প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

জাঁকজমক ভাবে ঐতিহাসিক ইস্তাম্বুল বিজয়ের ৫৬৮তম বার্ষিকী উদযাপন করলো তুরস্ক

1
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে ঐ’তি’হা’সি’ক ইস্তাম্বুল বিজয়ের ৫৬৮তম বা’র্ষি’কী উদযাপন করলো তুরস্ক। পৃথিবীর ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেওয়া এই বি’জ’য় উদযাপন ক’র’ণা’র্থে দেশটির সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের

সহযোগিতায় যোগাযোগ অ’ধি’দ’প্ত’র বিভাগ ইস্তাম্বুল ম’হা’ন’গ’রী’তে একটি ভিজ্যুয়াল ফেস্টের আয়োজন করে। আয়াসোফিয়া জামে ম’স’জি’দে পবিত্র কুরআনের ৪৮তম সুরা, সু’রা’তু’ল ফাতহ তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে শুরু হয়

সেই ভিজ্যুয়াল ফেস্ট। ফেস্টে লো’ক’জ’ন প্রথমবারের মতো ঐ’তি’হা’সি’ক গালাটা টাওয়ার ও আয়াসোফিয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ ভার্চুয়াল স্কাই ম্যা’পিং শো এর সাক্ষী হয়। স্কাই ম্যাপিং শোতে প্র’থ’মে’ই আয়াসোফিয়া জামে মসজিদের

আ’কা’শে পবিত্র কুরআনের إنا فتحنا لك فتحا مبينا এই আয়াতটি অর্থাৎ যে আয়াতের মা’ধ্য’মে মহান আল্লাহ পাক তার প্রিয় রা’সূ’ল’কে বিজয়ের সুসংবাদ দিয়েছিলেন তা প্রদর্শিত হয় এবং তুর্কী ভা’ষা’য় তার অর্থও তুলে ধরা হয়।

প’র’ব’র্তী’তে স্কাই ম্যাপিংয়ে একটি তেজস্বী ঘোড়ার পিঠে চড়ে থাকা ২১ বছরের দুঃসাহসী মু’স’লি’ম সেনাপতি ও শাসক ফাতিহ সু’ল’তা’ন মুহাম্মাদ খান বা সুলতান মুহাম্মাদ আল ফা’তি’হে’র অবয়ব তুলে ধরা হয়। যেখানে দেখা যায়

অজেয় কনস্টান্টিনোপলের দম্ভ চূর্ণ করা সু’ল’তা’ন মুহাম্মাদ আল ফা’তি’হে’র তেজস্বী ঘোড়াটি বিজয়ী হয়েও থেমে থাকতে চাইছে না বরং হ্রেষা ধ্বনিতে সা’ম’নে’র দুই পা তুলে আরো বি’জ’য় অর্জনের জন্য এগিয়ে যেতে ব্যাকুল

হয়ে আছে। এর আগে তুর্কী যো’গা’যো’গ অধিদপ্তরের প’রি’চা’ল’ক ফখরুদ্দীন আলতুন তার এক টুইট বার্তায় ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ই’স্তা’ম্বু’ল তার বিশেষ ছুটির দি’ন’টি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করতে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৪৫৩ সালের ৬ এ’প্রি’ল থেকে ২৯ মে পর্যন্ত তৎকালীন আ’ধু’নি’ক রোম বা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের দুর্জেয় নগরী কনস্টান্টিনোপল উ’স’মা’নী খলিফা সুলতান মুহাম্মাদ আল ফা’তি’হ কর্তৃক অবরোধের শিকার হয়। মূলত

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’হা’বী’স’হ সকল মুসলিমের জন্য ভ’বি’ষ্য’ত বাণীতে কনস্টান্টিনোপল বা কু’স্তু’ন’তু’নি’য়া বিজয়ের সুসংবাদ, বিজয়ে নেতৃত্বদানকারী সেনাপতি ও তার দলের সৌ’ভা’গ্য বা উত্তমতার কথা বলার পর থে’কে’ই যুগে যুগে মুসলিমরা অবরোধের মাধ্যমে তা বিজয়ের চেষ্টা চালিয়ে আ’স’ছি’লো, যাতে তারাই ভবিষ্যত বাণীর সেই উ’ত্ত’ম কিংবা সৌভাগ্যবান নেতা বা তার দলের সদস্য হতে পারেন। কিন্তু ক’ন’স্টা’ন্টি’নো’প’ল জয় করা

ছিলো এ’ক’প্র’কা’র দুঃসাধ্য। এর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই তা ছিলো বাইজেন্টাইন কিংবা আ’ধু’নি’ক রোম সাম্রাজ্যের এ’ক’মা’ত্র অজেয় নগরী। শহরটির ভৌগোলিক অবস্থান ত্রিভুজাকৃতির। তার উত্তরে র’য়ে’ছে গোল্ডেন হর্ন, পূর্বে ব’স’ফ’রা’স প্রণালী ও দক্ষিণে মার্মার সাগর। এছাড়াও তিনদিক থেকে জ’লা’ব’দ্ধ থাকায় শহরটি প্রাকৃতিকভাবেই ছিল সু’র’ক্ষি’ত। এটি কেবল যে প্রা’কৃ’তি’ক’ভা’বে সুরক্ষিত ছিল তা নয়, তার চারদিকে

