প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

৩৩৩ নাম্বারে সহায়তা চাওয়া ৪ তলা ‘বাড়ির মালিক’ সত্যিই অভাবগ্রস্থ!

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

৩৩৩ নাম্বারে ফোন করে খাদ্য সহায়তা চাওয়া নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার কথিত ৪ তলা বাড়ির মালিক বৃদ্ধ ফরিদ উদ্দিন সত্যিই অভাবগ্রস্থ বলে জানিয়েছেন। এমনকি ৪ তলা বাড়িটির মাত্র ৩টি কক্ষ তার বলেও তিনি জানিয়েছেন।

খাদ্য সহায়তা চাওয়ায় উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তার ভুল সিদ্ধান্ত ও ভ’য়ভীতির মুখে ফরিদ উদ্দিন করো’নার দুঃসময়ে ৬৫ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেব বলে দাবি করেছেন।

তবে এসব অ’ভিযোগ অস্বীকার করে উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তার দাবি, খোঁজ খবর নিয়েই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন তিনি।

জানা যায়, লকডাউনে আর্থিক অনটনে থাকা ফরিদ উদ্দিনের ঘরে খাবারের সংকট দেখা দিলে বুধবার (১৯ মে) ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করে খাদ্য সহায়ত চান উপজে’লার কাশীপুর ইউনিয়নের দেওভোগ নাগবাড়ি এলাকার বৃদ্ধ ফরিদ উদ্দিন। তাকে সহায়তা করতে গিয়ে উপজে’লা প্রশাসনের কর্মক’র্তারা জানতে পারেন সাহায্য চাওয়া ব্যক্তিটি একটি চার তলা বাড়ি ও হোসিয়ারি কারখানার মালিক।

তখন ইউএনও আরিফা জহুরা ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে অযথা হয়’রানি ও সময় নষ্ট করায় ফরিদ উদ্দিনকে শা’স্তি বাবদ শনিবার একশ’ গরিব মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। তা না হলে তার তিন মাসের জে’ল জ’রিমানা হবে বলে ইউএনও’র পক্ষ থেকে ভ’য়ভীতি দেখানো হয়।

এ বিষয়ে ফরিদ উদ্দিনের স্ত্রী’ হিরণ বেগম জানান, জে’ল জ’রিমানার ভ’য়ে ফরিদ উদ্দিন অধিক সুদে অর্থ ঋণ নিয়ে এবং তিনি কিছু স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে ৬৫ হাজার টাকা যোগাড় করে একশ’ ব্যক্তির জন্য সরকারি মাপের খাদ্য সামগ্রী ক্রয় করেছেন।

এদিকে শনিবার বিকেলে ফরিদ উদ্দিনের বাড়ির সামনে গিয়ে ওই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন ইউএনও আরিফা জহুরা। এ সময় কা’ন্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

ফরিদ উদ্দিনের দাবি, অভাবে পড়েই সরকারের জরুরি হটলাইন নম্বরে কল দিয়েছিলেন। তবে ইউএনও খোঁজ খবর না নিয়েই তাদের ওপর অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। চার তলা বাড়িটি তার পৈতৃক সম্পত্তি হলেও অংশীদার হিসেবে তিনি পেয়েছেন মাত্র তিনটি রুম। যেখানে তারা বসবাস করছেন। উত্তরাধিকার সূত্রে তারা সাত ভাই বোন সম্মিলিতভাবে এ বাড়ির মালিক।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার আইয়ুব আলীও গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, উপজে’লা প্রশাসনের কর্মক’র্তারা তারা সাথে যোগাযোগ না করেই এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

তবে উপজে’লা নিবার্হী কর্মক’র্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরা দাবি করেন, হটলাইনে কল করে সাহায্য চাওয়া ব্যক্তি খাদ্য সহায়তা পাওয়ার উপযু’ক্ত কিনা তা স্থানীয় ইউপি সচিবের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের জে’লা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খাদ্য সহায়তা চাওয়া বৃদ্ধ ফরিদ উদ্দিন দরিদ্র বলে প্রমাণ পাওয়া গেলে ১০০ মানুষকে দেওয়া খাবারের ক্ষতিপূরণ তাকে দিয়ে দেওয়া হবে।