রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নে হতদরিদ্র-দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিডি কার্ড নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের পরিবারের কোনো সদস্যের নামে কার্ড ইস্যু করার বিধান না থাকলেও দুস্থদের ভিজিডি কার্ড পেয়েছেন তারা। এরা সচ্ছল হলেও প্রতি মাসে ভিজিডির ৩০ কেজি করে চাল তুলে নিচ্ছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অসহায় ও দুস্থরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের ভিজিডির তালিকায় থাকা ৩২ নম্বর ভিজিডি কার্ডধারী পশু চিকিৎসক একরামুল হক। তার স্ত্রীর নামে ভিজিডির চাল তোলেন তিনি।
ভিজিডির চাল পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পশু চিকিৎসক একরামুল বলেন, ‘আগে চাকরি করতাম। এখন ওষুধের দোকান আছে। চেয়ারম্যান সাহেবকে বলছিলাম আমার স্ত্রী শিরিনা বেগমের নামে একটি ভিজিডি কার্ড করে দেয়ার জন্য। তারপর তিনি আমার বউয়ের নামে একটা কার্ড করে দেন।’
ইউনিয়ন পরিষদের তালিকায় ৮ নম্বর ভিজিডির কার্ডধারী সায়মা খাতুন বলেন, ‘আমি ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর মহিলা বিষয়ক অধিদফতর থেকে ইস্যুকৃত কার্ডে ভিজিডির চাল পাই। আমার স্বামীর দুটা ট্রাক্টর আছে। তবুও আমরা সচ্ছল নই। তাই মেম্বারকে বলার পর তিনি আমাকে একটা ভিজিডির কার্ড করে দিয়েছেন।
৪ নম্বর ভিজিডি কার্ডধারী শ্রীমতি জোসনা রানী জানান, তার স্বামী জমি আবাদ করেন। এবার জমি থেকে ২৫ মণ ধান পেয়েছেন। তাই ভিজিডির চাল প্রয়োজন হয় না। তবুও ইউপি চেয়ারম্যান তাকে ভিজিডি কার্ড দেন। সেই কার্ডটি প্রতিবেশী সোবহানের কাছে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তার দফতর সূত্রে জানা গেছে, তালিকায় ৩৬ নম্বর ভিজিডি কার্ডধারী দক্ষিণ অযোদ্ধাপুর গ্রামের তাজুল ইসলাম নিসবেতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজর সহকারী শিক্ষক। তার স্ত্রীর ফরিদা পারভীনের নামে ভিজিডি কার্ড দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে স্কুল শিক্ষক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যানের ভোট করেছি। তাই তিনি নিজ ইচ্ছায় স্ত্রীর নামে একটি ভিজিডি কার্ড করে দিয়েছেন।’ভিজিডি কার্ডের সব অভিযোগ অস্বীকার করে সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল রানা বলেন, ‘যখন ভিজিডির বরাদ্দ বণ্টন হয় তখন নির্বাচন চলছিল। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’
রংপুর সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাবিবা হেলেন বলেন, ‘কোনো জনপ্রতিনিধি অথবা সরকারি কর্মচারীর নামে ভিজিডিসহ এ ধরনের কার্ড ইস্যু করার নিয়ম নেই। অনলাইনে জনগণ আবেদন করার পর চেয়ারম্যান নিজে তালিকা থেকে দুস্থ ব্যক্তি চিহ্নিত করেছেন। এরপর আমাদেরকে ভিজিডির কার্ড তৈরি করতে বলা হলে আমরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তালিকা তৈরি করি। সেই তালিকা দিয়ে আমরা ভিজিডি কার্ড দিই। তবে আমাদের কাছে যদি লিখিত অভিযোগ আসে তাহলে আমরা সেই কার্ড বাতিল করে দিব।’
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ভিজিডি কমিটির সভাপতি ইসরাত সাদিয়া সুমি বলেন, ‘সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়ন থেকে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। আমি এ বিষয়ে তদন্ত করে ঢাকায় রিপোর্ট পাঠাব এবং সত্যিকার অর্থে কোনো স্বজনপ্রীতি হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
রংপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববি বলেন, ‘ইউনিয়ন কমিটির যাচাই বাছাই করে তালিকা তৈরি করা উচিত ছিল। কিন্তু শিক্ষক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীরা ভিজিডি কার্ড পেলে এটা আসলেই অন্যায়। যাদের ৫ শতকের উপরে জমি আছে তারা কখনোই ভিজিডির কার্ড পাওয়ার যোগ্য নয় এবং চাকরিজীবীদের তো প্রশ্নই ওঠে না।’













































