গত ১৭ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তাতে বিএনপি উল্লসিত। ভাগ্যিস বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অসুস্থ। না হলে এতদিনে তিনি ফাটিয়ে দিতেন, অন্তত প্রতিদিনে তিনটি করে সংবাদ সম্মেলন করতেন। তাঁর অভাব অপূরণীয়। আর এই অভাব পূরণের জন্য দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিছু চেষ্টা করছেন কিন্তু ঠাকুরগাঁও থেকে এই চেষ্টা খুব একটা সফল হচ্ছে না। কিন্তু করোনায় আক্রান্ত বিএনপির অধিকাংশ নেতাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘটনায় উল্লসিত। বিএনপি মনে করে যে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাদের জন্য যে কাজটি করছে সেটি আর কেউ করতে পারেন না। নিজের দলের নেতাকর্মীরা যেটা করতে ব্যর্থ হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একাই তাদের উপকার করছে।
বিএনপির একজন নেতাকে প্রশ্ন করেছিলাম তারপরও আপনারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছেন কেন। ওই নেতা বললেন যে, যেকোনো সরকার সব সময় বিরোধীদলের চিন্তার বিপরীতধর্মী অবস্থানে থাকে। আমরা যখন সরকারে ছিলাম তখন আওয়ামী লীগ থেকে যখন কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হতো সেই মন্ত্রীর গদি আরও শক্ত হতো। তখন সে মন্ত্রীকে ক্ষমতাবান করা করতেন ম্যাডাম। আওয়ামী লীগ একই নীতি অনুসরণ করেছে। এখন আওয়ামী লীগে যে সমস্ত মন্ত্রীরা সমালোচিত, যাদের বিএনপি পদত্যাগ দাবি করে তারা আরো ক্ষমতাবান হয়, তাদের গদি আরো পাকাপোক্ত হয়, তারা দীর্ঘদিন মন্ত্রণালয়ে থাকেন। তিনি হিসেব দিয়ে বলেন, যত মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সমালোচনা হয়েছে তত সেই মন্ত্রীর ক্ষমতা বেড়েছে এবং তিনিই সরকার আস্থাভাজন হয়েছেন। কাজেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য বিএনপি একটি কাজই করতে পারে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করতে পারে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলে সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করবে যে, বিরোধী দল যেহেতু স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে তাহলে তাকে রাখা হোক।
বিএনপির ওই নেতা গ্যারান্টি দিয়ে বলেন যে, বিএনপি যতদিন আছেন ততদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কোনকিছু হবে না। ওই নেতা বলেছেন যে, সরকারের ১২ বছরে কোন বিষয়ে বড় ধরনের সমালোচনা নেই। এই সরকারের ১২ বছরের মধ্যে গত আড়াই বছরে স্বাস্থ্য খাতে যে সমালোচনা হয়েছে তা তুলনাহীন। এই সমালোচনাই সরকারের ১২ বছরের সব উন্নয়নকে ম্লান করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এখন আমরা কাজে লাগাতে পারি না পারি জনগণই এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। আর এই ক্ষোভের প্রকাশ যে কোন সময় ঘটবে। এতে লাভটা বিএনপিরই হবে। আর এ কারণেই সেই ক্ষোভ যেন বাড়ে সেজন্য বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে আরো কিছুদিন রাখা দরকার বলে বিএনপির নেতারা মনে করে। তারা মনে করছেন যে, জাহিদ মালেককে যদি এখন সরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে আন্দোলনের সর্বনাশ হবে এবং স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এসব মানুষ ভুলে যাবে। আর সে কারণেই জাহিদ মালেককে পুরো সময় রাখা দরকার।
পুরো সময় জাহিদ মালেক থাকলে কি ধরনের উপকার হবে জানতে চাইলে বিএনপির নেতা বলছেন যে, তিনি প্রথমে ডেঙ্গু মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন, করোনা মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তৃতীয় দফায় করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যর্থ হয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি নানারকম প্রকাশ্য দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত। আর এ কারণেই তিনি যদি আরো কিছুদিন থাকেন তাহলে নতুন নতুন ঘটনার জন্ম দেবেন। কখনো ডেঙ্গুতে তিনি অস্থিরতা তৈরি করেছেন, করোনাতে তিনি মানুষের ক্ষোভ সঞ্চার করেছেন, এখন রোজিনা নিয়ে করলেন। সামনে হয়তো তিনি অন্য কিছু নিয়ে আবির্ভূত হবেন। এ কারণেই আমরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চাই। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে যেন না সরিয়ে দেয়া হয়, সেজন্যই আমরা প্রকাশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করি। বিএনপির অনেকেই মনে করেন যে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের যে উপকার করছে সে উপকার কোন রাজনৈতিক দলও করতে পারেনি। তারা তারা মনে করেন যে, জনগণের মধ্যে যেটুকু অসন্তোষ তৈরি হয়েছে তার শুধুমাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কারণেই।













































