় আঘা’ত হানতে পারে, সেটা বলা সম্ভব না হলেও ধারণা করা যেতে পারে যে, চারটি কারণে ঘূ’র্ণিঝ’ড়টিও ‘সুপার সাইক্লোনে’ রূপ নেবে না।

প্রথমত, ঝ’ড়টির ঠিক পেছনেই অব’স্থান করছে দক্ষিণ-পশ্চিমা মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা মৌসুমের অগ্রগতি। এটির কারণে ল’ঘুচা’পটি সাগরের বেশি গ’ভীরে সৃষ্টি হতে পারেনি। মৌসুমি বায়ু ঠেলে এটিকে তূলনামূলক উপকূলের দিকে নিয়ে আসে।

ফলে মাত্র সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূ’রে নি’ম্নচা’পটি সৃষ্টি হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ঘূ’র্ণিঝ’ড়ের আগের স্তরগুলো যেমন ল’ঘুচা’প, সুস্পষ্ট ল’ঘুচা’প ও নি’ম্নচা’প খুব দ্রুত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এর প্রতিটি পর্যায় যে স্বা’ভাবিক শ’ক্তি সঞ্চয়ের ধারা আছে, সেটি পারেনি। এ ধ’রনের ঘূ’র্ণিঝ’ড়ের শ’ক্তি ও তীব্রতা তূলনামূলক কম থাকে। বিশেষ করে দানবীয় চেহারা নিতে পারে না।

তৃতীয়ত, বর্তমানে স্থলভাগে তূলনামূলক বেশি উ’ষ্ণ থাকলেও বঙ্গোপসাগর তিন মাস ধ’রেই (মা’র্চ-মে) শীতল। সাগরের আকাশে প্রচুর মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। এটিও ঊর্ধ্ব আকাশ থেকে শ’ক্তি সঞ্চয়ে বা বায়ু ঘূর্ণনে বা’ধা দেবে।

চতুর্থত, কয়েকদিন আগে ভারত মহাসাগরেরই অপর অংশ আরব সাগরে একটি ঘূ’র্ণিঝ’ড় বয়ে গেছে। পেছনে মৌসুমি বায়ু, সামনে স্থলভাগ, সাগরের তুলনামূলক শীতল প’রিস্থিতি ও আকাশের মেঘ আর পশ্চিমদিকে অপর ঘূ’র্ণিঝ’ড়ের প্র’ভাব অবশিষ্ট থাকায় বেশি শ’ক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ পাবে না ইয়াস।

বুধবার যখন পূর্ণিমা’র ভরাকটালে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ থাকবে, তখন অতি প্রবল শ’ক্তিশালী রূপ ধারণ করবে ইয়াস।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ইতোমধ্যে আজকেই খুলনায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সোমবার রাত থেকে উপকূলীয় অন্যান্য জে’লায় বৃষ্টি শুরু হতে পারে। সেই স’ঙ্গে থাকতে পারে ঝ’ড়ো হাওয়া।

মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে দুঃসং’বাদ হচ্ছে, ঘূ’র্ণিঝ’ড়ের কারণে মৌসুমের আগমন বিলম্বিত হতে পারে। ফলে ইয়াসের প্র’ভাব কে’টে যাওয়ার পর আরও কিছুদিন দাবদাহ থাকতে পারে। মধ্য জুন নাগাদ দেশে প্রবেশ ক’রতে পারে বর্ষা মৌসুমের দক্ষিণ-পশ্চিমা বায়ু। এটিকেই বলে মৌসুমের প্রতিষ্ঠা।

আবহাওয়া অফিস জা’নিয়েছে, নি’ম্নচা’পটি রোববার (২৩ মে) মধ্যরাতে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭০০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিমি দক্ষিণে ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে দক্ষিণে অব’স্থান করছিল।

এটি আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূ’র্ণিঝ’ড়ে প’রিণত হয়ে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। গ’ভীর নি’ম্নচা’প কে’ন্দ্রের ৪৮ কিমির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বো’চ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিমি, যা দ’মকা অথবা ঝ’ড়ো হাওয়ার আ’কারে ৬০ কিমি বৃ’দ্ধি পাচ্ছে। গ’ভীর নি’ম্নচা’প কে’ন্দ্রের কাছের সাগর খুব উত্তাল।

উত্তর বঙ্গোসাগর ও গ’ভীর সাগের অব’স্থানরত সব মাছ ধ’রার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নি’র্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নি’রাপদ আশ্রয়ে থেকে সা’বধানে চলাচল ক’রতে বলা হয়েছে। সেইস’ঙ্গে তাদের গ’ভীর সাগরে বিচরণ না ক’রতে বলা হয়েছে।