প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

সবচেয়ে বেশি ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছিলেন বাংলাদেশি সাইফুল

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

সাইফুল আজম পৃথিবীর ইতিহাসের একমাত্র যো;;’দ্ধা যিনি আকাশপথে ল;ড়াই করেছেন তিনটি ভিন্ন দেশের বিমানবাহিনীর হয়ে। আর একক ব্যক্তি হিসেবে আকাশপথের যু’;’দ্ধের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক ইস’রাইলি যু;;’দ্ধবিমান ভূপাতিত করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে একের পর এক ইতিহাস রচনা করে গেছেন এই বীর বাঙালি। পৃথিবীর ২২ জন ‘লিভিং ঈগলের’ অন্যতম ছিলেন এই বাঙালি বৈমানিক। ১৯৭১ সালের আগে পা’কি’স্তান বিমানবাহিনীতে কর্ম’র’’ত ছিলেন সাইফুল আজম।

স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যোগ দেন। পা’কি’স্তান বিমানবাহিনীতে কর্ম’র’’ত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের জুন মাসে তৃতীয় আরব-ইস’রাইল যু;’দ্ধ শুরু হয়। যু;;’দ্ধে অংশ নিতে পা’কি’স্তানের পক্ষ থেকে ই’রাকি বিমানবাহিনীতে বদলি হন সাইফুল আজম। পশ্চিম ই’রাকে অবস্থান নিয়ে ইস’রাইলিদের বি;রু’’দ্ধে যু;;’দ্ধ করছিলেন তিনি।

যু;;’দ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ৫ দিনের মা’থায় গাজা এবং সিনাইয়ের ক’র্তৃত্ব নিয়েছিল ইস’রাইল। জুনের ৫ তারিখে সিরীয় বিমানবাহিনীর দুই-তৃতীয়াংশ শক্তি ধ্বং;;স করে দেয় ইস’রাইলি বিমান সে’নারা। তেমন কোনো প্র;তিরো;ধ ছাড়াই ইস’রাইল পশ্চিম তীর এবং জেরুজালেম তারা দখল করেছিল। দখল করেছিল সিরিয়ার গো’লান মালভূমিও।

তাদের সামনে বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ তৈরি করতে পারেনি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ। এ সময় ইস’রাইলিদের যম’দূত হয়ে জর্ডানে যান সাইফুল আজম। ৬ জুন আকাশ থেকে প্র;চণ্ড আ’ক্র;ম;ণে মিসরীয় বিমানবাহিনীর যু;;’দ্ধ-সরঞ্জাম গু’’ঁড়িয়ে দেয় ইস’রাইলি বাহিনী। একই দিন বেলা ১২টা ৪৮ মিনিটে চারটি ইস’রাইলি সুপারসনিক ‘ডাসল্ট সুপার মিস্টেরে’ জ;;ঙ্গি বিমান ধে;য়ে আসে জর্ডানের মাফরাক বিমান ঘাঁটির দিকে।

এবার তাদের লক্ষ্য জর্ডানের ছোট্ট বিমানবাহিনীকে নি;শ্চি;হ্ন করে দেয়া। সে সময় ইস’রাইলি সুপারসনিকের বি;রু’’দ্ধে ল;ড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো সমকক্ষ বিমান আরবীয়দের ছিল না। তবু ইস’রাইলিদের ঠেকাতে মাফরাক বিমান ঘাঁ;টি থেকে ‘হকার হান্টার’ জ’ঙ্গি বিমান নিয়ে বুক চিতিয়ে উড়াল দেন সাইফুল আজম।

আর সেই হকার হান্টার দিয়েই ক্ষিপ্রগতির দুটি ইস’রাইলি সুপারসনিক ঘায়েল করে ফেললেন সাইফুল আজম। তার অব্য’র্থ আ;;ঘা’তে ভূপা;তিত হয় একটি ইস’রাইলি ‘সুপার মিস্টেরে’। আরেক আ;;ঘা’তে প্রায় অকেজো হয়ে ধোঁ;য়া ছাড়তে ছাড়তে কোনো মতে পা;লি;য়ে ইস’রাইলি সীমানায় গিয়ে আছড়ে পড়ে আরেকটি বিমান।

সে দিন অকু;তো;ভ;য় বৈমানিক সাইফুল আজমের অকল্পনীয় বীরত্বের কারণে ইস’রাইলের পুরো পরিকল্পনাই ভে;স্তে যায়। উল্টো নিজেদেরই দুটো বিমান হা;রায় তারা। এমন বীরত্বের জন্য পুরস্কারস্বরূপ সাইফুল আজমকে ‘হুসাম-ই-ইস্তিকলাল’ সম্মাননায় ভূষিত করে জর্ডান সরকার। সাইফুল আজমের কাছে ইস’রাইলি বৈমানিকদের ধ’রাশা;য়ী হওয়া এটাই প্রথম। পরদিনই তার কৃতিত্বে ই’রাকি বৈমানিক দলের কাছে চ;র;মভাবে পরাজিত হয় ইস’রাইলিরা।

