সরকারের সাথে নতুন করে সমঝোতার চেষ্টা করছে হেফাজত। হেফাজত এখন দুটি ধারায় বিভক্ত হয়েছে। একটি আহমদ শফীপন্থী এবং অন্যটি জুনায়েদ বাবুনগরীপন্থী। দুই পক্ষই সরকারের সাথে দেনদরবার করছে এবং একটি সমঝোতার চেষ্টা করছে। হেফাজতের সূত্রগুলো বলছে, যারা সরকারের ঘনিষ্ঠ হতে পারবে সেই হেফাজতই টিকবে। যেই হেফাজতকে সরকার গ্রহণ করবে না সেই হেফাজত বিলীন হয়ে যাবে। আর এই জন্যই দুই হেফাজতই দৌড়ঝাঁপ করছে সরকারের সাথে সুসম্পর্ক করতে। তবে মজার ব্যাপার হলো দুটি হেফাজতের পক্ষ থেকেই সমঝোতার জন্য অভিন্ন পাঁচ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং এই প্রস্তাব তারা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলবে এই আশ্বাসও সরকারের কাছে দিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে এই হেফাজতের সাথে সমঝোতার ব্যাপারে কোনো কিছু স্বীকার করা হয়নি। বরং সরকারের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ বলছেন যে, হেফাজতের ব্যাপারে সরকারের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরকার তার কঠোর অবস্থানেই আছে এবং হেফাজতের যে সমস্ত নেতারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া আনা হবে। সরকারের সঙ্গে সমঝোতার জন্য হেফাজত যে ৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে,
১. হেফাজত কোনো রকম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াবে না: হেফাজত প্রকাশ্যে অঙ্গীকার দিতে চায় যে তারা ভবিষ্যতে কোনো রকম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জানাবে না এবং হেফাজত একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এটি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক একটি সংগঠন। এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবে এবং তাতে বলাও থাকবে যে হেফাজতের কেউ যদি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হয় তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তার সংগঠনের সদস্য পদও বাতিল হয়ে যেতে পারে।
২. ক্ষমা প্রার্থনা: হেফাজত সাম্প্রতিক সময়ে যে সমস্ত ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে সেই সমস্ত ঘটনায় জড়িত থাকুক না থাকুক তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। হেফাজতের সূত্রগুলো বলছে, তারা মনে করছে যে হেফাজতের নেতৃবৃন্দের এখানে দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত ছিলো এবং যারা এখানে উস্কানি দিয়েছে তাদের দায় দায়িত্ব এড়ানোর যায় না। এজন্য হেফাজতের পক্ষ থেকে একটি ক্ষমা প্রার্থনা করবে।
৩. সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্তদের মুক্তি চাইবে না: হেফাজত অঙ্গীকার করেছে যে হেফাজতের ভেতরে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে তাদের মুক্তির দাবি করবে না হেফাজত এবং সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই তারা মামুনুল হকের বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলছে না। ভবিষ্যতে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের যদি আইনের আওতায় আনা হয় তাহলে হেফাজত তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবে না।
৪. হেফাজতে শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে: সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে হেফাজতের ভেতর বেশকিছু জঙ্গী, যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী এবং জামায়াতের লোকজন ঢুকে গেছে এবং হেফাজত আগে এই বিষয়টি অস্বীকার করলেও এখন অস্বীকার করছে না। বরং তারা বলছে যে, এ ধরনের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে আছে তাদেরকে বহিস্কার করা হবে
৫. নতুন কমিটি গঠনে সতর্কতা: হেফাজতের নেতৃবৃন্দ বলছেন যে, এখন কমিটি ভেঙে দেয়ার পর যে নতুন কমিটি গঠন করা হবে সেই কমিটি গঠনে সর্তকতা অবলম্বন করা হবে এবং সরকারের সাথে আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতেই কমিটিতে লোকজন অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যেন কোনো অনাকাঙ্খিত, বিতর্কিত ব্যক্তিরা এ কমিটিতে না থাকে। এই ৫ সমঝোতা নিয়েই এখন সরকারের সঙ্গে আবার ঘনিষ্ঠ হতে চাইছে হেফাজত। তবে সরকার কোন হেফাজতকে গ্রহণ করবে আর কোন হেফাজতকে বর্জন করবে সেটি দেখার বিষয়।













































