খুলনার শিববাড়ী মোড়ে ৩ কাঠা জমির মালিক হারুন সাহেব। সেখানে বহুতুল ভবন তৈরি করে অনেকগুলো ফ্ল্যাটেরও মালিক হয়েছেন তিনি। কিন্তু তরমুজ খাওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে রক্ত পানি করে গড়া এই জমি কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে তাকে।
তীব্র এই গরমে জানালা দিয়ে ফুটপাতে তরমুজ দেখে মনটা কলকল করে উঠে হারুন সাহেবের। জানালা দিয়েই দাম জিজ্ঞেস করেন। দাম শুনেই সম্বিৎ হারিয়ে ফেলেন এই তরমুজপ্রিয় মানুষটি। সম্বিৎ ফিরে এলেই কেজি দরে নিজের জমি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
প্রবর্তনকে হারুন সাহেব বলেন, ‘তরমুজ খাবো শখ করেছি। শখের তোলা ৮০ টাকা। তরমুজের দাম শোধের জন্য যদি ৮০ কেজি জমি বিক্রি করতে হয় পিছপা হবো না। তাও তরমুজ খাবোই।’
কিছুটা উত্তেজিত হয়ে তিনি বলেন, ‘তরমুজ ব্যবসায়ীরা কী ভাবছে? খুলনার গ্রামঞ্চলের কৃষকের কাছ থেকে ২০/৩০ টাকা করে পিস কিনে শহরে এসে ৪০ টাকা কেজিতে তরমুজ বিক্রি করলেই বা কি! সামর্থ্যের বাইরে দাম হওয়ায় আমরা তরমুজ খাবো না? সব তারা বাসায় নিয়ে বসে বসে খাবে! সে আশায় গুড়েবালি। ওকে মোড়ে থাকতে বলেন, জমি বিক্রি কইরা হলেও তরমুজ খাবো।’
হারুন সাহেবের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে তরমুজ ব্যবসায়ী এসোসিয়েশন। তারা বলেন, ‘ভূমিকম্প হয়ে হারুন সাহেবের জমি বিলীন হয়ে যেতে পারতো। হারুন সাহেবের ছেলেরা জুয়া খেলে জমি খোয়াতে পারতো। কিন্তু না, তিনি তরমুজ খাওয়ার মত মহৎ একটা কাজে জমি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তরমুজের প্রতি এমন সম্মানের জন্য তাকে আমরা ২৫০ গ্রাম তরমুজ ফ্রি দিতে চাই। পাশাপাশি তার নাম পরিবর্তন করে তরমুজ হারুন রাখতে চাই।’













































