প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

কালকে জামিন পাবেন রোজিনা?

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের একটি মামলায় কারাগারে আছেন প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা। ১৭ মে স্বাস্থ্য সেবা সচিবের অফিসে তাকে আটক করা হয়। ৫ ঘন্টা তাকে নিপীড়ন করে কারাগারে দেওয়া হয়। পরদিন তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মামলাটি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জামিনের শুনানি হয়েছে। প্রায় দুই ঘন্টা ভার্চুয়াল কোর্টে জামিনের বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করেন ম্যাজিস্ট্রেট বাকি বিল্লাহ এবং এই শুনানির পর তিনি আগামীকাল জামিনের ব্যাপারে আদেশের দিন ধার্য করেছেন। আর ওই দিনই সরকারের পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট উপস্থাপন করা হবে বলে আদালতকে জানানো হয়েছে এবং আদালতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে ওই ডকুমেন্ট দেখার পর যেনো জামিনের ব্যাপারে আদালত সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে যে, রোজিনা ইসলাম কি রোববার জামিন পেতে যাচ্ছেন?

বৃহস্পতিবারে জামিনের আবেদনের শুনানিতে রোজিনা ইসলামের পক্ষে আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী সুনির্দিষ্টভাবে কিছু তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেছেন। তিনি আদালতকে জানিয়েছেন যে, যে আইনে মামলাটি হয়েছে তা হলো ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারা। এই ধারাগুলো প্রসঙ্গে বলেন যে, এই ধারাগুলো এই মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এরকম যুক্তি দেখিয়ে এহসানুল হক সমাজী বলেন যে, এজাহারে চুরির কথা বলা হয়েছে, কিন্তু আসামি যে ডকুমেন্ট বা প্রপার্টি চুরি করেছে তার বর্ণনা এজাহারের মধ্যে নেই। তিনি আরও বলেন যে, জব্দ তালিকায় এরকম কোনো তথ্য প্রমাণ আদালতে দেয়া হয়নি যে, ডকুমেন্টস, মোবাইল ফোনসহ যা কিছু উদ্ধার করা হয়েছে তা আসামির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। রোজিনার আইনজীবী এটাও বলেন যে, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে ৩ ধারা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ এবং ৫ ধারা হচ্ছে শত্রুভাবাপন্ন কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বা তথ্য হস্তান্তর। কিন্তু মামলার এজাহারে এই দুই ধারার কোনো উপাদান নেই।

এছাড়াও আদালতকে তিনি যুক্তি দেখিয়ে বলেছিলেন যে, রোজিনা একজন নারী, একজন মা এবং অসুস্থ। এই তিন কারণে ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী তিনি জামিন পেতে পারেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন খান শুভ শুনানিতে বলেন যে, তিনি বিদেশ থেকে টিকা আনার জন্য মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্তের অনুলিপি এবং গোপন নথি লুকিয়ে রাখেন। সেখানকার কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তিনি এসব নেন এবং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মামলার সব ধারা জামিন অযোগ্য। সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর এটাও বলেন যে, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড। তাই এই মামলায় বিচার হবে জজ আদালতে। তিনি বলেন, রোজিনা ইসলাম ঘটনাস্থলে একটি স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। সেই ভিডিওটি আদালতের কাছে দাখিল করা হবে। তা দেখার পর আদালত যেনো সিদ্ধান্ত নেয় যে তাকে জামিন দেওয়া হবে কি হবে না।

এই প্রেক্ষাপটে এখন রোজিনার জামিন নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। যদিও রোজিনা গ্রেপ্তার হওয়ার পর দিন ১৮ তারিখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সঙ্গে সাংবাদিক নেতারা দেখা করেছিলেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন যে, বৃহস্পতিবারে আশা করা যায় যে তিনি জামিন পাবেন। একইরকম আশ্বাস প্রদান করেছিলেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। কিন্তু তারপরও বৃহস্পতিবার তার জামিন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের একটি অংশ এই মামলাটি নিয়ে অতি উৎসাহ দেখাচ্ছে এবং এই মামলাটি এখন একটি ইগোর সমস্যা হিসেবে সামনে চলে এসেছে। আর এ কারণেই প্রশ্ন উঠেছে যে রোববার তার জামিন দেওয়া হবে কিনা। বিভিন্ন সূত্র বলছে, সরকারের মধ্যে একটি শুভবুদ্ধি সম্পন্ন গোষ্ঠী তারা মনে করছেন যে, জামিন দেয়ার পর মামলাটি চালিয়ে নেওয়াই উত্তম। কিন্তু এখনো কেউ কেউ মনে করছেন যে, এই জামিনের বিরোধিতা করাই উচিত হবে। শেষ পর্যন্ত আসলে কি হবে সেটি দেখার জন্য আগামীকাল আদালতের আদেশ পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে