আট মাস কে’টে গেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়েছিলেন বলিউডের আইটেম গার্ল মালাইকা অরোরা। সেই যন্ত্র’ণাময় দিনগুলো মনে পড়লে আজও শিউরে ওঠেন মালাইকা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বলিউড তারকা করো’নাকালের সেই ভ’য়ংকর দিনগুলোর কথা
শেয়ার করেছেন। এর পাশাপাশি মালাইকা বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছেন। এই দীর্ঘ পোস্টে মালাইকা জানিয়েছেন যে ওই দিনগুলোতে তিনি দুর্বল এবং অসহায় অনুভব করতেন। এমনকি তাঁর ওজনও বেড়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন মালাইকা। তবে কখনোই তিনি হাল ছাড়েননি।
৪৭–এ দাঁড়িয়ে আজও মালাইকার নির্মেদ শরীর নেট দুনিয়ায় তুফান তোলে। আজও টিনএজের কাছে ঈর্ষণীয় তাঁর ফিগার। জিমে তাঁকে দারুণ সক্রিয় দেখা যায়। তবে করো’না মালাইকাকে বেশ কাবু করে দিয়েছিল। এমনকি করো’নামুক্ত হওয়ার পরও এই বলিউড তারকা অসম্ভব দুর্বল ছিলেন।
মালাইকা তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘“আপনি অ’ত্যন্ত ভাগ্যবতী। আপনার জন্য এসব কিছু সহ’জ ছিল।” এসব নানান কথা আমাকে হামেশাই শুনতে হয়েছে। হ্যাঁ, আমি নিশ্চয় অনেক কিছুর জন্য কৃতজ্ঞ। কিন্তু এখানে আমি ভাগ্যের ভূমিকা খুব ছোট করে দেখি। আর সহ’জভাবে? এটা কখনোই নয়। আমি ৫ সেপ্টেম্বর করো’না পজিটিভ হয়েছিলাম। আর আমা’র জন্য খুবই কঠিন সময় ছিল। যাঁরা করো’না থেকে সুস্থ হওয়াকে সহ’জ বলে থাকেন, তাঁরা আমা’র কাছে সত্যি ভাগ্যবান বা তাঁদের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো। নয়তো তাঁরা করো’না সং’ঘর্ষ স’ম্পর্কে জানেনই না। আমি এই সং’ঘর্ষের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আর সফরটা মোটেও সহ’জ ছিল না।’
মালাইকা আরও লিখেছেন, ‘করো’না আমাকে শারীরিকভাবে ভেঙেচুরে শেষ করে দিয়েছিল। দুই পা হাঁটা আমা’র জন্য কঠিন কাজ ছিল। বসা বা জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ানো এক সফরের মতো ছিল। আমা’র ওজন বেড়ে গিয়েছিল। আর আমি খুবই দুর্বল অনুভব করতাম। আমা’র শক্তি যেন নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। আমা’র পরিবার আর কাজ থেকে আমি দূরে ছিলাম।’
বলিউডের এই আইটেম গার্ল তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘২৬ সেপ্টেম্বর আমা’র রিপোর্ট অবশেষে নেগেটিভ আসে। আর আমি খুবই কৃতজ্ঞ ছিলাম যে অবশেষে এই যু’দ্ধকে জয় করেছি। কিন্তু তখনো দুর্বল অনুভব করতাম। আমি হতাশ ছিলাম, কারণ আমা’র মন যা চাইত, তাতে শরীর আমাকে সায় দিচ্ছিল না। আমি আগের শক্তি ফিরে পাব কি না, এই ভ’য় আমাকে তাড়া করত।
আমি ভাবতাম যে ২৪ ঘণ্টায় আমি একটা কাজ শেষ করতে পারব কি না। করো’নার পর আমা’র প্রথম দিনের ওয়ার্ক আউট খুবই ভ’য়ংকর ছিল। আমি কোনো কিছু ঠিকমতো করতে পারছিলাম না। আমি অন্তর থেকে ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয় দিন আমি মনে মনে বলেছিলাম যে আমি আবার আগের মতো শরীর বানাব। এরপর তৃতীয়, চতুর্থ আর পঞ্চ’ম দিন আরও শক্তি ফিরে পাই। ৩২ সপ্তাহ হলো আমি করো’না থেকে মুক্ত হয়েছি। এখন আমি আবার আগের মতো অনুভব করতে শুরু করেছি।’
মালাইকা বলেছেন, ‘চার অক্ষরের যে শব্দ আমাকে আগে এগিয়ে নিয়ে গেছে, সেটা হলো “হোপ” (Hope) আমি আশা রেখেছিলাম যে আগের মতো ঠিক হয়ে যাব। কিন্তু তখন বুঝতে পারতাম যে কিছুই ঠিক নেই। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ, যাঁরা আমাকে উৎসাহ জুগিয়েছিলেন। আমা’র পাশে থেকেছেন। আমি প্রার্থনা করছি যে সমগ্র দুনিয়া যেন আগের মতো হয়ে যায়। আর আম’রা যেন এর থেকে মুক্তি পাই।’













