৭ জুনে ই’রাকের ‘এইচ-থ্রি’ ও ‘আল-ওয়ালিদ’ ঘাঁটি র;ক্ষা করার দায়িত্ব পড়ে এক ই’রাকি বৈমানিক দলের কাঁধে। আর সাইফুল আজম সেই দলের অধিনায়ক। সে দিন চারটি ‘ভেটোর বোম্বার’ ও দু’টি ‘মিরেজ থ্রিসি’ জ;;ঙ্গি বিমান নিয়ে আ’;ক্র;ম;ণ চালায় ইস’রাইল। একটি ‘মিরেজ থ্রিসি’ বিমানে ছিলেন ইস’রায়েলি ক্যাপ্টেন গিডিওন দ্রোর।

দ্রোরের গু’;;লিতে নি;;হ;ত হন আজমের উইংম্যান। তার হা;;ম;লায় ভূপাতিত হয় দুটি ই’রাকি বিমান। পরক্ষণেই এর জবাব দেন আজম। তার অব্য’র্থ টার্গেটে পরিণত হয় দ্রোরের ‘মিরেজ থ্রিসি’। সে আ;;ঘা’তের পর বাঁ’চার উপায় না পেয়ে যু;;’দ্ধব’ন্দি হিসেবে ধ’রা দেন ক্যাপ্টেন দ্রো;র। ওই যু;;’দ্ধব’ন্দির বিনিময়ে জর্ডান ও ই’রাকের সহস্রাধিক সৈন্যকে মুক্ত করে ইস’রাইল।

আরব-ইস’রাইল যু’;’দ্ধের প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই সাইফুল আজম একটি অনন্য রেকর্ড তৈরি করেন। ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ভূপাতিত করেছেন সর্বোচ্চ তিনটি ইস’রাইলি বিমান। যে জন্য ‘নাত আল-সুজাহ’ সাম’র’’িক সম্মাননায় ভূষি;ত করা হয়। শুধু আরব যু;;’দ্ধেই কৃতিত্ব দেখাননি সাইফুল আজম।

এর আগে ১৯৬৫ সালে পাক-ভা’রত যু;;’’দ্ধে তার বীরত্বে আ’ক্রা’’ন্ত হয় একটি ভা’রতীয় ‘ফোল্যান্ড নেট’ জ’;ঙ্গি বিমান। সে বিমান থেকে ভা’রতের ফ্লাইট অফিসার বিজয় মায়াদেবকে যু’;;’দ্ধব’;ন্দি হিসেবে আট’’ক করা হয়। সে সময় প্র’শিক্ষকের দায়িত্বে থাকাকালীনই সেপ্টেম্বর পা’কি’স্তান বিমান বাহিনীর ১৭ নম্বর স্কোয়াড্রনের হয়ে ‘এফ-৮৬ স্যাব’’রজেট’ জ;;ঙ্গি বিমান নিয়ে এ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।

বিরল এই পারদর্শিতার স্বীকৃতিস্বরূপ সাইফুল আজমকে পা’কি’স্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ সাম’র’’িক সম্মাননা ‘সিতারা-ই-জুরাত’-এ ভূষিত করা হয়। সাইফুল আজমই পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র বৈমানিক যিনি চারটি দেশের বিমানবাহিনীর সৈন্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই চারটি দেশ হল পা’কি’স্তান, জর্ডান, ই’রাক ও মাতৃভূমি বাংলাদেশ।

এ ছাড়া আট’’টি ভিন্ন দেশের আট’’ বাহিনীর বিমান পরিচালনা করেছেন আজম। যু’ক্তরা’ষ্ট্র, পা’কি’স্তান, ইংল্যান্ড, জর্ডান, ই’রাক, রাশিয়া, চীন ও নিজ মাতৃভূমি বাংলাদেশের হয়ে বিমান চালিয়েছেন তিনি। যু;;’দ্ধক্ষেত্রে অনন্য সব অর্জন আর ইতিহাস গড়া সাইফুল আজমকে ২০০১ সালে ইউনাইটেড স্টেটস এয়ার ফোর্স বিশ্বের ২২ জন ‘লিভিং ইগলস’-এর একজন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

কিংবদন্তি এই বীর বাঙালি আর নেই। গত বছর জুনে ঢাকার মহাখালী ডিএসএইচওর তার নিজ বাস ভবনে তিনি ই’ন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন তিনি নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ারভাইস মা’র্শাল ফখরুল আজম তার ভাই