প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

করোনা আক্রান্ত শ্বশুরকে পিঠে করে হাসপাতালে নীহারিকা

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

পরনের গোলাপি আঁচল কোমরে কষে বাঁধা। অবলীলায় এক বৃদ্ধকে পিঠে চাপিয়ে হেঁটে চলেছেন এক নারী। পিঠ আঁকড়ে ঝুলছেন বৃদ্ধ। এমন এক ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মূলত করোনাভাইরাস আক্রান্ত শ্বশুরকে পিঠে চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন নীহারিকা নামে এক নারী।

আসামের অভিনেত্রী থেকে শুরু করে বিহার-মুম্বাই-চেন্নাইয়ের বহু মানুষ তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। কিন্তু জনপ্রিয়তা, ভাইরাল হওয়া, মানুষের অভিনন্দনে আপাতত পাত্তা দেওয়ার অবস্থায় নেই নীহারিকা। এখন তার একটাই চিন্তা, একা হাতে নিজেকে আর শ্বশুরকে কীভাবে সামলাবেন।

তার বাড়ি আসামের নগাঁও জেলায়। কর্মসূত্রে রাজ্যের বাইরে থাকেন স্বামী সূরজ। ভাটিগাঁওয়ের বাড়িতে ৭৫ বছর বয়সী শ্বশুর থুলেশ্বরের দেখভাল, সংসার সামলানো সব নীহারিকাই করেন।

শ্বশুরের জ্বর ও কভিডের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় নীহারিকা তাকে পরীক্ষা করাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেকের সাহায্য চেয়েও পাননি। তাই শ্বশুরকে নিজের পিঠে ফেলেই তিনি রওনা হন রহা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখানে থুলেশ্বরের কভিড ধরা পড়ে। কভিড ধরা পড়ে পুত্রবধূরও।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে থুলেশ্বরকে হাসপাতাল ও নীহারিকাকে হোম আইসোলেশনে পাঠানো হয়। কিন্তু অসহায় শ্বশুরকে একা ছাড়তে রাজি হননি নীহারিকা। বসে থাকেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই। শেষপর্যন্ত চিকিৎসক সঙ্গীতা ধর দুইজনকেই অ্যাম্বুল্যান্সে করে ভোগেশ্বর ফুকনানি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ড থেকে নিয়ম করে এসে আইসিইউতে ভর্তি শ্বশুরের সেবা করছিলেন নীহারিকা। সেই ভিডিও্ও ছড়িয়ে পড়েছে। কখনও পুত্রবধূ শ্বশুরের কপালে চুমু খেয়ে সাহস দিচ্ছেন। কখনও মজা করছেন। কখনও বলছেন, ‘এটা আইসিইউ বাবা, ভয় পাবেন না। বুড়ো হয়ে ঢুকেছেন, যুবক হয়ে বেরোবেন। কখনও তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বাবা আপনার কোনো চিন্তা নেই। কাঁদবেন না একদম। আমি তো আছি আপনার ভরসা। আর আমার আছেন আপনি।’

কিন্তু থুলেশ্বরের অবস্থা আরও খারাপ। শনিবার তাকে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। যদিও আসতে পারেননি নীহারিকা। তিনি ভিডিও বার্তায় হাতজোড় করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘শ্বশুরের রক্ত লাগবে শুনেছি। তার পাশে কেউ নেই। আমার নিজের শরীরও খারাপ হচ্ছে। শক্তি শেষ হয়ে আসছে। দয়া করে আমায় গুয়াহাটির একই হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। না হলে শ্বশুরকে সাহায্যের কেউ থাকবে না।’

নীহারিকার ছবি ও ভিডিও দেখে মুগ্ধ অভিনেত্রী আইমি বরুয়া বলেন, ‘নারীশক্তির অনন্য চেহারা নীহারিকা।’ অবশ্য অনেকেই মন্তব্য করছেন, পিঠে করে শ্বশুরকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টির পেছনে যে পরিকাঠামোর অভাব, সরকারি সদিচ্ছার অভাব, দারিদ্রের যন্ত্রণা লুকিয়ে রয়েছে, তার সমালোচনা ও সংশোধন হওয়া বেশি প্রয়োজন।