প্রচ্ছদ আলোচিত সংবাদ

সন্তানের জন্য হলেও বাঁচতে চান হাবিবা

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

রিয়ারেন বয়স মাত্র দুই বছর। উঠানে ছোটাছুটি, এদিক-ওদিক দৌড়াদোড়ি আর খেলাধুলা করছে, আবার একফাঁকে মিষ্টির জন্য বায়না ধরে কা’ন্না করছে। মায়ের কোলে উঠে মাকে আলি’ঙ্গন করছে। মায়ের কাছে আবদার করছে বিভিন্ন খাবার ও খেলনার জন্য।

এসব দেখে মা চোখে পানি ধরে রাখতে পারছেন না। অথচ রিয়ান জানে না তার মা উম্মে হাবিবা স্মৃ’তির কী’ হয়েছে।ঝিনাইদহ পৌর এলাকার পবহাটি গ্রামের মোল্লাপাড়া এলকার মৃ’ত রজব আলী মোল্লার একমাত্র ছে’লে রাইজুল ইস’লাম। বাবা মা’রা যাওয়ার পর সংসারের বোঝা মা’থায় নিয়ে এলাকার গ্রিজ কারখানায় শ্রমিকের কাজ করে ভালোই চলছিল সংসার।

মা, ছোট বোন, স্ত্রী’ ও দুই বছর বয়সী এক সন্তানকে নিয়ে তার সংসার। কিন্তু হঠাৎ স্ত্রী’র অ’সুস্থতার খবরে ভেঙে পড়েন রাইজুল।নিজের দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বে কথা জানিয়ে রাইজুল জানান, তার স্ত্রী’ উম্মে হাবিবা স্মৃ’তি মাঝেমধ্যেই মা’থায় ব্যথা অনুভব করতেন। তিনি বাজার থেকে ওষুধ এনে খাওয়াতেন। হঠাৎ ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের ১৯ নভেম্বর ঝিনাইদহ সমতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতা’লের নিউরোলজি চিকিৎসক রাশেদ ই’মাম জাহিদকে দেখান।

তিনি প্রাথমিকভাবে দেখে দ্রুত ঢাকা নিউরোসায়েন্স হাসপাতা’লে নিয়ে যাওয়ার পরাম’র্শ দেন।গত ১১ জানুয়ারি ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতলে গেলে সেখান থেকে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করা হয় স্মৃ’তির। পরে রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক জানান, স্মৃ’তির মা’থায় ব্রেন টিউমা’র হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব তার মা’থায় অ’স্ত্রোপচার করাতে হবে। এ বাবদ খরচ হবে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এত টাকা জোগাড় করা রাইজুলের পক্ষে সম্ভব নয় ভেবে স্বামী-স্ত্রী’ ঢাকা থেকে ফিরে আসেন। রাজ্যের চিন্তা আর সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশায় পড়েন তারা।

রাইজুলের চাচাতো ভাই এস এম ছানাউল্লাহ সূর্য বলেন, ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা স্মৃ’তির এই অসহায়ের কথা প্রচার করেছেন। কিন্তু এখনো কোনো সাহায্যের দেখা পাননি। তিনি আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি ও বিত্তবানদের সাহায্য ছাড়া রাইজুলের পক্ষে চিকিৎসা ব্যয় করার কোনো ক্ষমতা নেই।স্ত্রী’র চিকিৎসার জন্য ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু এত টাকা কোথায় পাবেন রাইজুল? এমনটা জানিয়ে রাইজুল বলেন, চিকিসৎক বলেছেন এক মাসের মধ্যে চিকিৎসা বা অ’স্ত্রোপচার করাতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এমনকি মৃ’ত্যুও হতে পারে। আমা’র পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবানরা যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমা’র স্ত্রী’ সুস্থ হবে, সন্তানও এতিম হবে না।উম্মে হাবিবা স্মৃ’তি জানান, আমা’র যদি দ্রুত চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে হয়তো আমি মা’রা যাব। তখন আমা’র এই কোলের সন্তানটা অসহায়-এতিম হয়ে যাবে। সমাজের বিত্তবানদের কাছে আমা’র আকুল আবেদন, তারা যদি আমাকে সাহায্য করেন, তাহলে সময়মতো চিকিৎসা হলে আমি বেঁচে যাব। আমা’র সন্তানের জন্য হলেও আমি বাঁচতে চাই।