ছিল ৪০ ফুট উঁচু ও ৬০ ফুট পু’রু’ত্বে’র এক দুর্ভেদ্য ও অ’প্র’তি’রো’ধ্য দেয়াল। দেয়ালে ৫০ মিটার অন্তর অন্তর একটি করে ওয়াচ টাওয়ার ছিল, যে’খা’নে থেকে সহজেই শত্রু সে’না’দে’র উপর গোলাবর্ষণ করা যেত এবং গরম পানি কিংবা তেল ঢেলে দে’ও’য়া হতো। কন্সটান্টিনোপল র’ক্ষা’য় গ্রিক ফায়ার নামে একটি অস্ত্রও বিশেষ ভূমিকা রাখত। এ অস্ত্র এতটাই ভ’য়ং’ক’র ছিল যে এর আগুন পানি দিয়ে নে’ভা’নো’ও ছিল প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া

যে’কো’নো ধরনের নৌ-আক্রমণ ঠেকানোর জন্য বসফরাস থেকে গোল্ডেন হর্নের জ’ল’প’থে ছিল এক বিশালাকার শি’ক’ল বা চেইন। ফলে কোনো জাহাজ গোল্ডেন হর্ন অতিক্রম করতে চা’ই’লে’ই চেইন টেনে সহজেই জাহাজের তলা ফা’টি’য়ে দেওয়া হতো। এতে করে শহরের পেছন দিক দিয়ে আক্রমণ করা ছিল এ’কে’বা’রে’ই অসম্ভব। তরুণ সুলতান ফা’তি’হ অজেয় কনস্টান্টিনোপলের দম্ভ চূর্ণ করতে নিয়েছিলেন এক অভূতপূর্ব সমর কৌ’শ’ল। স্থলপথে প্রাচীর গুড়িয়ে দিতে হা’ঙ্গে’রি’য় ইঞ্জিনিয়ার আর্বানের সকল চাহিদা পূর্ণ করে তিনি বানিয়েছিলেন ত’ৎ’কা’লী’ন সর্বশ্রেষ্ঠ

বিশালাকৃতির ব্যা’সি’লি’কা কামান। বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের প্রধান বাণিজ্যপথ বসফরাস প্রণালি নি’জে’দে’র নিয়ন্ত্রণে আনতে সু’ল’তা’ন বায়েজিদ কর্তৃক এশিয়া অংশে নির্মিত দুর্গের বিপরীতে ইউরোপ অংশে অ’বি’শ্বা’স্য কম সময়ে করেছিলেন আ’রে’ক’টি দূর্গের নির্মাণ। বাকি থাকলো শুধু গো’ল্ডে’ন হর্নের বিশালাকৃতির শিকলের ফাঁদ ও পোপের পাঠানো ভেনিসীয় নৌবহরের মো’কা’বি’লা। ভেনিসীয় নৌ-বা’হি’নী’র মোকাবিলা করে উত্তর দিক দিয়ে

কনস্টান্টিনোপল প্রবেশ ক’র’তে হলে মুসলিম নৌবাহিনীকে পে’রু’তে হতো গোল্ডের হর্নের পানির নিচে ঝুলিয়ে লুকিয়ে রাখা শিকলের বাধা। সৌভাগ্যবান বা’হি’নী নিয়ে উত্তম বিজয় অ’র্জ’ন করতে যাওয়া সৌভাগ্যবান নেতা সুলতান ফাতিহ তখন এমন উত্তম প’রি’ক’ল্প’না গ্রহণ করলেন যাকে এ’খ’নো পৃথিবীর সেরা সমর কৌশল হিসেবে বিবেচনা

করা হয়। শিকল বাধা পেরুতে আ’গে’র তুলনায় ছোট যুদ্ধ জা’হা’জ তৈরি করে সেনাদের অবর্ণনীয় ত্যাগের বিনিময়ে সুলতান ফাতিহ রাতের আ’ধাঁ’রে’ই পাহাড়ের উপর দিয়ে গো’ল্ডে’ন হর্নের বাধা ডিঙাতে সক্ষম হোন। সকালে পোপের নৌবাহিনী যখন পেরুনো সু’ল’তা’নে’র নৌবাহিনীকে দেখে, তখন তারা দৈত্য দে’খা’র ন্যায় হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে এবং আ’ত’ঙ্কে জোরে জোরে চিৎকার করতে থাকে। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা, অ’ক’ল্প’নী’য় কৌশল ও আল্লাহর অশেষ

র’হ’ম’তে ১৪৫৩ সালের ২৯ মে শেষমেশ কনস্টান্টিনোপল বিজয় করতে সক্ষম হ’য়ে’ছি’লে’ন সুলতান মুহাম্মাদ । রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মু’স’লি’ম’দে’র কনস্টান্টিনোপল বা কু’স্তু’ন’তু’নি’য়া বিজয়ের ভবিষ্যতবাণী সু’ল’তা’ন মুহাম্মাদের নেতৃত্বে হওয়ায় তাকে ফাতিহ উপাধি দেওয়া হয়। একারণেই তুর্কীরা তাকে ফা’তি’হ সুলতান মে’হ’মে’ত হান এবং অন্যন্যরা সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ নামে স্মরণ করে থাকে। তা’ছা’ড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভ’বি’ষ্য’ত’বা’ণী’র কুস্তুনতুনিয়া বিজয় এখন ই’স্তা’ম্বু’ল বিজয় নামে লোকমুখে অধিক প্রচলিত।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর