প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

গর্ভে ‘অন্যের সন্তান’: চিত্রনায়িকা নুসরাতকে নিয়ে যা বললেন তসলিমা নাসরিন

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

নুসরাতের খবর বেশ চোখে পড়ছে। তিনি প্রেগনেন্ট। তাঁর স্বামী নিখিল এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। দুজন আলাদা থাকছেন ছ’মাস হলো। তবে যশ নামে এক অ’ভিনেতার সঙ্গে অ’ভিনেত্রী নুসরাত প্রে’ম করছেন।

সন্তানের পিতা, মানুষ অনুমান করছে, যশ; নিখিল নয়। খবরটি খবর না গুজব জানিনা। তবে এই যদি পরিস্থিতি হয়, তবে নিখিল আর নুসরাতের ডিভোর্স হয়ে যাওয়াই কি ভালো নয়? অচল কোনও স’ম্পর্ক বাদুড়ের মতো ঝুলিয়ে রাখার কোনও মানে হয় না। এতে দু’পক্ষেরই অস্বস্তি।

যখন নুসরাত আর নিখিল বিয়ে করলেন, বেশ আনন্দ পেয়েছিলাম। অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বা’স করি বলে দুই ধ’র্মের মানুষের মধ্যে বিয়ে হলে খুব স্বাভাবিক কারণেই পুলকিত হই। জাত ধ’র্ম ইত্যাদি দূর করতে হলে ভিন্ন জাত আর ভিন্ন ধ’র্মের মানুষকে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। এতেই হিংসে আর হানাহানিকে হটানো যাবে। কিন্তু এত চোখ জুড়োনো জুটি যে বেশিদিন সুখে থাকবে না কে জানতো! নুসরাত আর নিখিলের মতো সৃজিত আর মিথিলার বন্ধনও আমাকে প্রভূত আনন্দ দিয়েছে।

সেদিন ব্রাত্যর একটি ছবিতে নুসরাতকে দেখলাম। ওটিই নুসরাতের প্রথম কোনও ছবি আমা’র দেখা। মে’য়েটি অনেকটা অ্যানজে’লিনা জোলির মতো দেখতে, অ’ভিনয়ও করে বেশ চ’মৎকার। নিশ্চয়ই মে’য়েটি স্বনির্ভর। আসলে স্বনির্ভর এবং সচেতন হলে, আত্মবিশ্বা’স এবং আত্মসম্মান যথেষ্ট থাকলে নিজের সন্তানের অ’ভিভাবক নিজেই হওয়া যায়। নিজের সন্তানকে নিজের পরিচয়েই বড় করা যায়। পুরুষের মুখাপেক্ষী হতে হয় না।

আসলে নিখিল এবং যশের মধ্যে কী’ এমন আর পার্থক্য! পুরুষ তো শেষ পর্যন্ত পুরুষই। এক জনকে ত্যাগ করে আরেক জনকে বিয়ে করলে খুব যে সুখময় হয়ে ওঠে জীবন তা তো নয়। দ্বিতীয় বিষময় জীবন থেকে বাঁচতে তাহলে কি আবার আরেকটি বিয়ে করতে হবে? তাহলে এ রেসের শেষ হবে না, কাংক্ষিত পুরুষের দেখাও মিলবে না। স্বাধীনচেতা নারীর কাংক্ষিত পুরুষ কল্পনায় থাকে, বাস্তবে নয়।

-তসলিমা নাসরিনের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে