প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

ধেয়ে আসছে আইলার চেয়েও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’

2
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

ভা’রতের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ ওমানের। এর নাম আরবি ভাষায় যার অর্থ হতাশা। আবহাওয়াবিদদের আশ’ঙ্কা, ধারে ভা’রে আম্পান কিংবা আয়লার চেয়েও শক্তিশালী হতে পারে ইয়াস।

গতবছর ২০ মে, দক্ষিণবঙ্গের বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে বয়ে গিয়েছিল আম্পান। বছর ঘুরে আবারও একটা ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রুকুটি। এবার আসছে ইয়াস। ইয়াস নামটি দিয়েছে ওমান। আরবিতে ইয়াস কথার অর্থ ডেসপেয়ার বা হতাশা। কঠিন করো’না আবহে চারপাশে যখন আতঙ্ক, লকডাউনের ধাক্কায় হতাশা গ্রাস করছে মানুষকে, ঠিক তখনই প্রাকৃতিক দু’র্যোগ ঘনিয়ে আসছে বাংলার আকাশে।

আবহাওয়াবিদ সুজীব কর আশ’ঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ঝড়টা পাস করতে অনেক বেশি সময় নেবে, আম্পানের চেয়েও ভ’য়ানক হবে। ২০০৯ সালে আয়লার সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড় আম্পান বয়ে গিয়েছিল ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটারের গতিতে। কতটা দাপট দেখাবে ইয়াস? এটাই এখন সবার আশ’ঙ্কা। আবহাওয়াবিদ রামকৃষ্ণ দত্ত বলেন, আইলা যেমন ক্ষতি করেছিল, তার চেয়ে বেশি উইন্ডস্পিড থাকবে, যত বেশি জলে থাকবে তত বেশি সঞ্চয় করবে, আইলার চেয়ে বেশি প্রভাব থাকবে। এটা যেহেতু পূর্ণিমা’র সময় হচ্ছে, জলোচ্ছ্বাস আরও ২ মিটার বেশি হবে।

মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন ও ইউনাইডেট নেশনস ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়ার সদস্য দেশগুলো ঝড়ের নামকরণ করে। এই তালিকায় বাংলাদেশ, ভা’রত, মায়ানমা’র, পা’কিস্তান, মালদ্বীপ, ওমান, শ্রীলঙ্কা, তাইল্যান্ড, ই’রান, কাতার, সৌদি আরব, সংযু’ক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইয়েমেন। এই ১৩টি দেশ মিলে এখনও অবধি ১৩টি করে ঝড়ের নাম দিয়েছে। সবমিলিয়ে সংখ্যাটা ১৬৯। ওমান যেমন ইয়াসের নাম রেখেছে, তেমনই এর পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম রেখেছে পা’কিস্তান। যার নাম গুলাব। তারপর আছে কাতার। তাদের দেওয়া সাইক্লোনের নাম শাহিন। এভাবেই ক্রমান্বয়ে সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযু’ক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইয়েমেনের দেওয়া ঝড়ের নামই ব্যবহার করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে মায়ানমা’রে ছোবল মে’রেছিল ঘূর্ণিঝড় নার্গিস। প্রা’ণ গিয়েছিল প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার মানুষের। ২০০৭-এ বাংলাদেশে আছড়ে পড়ে সাইক্লোন সিডার। যাতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃ’ত্যু হয়। ২০০৪-এর সুনামিতে ভা’রত, তাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার মানুষের মৃ’ত্যু হয়। ১৯৯১-এ বাংলাদেশ সাইক্লোন এক লক্ষের বেশি মানুষের প্রা’ণ কেড়েছিল। ১৯৭৭-এ অন্ধ্রপ্রদেশ সাইক্লোনে প্রা’ণ হারিয়েছিলেন প্রায় এক লাখ মানুষ। ১৯৭৫-এ চিনে ঝাপটা মা’রে টাইফুন নিনা। তাতে মৃ’ত্যু হয় ২ লাখ ২৯ হাজার মানুষের। ১৯৭০ সালে ভা’রত ও পূর্ব পা’কিস্তানে ছোবল মে’রেছিল ঘূর্ণিঝড় ভোলা। তাতে মৃ’ত্যু হয়েছিল প্রায় ৫ লাখ মানুষের।