প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

‘শিক্ষাখাতকে বাণিজ্যিকীকরণ করা হচ্ছে’

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

আসছে নতুন অর্থবছরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ওপর প্রস্তাবিত ১৫% কর আরোপের মাধ্যমে শিক্ষাখাতকে বাণিজ্যিকী’করণ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফন্ট।

সংগঠনটি বলছে, ‘শিক্ষাব্যবস্থাকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার যে কথা ছিল, তা না করে এর ওপর কর আরোপের মাধ্যমে শিক্ষাখাতকে বাণিজ্যিকী’করণ করা হচ্ছে।’শুক্রবার বিকালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ওপর প্রস্তাবিত ১৫% কর আরোপের প্রতিবাদে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সমাবেশে এমন মন্তব্য করে সংগঠনটি। সমাবেশ সঞ্চালন করেন সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী’।

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, এ বাজেট’কে ব্যবসায়ী আর পূঁজিবাদী সমাজ অ’ভিনন্দন জানিয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ এ বাজেট মেনে নেয়নি। কারণ তাদের জন্য বাজেটে কোনো অংশ নেই। উল্টো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার প্রস্তাবনা এসেছে। এ বাজেটের মাধ্যমে ঋণ আর ঘাটতির বোঝা সাধারণ জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থাকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার যে কথা ছিলো, তা না করে শিক্ষাখাতকে বাণিজ্যিকী’করণ করা হচ্ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে ১৫% করের প্রস্তাবনা দিয়েছে, তা আম’রা কখনোই মেনে নেবো না। অ’তীতে ছাত্রসমাজ মেনে নেয়নি, এখনো তারা মেনে নিবে না।

‘শিক্ষাকে বাণিজ্যিকী’করণ করার কোনো পায়তারা করা হলে তা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। বরং রাজপথের আ’ন্দোলনের মাধ্যমে এ দাবি আদায় করতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।’’ছাত্র ফ্রন্টের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সংসদের সভাপতি ইন্দ্রানীল দেবনাথ বলেন, কয়েকটি বিষয়ের প্রতি নজর দিলে বুঝতে পারবেন, আম’রা কেনো আ’ন্দোলন করছি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে পরিচালিত হয়, এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালিক কারা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের উৎস কী’, সরকারের কতটুকু নিয়ন্ত্রণে আছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইন বহির্ভূতভাবে ব্যবসা করছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর করারোপের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, এটা কোনো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়, এটা মুনাফা অর্জনের কারখানা। ইউজিস ও সরকার এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একমাত্র আয়ের উৎস শিক্ষার্থীদের বেতন। সুতরাং ভ্যাট শিক্ষার্থীদেরকে দিতে হবে। আর তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর করারোপের যে প্রস্তাবনা তা বাদ দিতে হবে।এ সময় একই দাবিতে এর পাশেই সমাবেশ করে ছাত্র ইউনিয়নের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। এখানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক রেশমা সাবা।

সমাবেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বাজেটের মাধ্যমে সরকার শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে জাস্টিফাই করেছে। আর যদি এই বাজেট পাশ হয়, তাহলে অফিসিয়ালি শিক্ষা পণ্য হিসেবে পরিণত হবে। এর মাধ্যমে সরকার শিক্ষা সংকোচন নীতির পায়তারা করছে।‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বলা আছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। আর যদি তারা বুঝতে পারে যে এগুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়, তাহলে কেনো এর বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, করো’না পরিস্থিতিতে যখন শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা উচিৎ ছিলো, তখন সরকার শিক্ষার্থীদের ওপর কর আরোপ করছে। আম’রা এই প্রস্তাবিত বাজেট তীব্রভাবে প্রত্যাখান করছি। যদি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত কর বাতিল না হয়, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ পূর্বের ন্যায় তীব্র আ’ন্দোলন গড়ে তুলবে।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ পার্থ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মঈন হোসেন মাইনসহ আরো অনেকে। সমাবেশ শেষে পৃথকভাবে শাহবাগ থেকে দুটি মিছিল শুরু করে টিএসসিতে গিয়ে শেষ করে সংগঠন দুটি।