প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

চীনের ভ্যাকসিন জোটে বাংলাদেশ

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

চীনের নেতৃত্বে এই অঞ্চলের ছয়টি দেশের মধ্যে ‘ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিন স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি ফর কোভিড ফর সাউথ এশিয়া’ জোটে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ। এই জোটে যোগ দিতে ভারতকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে টিকা নিয়ে চীনের উদ্যোগে ছয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন যোগ দেন। এ ছাড়া চীন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও যোগ দেন। বৈঠকের পর ড. মোমেনের বাসভবনে সাংবাদিকদের অবহিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিব।

বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন জানান, আগামী দুই সপ্তাহের আগে কোনো দেশ থেকে টিকা আসছে না। চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনার উদ্যোগ চলছে। তবে প্রক্রিয়া শেষে টিকা আসতে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। আমরা কয়েকটি ডকুমেন্ট চেয়েছি। দুই সপ্তাহের আগে কিছু পাওয়া যাবে না। চীন, রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্র সব জায়গায় একই অবস্থা। এখানে কিছু কাগজপত্র ঠিক করতে হবে এবং জাহাজিকরণের ফলে দুই সপ্তাহের আগে কিছু হবে না। এটা রিজনেবল টাইম। যুক্তরাষ্ট্রে কিছু বাড়তি টিকা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেখান থেকে আমরা পাওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা যেখান থেকে পাব সেখান থেকেই আনব।

সেরাম থেকে টিকা পাওয়া প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ভারতকে বলেছি পুরোটা না হলেও অবিলম্বে যে ৩০ লাখের চাহিদা আছে সেটি পূরণ করো। কিন্তু এখনো কিছু উত্তর পাওয়া যায়নি। রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবকিছু এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করবে। আমরা যোগাযোগ করে দিয়েছি এবং এখন টিকা কবে আসবে, কীভাবে আসবে, দাম কত হবে সবকিছু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঠিক করবে। প্রধানমন্ত্রী যেকোনো দেশ থেকে টিকা আমদানির অনুমোদন দিয়ে রেখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সরকারিভাবে ক্রয় করা হবে।

চীনের উদ্যোগে আয়োজিত কোভিড-১৯ মোকাবিলাবিষয়ক বৈঠকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সমন্বয়ে কোভিড ইমার্জেন্সি মেডিকেল ফ্যাসিলিটি গঠন হবে। যাদের প্রয়োজন হবে এখান থেকে মেডিকেল সাপোর্ট নেবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বৈঠকে জানিয়েছে আমাদের জরুরি ভিত্তিতে টিকা লাগবে। ভ্যাকসিন সহায়তা নিয়ে কাজ করবে চীন এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জোটের কোনো দেশের যখন টিকা প্রয়োজন হবে তখন তারা এই সুবিধা থেকে সাহায্য নেবেন। তা ছাড়া তারা তিনটি সুবিধা দেবে। একটি হচ্ছে পোস্ট কোভিড প্রোভার্টি অভিযোগ। দ্বিতীয়ত, করোনার কারণে দেশে দেশে যে দারিদ্র্য বাড়ছে তারা সেটা জানতে চায়। আর দারিদ্র যেন না বাড়ে সে বিষয়ে কাজ করতে চায়। তৃতীয়ত, করোনার কারণে সরাসরি বিক্রি করতে না পারার কারণে তারা ই-কমার্স চালু করতে চায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে এক দেশ আরেক দেশকে সাহায্য ও সহযোগিতা করবে এটার ওপর এই ছয়টি দেশ জোর দিয়েছে। বাংলাদেশের মঙ্গলের জন্য যা যা করা দরকার সব করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।