প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

সবার অপেক্ষা কখন একটি অ্যাম্বুলেন্স আসবে !

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জে’লার সাথে যোগাযোগের মাধ্যম পাটুরিয়া-দৌলদিয় নৌ পথ। ঈদের বাকি আর দু দিন এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষ করে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি। করো’না পরিস্থিতি অবনতিতে সড়ক এবং নৌ পথের যাতায়াত বন্ধ করেছে সরকার। এতেও যেন ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যাওয় ঠেকানো যাচ্ছে না। ঘাট এলাকায় যাত্রীদের চাপ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতায় সড়কে গেল দিন থেকে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি কজ করছে বিজিবি। কঠোর নজরদারির পরেও মাইলকে মাইল পায়ে হেটে চলেছেন ঘাটের দিকে। শত ক’ষ্টের মাঝেও যেন এক স্বস্থি কাজ করছে সকলের মনে। ঘাটে এসে জর হয়েছে শত-শত মানুষ কখন একটি অ্যাম্বুলেন্সসহ একটি ফেরী আসবে সেই ফেরীতে করে রওনা হবেন রাজবাড়ীর দৌলদিয়ার উদ্যেশ্যে। মাঝ নদীতে ফেরী দেখলেই যেন ফেরে স্বস্থি।

পাটুরিয়া ঘাটের প্রায় ১০কিঃমি পেছনে টেপড়া চেকপোস্টে বিজিবির নজরদারিতে কোন পরিবহনকে সড়ক অ’তিক্রম করতে দেওয়া হচ্ছে না। যাত্রীরা সাথে থাকা ব্যাগপত্র নিয়ে গাড়ী থেকে নেমে এগোচ্ছেন পায়ে হেটে, এবার যেন আর বাঁ’ধা দেওয়া গেল না মানবিক কারনেই। কিছু দূর হেটে যাওয়ার পর ছোট কোন সিএজি চালিত যান, ভ্যান, রিক্সা কিংবা মোটরসাইকেল যোগে ঘাটমুখী হচ্ছে ঘরমুখো মানুষ। মোটরসাইকেলগুলোতে চালকসহ তিনজন এবং ছোট যানগুলোতে ঠাসাঠাসিকরে তোলা হচ্ছে যাত্রীদের। নেই সামাজিক দূরত্ব স্বাস্থ্যবিধিও উপেক্ষিত।

দশ কিঃমি সড়কে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ৫-১০ গুন ভাড়া। টেপড়া থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত মোটরসাইকেলে এক একজন যাত্রীকে দিতে হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা ভাড়া। ভ্যানগুলোতে চড়ছে ৬-৭জন, জনপতি গুনতে হচ্ছে ৫০টাকা করে। এসকল যানবাহনে রয়েছে জীবনের ঝুকি। সোমবার সকালে মোটরসাইকেলে ঘাটে যাওয়ার সময় নি’হত হয়েছ চালকসহ দুইজন। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে যাত্রীদের চাপত তত বাড়ছে এসকল ছোট যানবাহন চলাচলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজর না রাখলে দুর্ঘ’টনা আরো বাড়তে পারে বলে আশ’ঙ্কা করছেন অনেকেই।

পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় খুলনা যাওয়ার জন্য অ’পেক্ষারত আমিনুল ইস’লাম বলেন, বছরে আম’রা ছুটি পাই দুই ঈদে। তখনি কেবল বাড়িতে যাওয়া হয়। পরিবারের লোকজন আমাদের জন্য আশা করে চেয়ে থাকে অ’পেক্ষায়। করো’নাতো বুঝতাছি কিন্তু সবাইকে নিয়ে একটু ভাল থাকতে খুশি থাকতেই এত ক’ষ্ট করে বাড়ী যাওয়া।

তিনঘন্টা যাবৎ ফেরীর অ’পেক্ষায় আছেন তারামিয়া সাথে তার স্ত্রী’, ছে’লে-মে’য়েসহ আরো পাঁচজন তিনি বলেন, ‘ঘাটে আসার সাথে সাথে একটা ফেরী পাইছিলাম তয় জাইবার পারি নাই পয় পুলাপান নিয়া। ফেরী আসলেই লোকজনে হু’ম’রি খায়া পরে। ছোট পুলাপান নিয়া কি ঝুকি নিয়া জায়ুন জায়। পা ফা’লানোর জাগাও ছিল না ঐ ফেরীতে। এহন সামনেই দাড়াইছিল পরে যেইডা আসপ ঐডাতেই চড়–ম।’

শি’বালয় থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) মোহাম্ম’দ ফিরোজ কবীর বলেন, ‘ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলেও নির্দেশনা অনুযায়ী ম’রদেহ ও রোগী বহনকারী গাড়ি পার করা হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রী ও ছোট গাড়িও পার হচ্ছে।’

বাংলাদেশ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন আরিচা কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. মহিউদ্দিন রাসেল জানান, নিত্য ও জরুরি যানবাহন পারাপারে ৩টি ফেরি নিয়োজিত রয়েছে। মানুষের জন্য বাধ্য হয়েই যানবাহনের সঙ্গে তাদেরও পার করা হচ্ছে। কেউ মানছেন না, কোনো কথা শুনছে না।