আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের জন্য প্রতি বছর দুটি ঈদ উদযাপন করাকে শরিয়ত সম্মত ক’রেছেন। প্রতিটি ঈদ মহা তাৎপর্যপূর্ণ গৌরবময় ইবাদতের শেষে উদযাপিত হয়। ঈদুল ফিতর আসে ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ রমাজানের রোজা পা’লনের পরে এবং ঈদুল আজহা দ্বীনের পঞ্চম স্তম্ভ হজ্জে’র সমাপ্তিতে পালিত হয়। ঈদের দিনে মুসলিম হৃদয়ে খুশির জোয়ার উঠে, আনন্দে ভরে যায় চারিদিক।
আল্লাহ ঈদ উদযাপনের জন্য কিছু ধ’র্মীয় রীতি-নীতি ও আচার-আচরণ নির্ধারণ ক’রেছেন। রাসুল (সা.) হলেন এসব রীতি-নীতির জীবন্ত নমুনা। এজন্য রাসুল (সা.) ঈদের দিন কী ক’রতেন তা জা’না আমাদের জন্য আবশ্যক।
কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত ঈদের দিনে রাসুল (সা.) এর বিশেষ দশটি আমল নিয়ে আলোচনা করা হলো-
১। সৌষ্ঠব বৃ’দ্ধি করা: রাসুল (সা.) ঈদের দিনে নিজে’র সৌন্দর্যের দিকে বিশেষ মনযোগ দিতেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) ঈদের দিনে লাল চাদর পরিধান ক’রতেন।’ ইমাম মালেকের (রহ.) মতে, ঈদের দিনে সুগন্ধি ব্যবহার করা ও সুন্দর পোশাক পরা মুস্তাহাব।
২। গোসল করা: না’ফে (রহ.) বলেন, ‘ইবনে উমা’র (রা.) রাসুলের সুন্নত অনুসরণ করে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে গোসল ক’রতেন।’
৩। খেজুর খাওয়া: আনাস বিন মালেক (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে রওনা হবার প্রক্কালে বিজোড় খেজুর খেতেন অর্থাৎ এক, তিন, পাঁচ বা সাতটির মত খেতেন।’ বুখারি: ৯৫৩
৪। পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া: ইবনে উমা’র (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যেতেন এবং পায়ে হেঁটেই ঈদগাহ থেকে ফিরতেন।’ ইবনে মাজাহ: ১৩৫৪
৫। পথ পরিবর্তন করা: জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা:) বলেন, ‘নবী (সা:) ঈদগাহে যে পথে যেতেন ফিরার সময় সে পথ পরিবর্তন ক’রতেন। বুখারী: ৯৮৬
৬। তাকবির পড়া: যুহরি (রহ.) বলেন, ‘ঈদুল ফিতরে রাসুল (সা.) বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাকবির পাঠ শুরু ক’রতেন এবং নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত তাকবির পড়া চলমান রাখতেন।’ সিল সিলাতুল আহাদিস: ১৭১
৭। খোলামাঠে ঈদের নামায আদায় করা: ইবনে উমা’র (রা.) বলেন, ‘ঈদগাহে রাসুল (সা.)-এর সামনে একটা বর্শা রাখা হত, আর ঈদের নামায পড়া হত খোলা ময়দানে যার উপরটা ফাঁকা ছিল।’ ইবনে মাজাহ: ১২৯৪
৮। খুৎবাহ শ্রবণ করা: আব্দুল্লাহ বিন সায়িব (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-এর সাথে ঈদগাহে উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাদের নিয়ে নামাজ শেষ করে ঘো’ষণা দিলেন, যার ইচ্ছে খুৎবাহ শুনার জন্য বসতে পার, আর কেউ ইচ্ছে করলে চলে যেত পার।’ ইবনে মাজাহ
৯। শুভেচ্ছা বিনিময় করা: জুবাইর বিন নুফাইর (রা.) বলেন, ‘সাহাবিরা ঈদের দিন একে অপরের স’ঙ্গে দেখা হলে শুভেচ্ছা বিনিময় ক’রতেন এবং বলতেন তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিন কুম অর্থাৎ আল্লাহ আমদের ও তোমাদের সৎ আমলগুলো কবুল করুন।’
১০। ঈদগাহ থেকে ফি’রে দু’রাকাত সালাত আদায় করা: আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) ঈদের সালাতের পূর্বে কোনো সালাত পড়তেন না বরং বাড়ি ফি’রে দু’রাকাত নামাজ আদায় ক’রতেন।’ ইবনে মাজাহ
রাসুল (সা.) ঈদের দিনে যা ক’রতেন তা হুবহু অনুসরণ করাটা ধ’র্মপ্রা’ণ মুসলিমের নিকট ঈদের আনন্দের মাত্রা বহু গুণে বাড়িয়ে দেয়। আল্লাহ আমাদেরকে সুন্দর ঈদ কাটানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।
তাওহীদুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়













































