প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার!

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্ত্রী বাদি হয়ে থানায় মামলা করার পর ওই বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে ওই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে দুপুর দুইটার দিকে মামলা করেন ওই কিশোরীর মা।

বিষয়টি সময়ের কন্ঠস্বরকে নিশ্চিত করেছেন মুক্তাগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) চাঁদ মিয়া। মামলার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, গত বছরের ১০ আগস্ট ওই কিশোরীর মা তার দুই মেয়েকে স্বামীর বাড়িতে রেখে তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। এ সুযোগে ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে গৃহবধূর স্বামী ১৩ বছরের মেয়ের কক্ষে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। মেয়ে লজ্জায় ও ভয় পেয়ে ঘটনাটি পরিবারের সবার কাছে গোপন রাখে।

এরপর চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে গৃহবধূ আবারও তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। ওইদিন রাত সাড়ে আটটার দিকে দুই মেয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘরের পশ্চিম পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। তখন পূর্ব পাশের কক্ষে শুয়ে থাকা বাবা তার ওই কিশোরীর কক্ষে প্রবেশ করে শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়।

এতে মেয়েটি সজাগ হয়ে ডাকচিৎকার করলে কক্ষ থেকে দ্রুত পালিয়ে যায় বাবা। এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর কিশোরীর মা তার বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসলে মেয়েটি তার মা’কে জড়িয়ে ধরে কান্না করে। মা জিজ্ঞাস করলে ঘটনাটি খুলে বলে। পরে ওই কিশোরীর স্বজনদের সাথে পরামর্শ করে মামলাটি করেন মা।

সময়ের কন্ঠস্বরের সাথে কথা হয় ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মামার সাথে। তিনি বলেন, আমার বোন বর্তমানে চার মেয়ের জননী। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার মেয়েটি সবার বড়। সে একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।

কিশোরীর মামা আরও বলেন, আমার বোনের দুইটি মেয়ে জন্ম হওয়ার পর বোনকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে গত পাঁচ বছর আগে আরেকটি বিয়ে করেন স্বামী। এরপর ওই স্ত্রীর সাথেও বনিবনা না হওয়ায় তাকেও তাড়িয়ে দিয়ে আমার বোনকে আবারও বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন৷ এরপর আরও দুইটি মেয়ে জন্ম নেয়। পাষণ্ড এই বাবার উপযুক্ত শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, মামলা দায়েরের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে ওই পাষণ্ড বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তাকে ময়মনসিংহ মূখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠানো হবে।