প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

ঘণ্টায় ১৬৫ কিলোমিটার বেগে আঘা’ত হানবে ঘূ’র্ণিঝড় ‘ইয়াস’!

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূ’র্ণিঝ’ড় ‘ইয়াস’ এগিয়ে আ’সছে উপকূলের দিকে। আগামী ২৬ মে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার উপকূলীয় এলাকায় আছড়ে পড়বে ইয়াস। শনিবার (২২ মে) ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর (আইএমডি) থেকে এই তথ্য জা’নানো হয়েছে। আইএমডি ক’র্মকর্তারা জা’নিয়েছেন, উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় এই ঝ’ড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার। স’ঙ্গে থাকবে ভারী বৃষ্টিপাত।

তারা আরও বলেন, শনিবার সকালেই পূর্ব মধ্যে বঙ্গোপসাগরের উপরে একটি নি’ম্নচা’প তৈরি হয়েছে। আগামীকালের মধ্যেই তা গ’ভীর নি’ম্নচা’পে প’রিণত হবে। এর পর উত্তর এবং উত্তর পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে সেটি ২৪ তারিখ ঘূ’র্ণিঝড়ে প’রিণত হবে।

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অতি শ’ক্তিশালী ঘূ’র্ণিঝড়ে প’রিণত হবে। তার পর আরও উত্তর এবং উত্তর পশ্চিম দিকে সরে ধীরে ধীরে শ’ক্তি বাড়িয়ে ২৬ মে সকালে পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের কাছে পৌঁছাবে ইয়াস।

তবে ওই দিন বিকেলেই পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর ওড়িশা ও বাংলাদেশ উপুকূল পেরিয়ে যাবে এই অতি শ’ক্তিশালী ঘূ’র্ণিঝড়। আবহবিদরা জা’নিয়েছেন, ক্রমশ ওড়িশা উপকূল থেকে এই ঘূ’র্ণিঝড়ের মুখ সরে যাচ্ছে। ফলে, পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিঘা থেকে সুন্দরবনের মধ্যেই তা আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি।

শনিবার ভারতের কে’ন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যব’স্থাপণা কমিটি ঝ’ড়ের আগমণের প্রেক্ষিতে কী কী পদক্ষে’প নেওয়া হবে সে স’ম্পর্কে সি’দ্ধান্ত গ্রহণে একটি বৈঠক ডেকেছিল। বৈঠকে ঝ’ড়ের ক্ষয়ক্ষ’তি কমাতে কিছু পদক্ষে’প গ্রহণের সি’দ্ধান্ত হয়েছে। সেগুলো হলো—

ঝ’ড়ের পর পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় উ’দ্ধারকাজ চালানোর জন্য সামরিক, আধাসামরিক ও আ’ইনশৃ’ঙ্খলা বা’হিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে মোট ৮৫ টি উ’দ্ধারকারী দল গঠন করা হবে। এছাড়া স্থা’নীয় ক’র্তৃপক্ষদের উপদ্রুতদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য, খাবার পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মজুত রাখার নি’র্দেশ দিয়েছে ভারতের জাতীয় দুর্যোগ ব্যব’স্থাপনা কমিটি।

পাশাপাশি এই দুর্যোগে যেন কোনওভাবেই অক্সিজেন সাপ্লাই ব’ন্ধ না হয়, সে বিষয়েও জো’র দেওয়া হয়েছে। ক’রোনা রো’গীরা যেন বি’পদে না প’ড়েন সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। ক’রোনায় আক্রা’ন্তরা ভর্তি আছেন এমন হাসপাতাল ছাড়াও জ’রুরি ভিত্তিক চিকিৎ’সা ব্যব’স্থা তৈরি রাখতে বলা হয়েছে।

ইতোমধ্যে বঙ্গোপসাগর থেকে মৎসজীবীদের সরিয়ে আনা প্রায় শেষ করে এনেছে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা ক’র্তৃপক্ষ। ঝ’ড় আসার আগে উপকূলবর্তী মানুষদেরও নি’রাপদ জায়গায় বা আশ্রয়কে’ন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার নি’র্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবারের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, তামি’লনাড়ু, অন্ধ্র, আন্দামান নিকোবর ও পদুচেরির দায়িত্বপ্রাপ্ত ক’র্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঘুর্ণিঝ’ড়ের সময় বিদ্যুৎ ও টেলিকম ব্যব’স্থা ভে’ঙে পড়তে পারে। তাই আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যব’স্থা নিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। রেল ব’ন্ধ রাখতে বলা হয়েছে ওই সময়।

উল্লেখ্য, গত বছর আঘা’ত হানে ঘূ’র্ণিঝ’ড় আম্পান। এ ঝ’ড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ থেকে ২০০ কিলোমিটার।