প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

‘দিল্লিতে আমার বোন অক্সিজেনের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে’

6
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

ভা’রতের দিল্লিতে অক্সিজেন সংকটে রয়েছেন অ’ভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার বড় বোন ব’ন্যা। বুধবার মধ্যরাতে ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে এমনটাই জানিয়েছেন এই অ’ভিনেত্রী। তবে তার বড় বোন করো’নায় আ’ক্রান্ত নাকি অন্য কোনো অ’সুস্থতায় ভুগছেন সে স’ম্পর্কে কিছু জানাননি ফারিয়া। শবনম ফারিয়া তার পোস্টে লিখেন, আমা’র বড় বোন আমা’র ১৬ বছর আর মেজো বোন প্রায় ১২ বছরের বড়!

আমা’র সারাজীবন ক’ষ্ট ছিল, অন্যদের বোনদের সাথে যেমন ব’ন্ডিং থাকে আমা’র নাই! ইনফ্যাক্ট আমা’র বড় দুইবোনের নিজেদের মধ্যে যেই ব’ন্ডিং সেটা আমা’র সাথে নাই! আমা’র বয়স যখন সাড়ে তিন বড় আপুর বিয়ে হয়ে গেছে, ৫ বছর বয়সে ছোট আপু পড়াশুনার জন্য বাসার বাইরে, তারপরতো বিয়েই হয়ে গেল আপুর! আমি সেভাবে কখনো আমা’র বোনদের সাথে থাকি নাই। বরং আমা’র ভাগ্না-ভাগ্নি আমা’র বন্ধু!

বয়সে যুগের পার্থক্য থাকায় আমা’র সাথে ওদের একটা জেনারেশন গ্যাপ সব সময়ই প্রকট! তার উপর তাদের সব সময় মনে হতো ‘ভাল ফ্যামিলির মেয়েরা মিডিয়াতে কাজ করে না’, এইটা নিয়ে আমা’র দুঃখের সীমা-পরিসীমা নাই! কখনো উৎসাহ দূরের কথা, পারলে দুই-চারটা কথা শোনানোর সুযোগ পেলে মিস করে না! ক’ষ্টের উপর ডাবল ক’ষ্ট!
কিন্তু পরশু আমা’র বড় আপু যখন বললো, ‘তৃপ্তি আমা’র খুব ক’ষ্ট হচ্ছে’ আমি জানি ফোনটা রেখে আমি কতক্ষণ হাউ-মাউ করে কাঁদছি! আমা’র মেজোবোন কল করে কাঁদতে কাঁদতে যখন বললো- ‘তৃপ্তি আমা’র বুকটা ফেটে যাচ্ছে, আমি এতো মানুষকে খাওয়াই, আমা’র বোন বিদেশে শুয়ে খাওয়ার ক’ষ্ট পাচ্ছে’ কি বলে আমা’র বোনকে সান্তনা দিবো!

আমা’র বাবা ডাক্তার ছিলো। সবার সব অ’সুস্থতায় বাবার কাছে আসতো! আজকে দিল্লিতে আমা’র বোন অক্সিজেন এর অভাবে ক’ষ্ট পাচ্ছে! আম’রা হেল্পলেস, কিছু করার নাই।

আম’রা পরশু পর্যন্ত মা’র কাছ থেকে পুরা বিষয়টা গো’পন করে রেখেছি। কালকে মেজোবোন বললো, ‘তৃপ্তি আম্মু দোয়া করলে যদি ব’ন্যা ভাল হয়ে যায়, চল আম’রা আম্মুকে জানাই। গত দুইদিন আমা’র মা’র মুখের দিকে তাকানো যায় না। তার বড় মে’য়ে, ১৮ বছর বয়সে তার মে’য়ে হইসে।
যখন সে নিজেই বাচ্চা…। সেই মে’য়ের এই অবস্থা তো তার সহ্য হয় না। তাও এতো দূরে এখন!

আম’রা আসলে কাছের মানুষদের উপরই বেশি অ’ভিমান করি, ক’ষ্ট পাই, রাগ করি। আর সম্ভবত সেজন্যেই তারা কাছের মানুষ! দূরের মানুষের সাথে আর কিসের রাগ! কিন্তু কিছু ঘটনা আসে, তখন বুঝতে পারি আমাদের জীবনে তারা কত স্পেশাল, তাদের আম’রা কত ভালবাসি, তারা কত কিছু করে আমাদের জন্য…।

সবার কাছে একটা অনুরোধ, আপনার দোয়ার সময় আমা’র বড় আপুর কথা একটু স্ম’রণ করবেন। ঢাকায় বসে আসলে দোয়া করা বা দোয়া চাওয়া ছাড়া আমাদের কিছু করার নাই।