প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা: জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

বাংলাদেশে এক সপ্তাহের ব্যবধানে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা ও রোগীশনাক্ত বেড়েছে।  স্বাস্থ্য অধিদফতর সপ্তাহ ভিত্তিক বিশ্লেষণে এ তথ্য জানিয়েছে। অধিদফতর জানায়, গত  সপ্তাহে ( ২৩ মে থেকে ২৯ মে)  নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১০ লাখ ৯ হাজার ৬৫১টি। আর আগের সপ্তাহে  সপ্তাহে ( ১৬ মে থেকে ২২ মে) পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১০ লাখ ৩ হাজার ১২১টি।

অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে  নমুনা পরীক্ষার হার বেড়েছে ছয় দশমিক ৩৩ শতাংশ। তবে নমুনা পরীক্ষা ও রোগী শনাক্তের হার বাড়লে গত সপ্তাহে সুস্থতার হার ওমৃত্যুহার কমেছে। গত সপ্তাহে মৃত্যুহার কমেছে ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ। ইতোমধ্যে সীমান্তবর্তীী জেলাগুলিতে ভারতীয় ধরণের সংক্রমণে বৃদ্ধিতে উদ্বেগ বেড়েছে জনমনে। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম স্বীকার করেছেন, সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় ভেরিয়েন্ট এখন সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। সংক্রমণ ঠেকাতে গত সপ্তাহে  চাঁপাইনবাবগঞ্জে জারি করা হয়েছে বিশেষ বিধিনিষেধ। এ রকম বিধিনিষেধ অন্য সীমান্তেও কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শরফুদ্দিন আহমেদ।

চাঁপাই থেকে সিলেটে করোনা

এদিকে পশ্চিম সীমান্তের চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে ফেরত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৩৪ জনের মধ্যে ১৩ জনের শরীরে করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। তাদের শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে কিনা জানতে আইডিসিআর-এ নমুনা পাঠানো হয়েছে। এমন খবরে প্রবাসী ও পর্যটন অধ্যুষিত এ জেলার বাসিন্দারা নতুন করে উৎকণ্ঠায় পড়েছেন। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়- শ্রীমঙ্গল শহরের সিন্দুরখান সড়কসহ আশেপাশের ৩৪ জন ঈদ পালন উপলক্ষ্যে  চাঁপাই নবাবগঞ্জ যান।

এরমধ্যে ১২ জন শ্রীমঙ্গল শহরের সিন্দুর খান সড়কের একটি বাসায় বসবাস করেন।তারা ভ্রাম্যমাণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ঈদ শেষে ২৬শে মে শ্রীমঙ্গলে ফিরে আসলে স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের প্রত্যেকের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে পাঠায়। ২৮শে মে রাতে আসা রিপোর্টে ১৩ জনের শরীরে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। সর্বশেষ নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী মৌলভিবাজার জেলায় ২০ ভাগ করোনা পজেটিভ মিলেছে।

বিপদ আখাউড়াতে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে ফেরা আরও একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর করোনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে। এ নিয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আসা মোট ২৬ জন ভারত ফেরত বাংলাদেশি করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের দ্বিতীয় বারের নমুনা পরীক্ষার ফল ইতিমধ্যে নেগেটিভ এসেছে। স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশে আটকে পড়া যাত্রীরা উভয় দেশে নিযুক্ত হাইকমিশনারের অনুমতি এবং দুই দেশের সরকারের কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করে যাতায়াত করছেন।

আতঙ্ক সাতক্ষীরাতে

ওদিকে, হঠাৎ করেই সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যাবৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮৬ জনের করোনা পরীক্ষা শেষে ৩৭ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। এ ছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে শনিবার সকাল ৮টার দিকে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ব্যক্তিরমৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে গতকাল পর্যন্ত জেলায় মারা গেছেন ৪৬ জন। আর মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫২৩ জন। বর্তমানে জেলায় চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৬৬জন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভারত থেকে প্রতিদিন মালবাহী ট্রাক নিয়ে ট্রাকচালকও হেলপার ভোমরা বন্দরে প্রবেশ করছেন। তাদের কোনো করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছেনা। অথচ তারা সীমান্ত এলাকায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এর ফলে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষেরমধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মোংলায় বিধিনিষেধ জারি

করোনা সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় বাগেরহাটের মোংলা পোর্ট পৌরসভা এলাকায় বিশেষ বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে মোংলা উপজেলা প্রশাসন। আজ রোববার সকাল থেকেএ পৌরসভা এলাকায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। প্রাথমিকভাবে ৮ দিনের জন্য ৭দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার মোংলায় নতুন করে ৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আগের ১০ দিনেউপজেলায় সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৪৯ জনের। বন্দরনগরী হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা কাজে এখানে লোকজন আসে। ফলে সংক্রমণের হার বাড়ছে বলে মনে করছেন মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জীবিতেশ বিশ্বাস।

বাড়ছে লকডাউনের মেয়াদ

করোনা সংক্রমণ রোধে  আগের শর্তাবলির সঙ্গে কিছু নতুন শর্ত যুক্ত করে চলমান ‘লকডাউন’ বা বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। নতুন শর্তে সীমান্তবর্তী জেলার মানুষের চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরামর্শ এসেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা শনিবার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, সীমান্তবর্তী জেলায় করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে।এজন্য সীমান্তবর্তী জেলার মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে প্রজ্ঞাপনজারি করা হতে পারে।

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/ বাবুল আখতার /৩০

bangla news।