টালিউডের অন্যতম সেরা জুটি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। দীর্ঘদিন এই জুটির পর্দায় অনুপস্থিতি দর্শকমহলে বিষাদের সৃষ্টি করে। শি’বপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায়ের হাত ধরে প্রায় পনেরো বছর পর এই জুটির প্রত্যাবর্তন হয়।
ট্রেন জার্নির মধ্যে দিয়ে একটি স’ম্পর্কের জার্নি ফুটিয়ে তুলেছিলেন পরিচালকেরা। আসলে এটি কোনও ট্রেনে শুটিং করা হয় নি, ট্রেনের আদলে একটি সেট তৈরি করা হয়েছিল। শিল্প নির্দেশক নীতিশ রায় এটি তৈরি করেছিলেন। শুটিংয়ের সময় ট্রেনের ঝাঁকুনি বোঝানোর জন্য টেকনিশিয়ানরাই অনবরত ট্রেনটি ঝাঁকাতেন। আরও বিশ্বা’সযোগ্য করার জন্য পরিচালকরা সিনেমাটিতে ভা’রতীয় রেলওয়ের সমস্ত সামগ্রী ব্যবহার করেছিলেন। এর জন্য ছবির এন্ড স্ক্রোলে ভা’রতীয় রেলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পরিচালকদ্বয়।
এবার আসা যাক আরেকটি চ’মকে। ‘তুমি যাকে ভালবাসো’ গানটি এই সিনেমা’র অন্যতম ক্লাইম্যাক্স পয়েন্টে আসে। গানটির জন্য জাতীয় পুরস্কার পান সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। এখানেও রয়েছে মজার তথ্য। অনুপম রায়ের সঙ্গীত পরিচালনায় গানটি গেয়েছিলেন ইমন। অনুপম রায় শিল্পীর নাম প্রকাশ না করেই দুজনের রেকর্ডেড ভা’র্সন পাঠিয়েছিলেন পরিচালকের কাছে। পরিচালকরা না চিনেই ইমনের ভা’র্সানটি বেছে নেন। এখনও পর্যন্ত শি’বপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায় জানেন না যে দ্বিতীয় কন্ঠটি কার ছিল।
এদিকে এতবছর পর একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দর্শকদের হতাশ করেননি প্রসেনজিৎ ও ঋতুপর্ণা। তাদের একে অ’পরের দিকে তাকানো, অ’ভিমান ভাঙানো, সবই যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। ১৫ বছর পর আবার একসঙ্গে কাজে ফিরেও কোনও অস্বস্তি ছিল না দুজনের, বরং আরও ম্যাচিওর এক্সপ্রেশন ছিলো। আবারও যেন ফিরে গিয়েছিলেন পুরোনো দিনে।
এবার এই চরিত্র দুটির পেছনের গল্পটি জেনে রাখু’ন। তাদের চরিত্র দুটি মূলত রিয়েল লাইফ থেকে অনুপ্রা’ণিত। শি’বপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায় একজন জনপ্রিয় ট্যুর গাইডের জীবন থেকেই গল্পটি ভাবেন। ঋত্বিক চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী’ মধুরার চরিত্র রূপান্তরিত হয় উজান ও সুদীপায়।
অনুপম রায়ের কলকাতা গানে নিজের চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে ঋত্বিকের সঙ্গে কলকাতা সফরে বেরিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। ঋত্বিকের কথা বলা, হাঁটাচলা, কাঁধে ক্রস করে রাখা স্লিগ ব্যাগের ব্যবহার এবং তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও অ’ভিব্যক্তি চরিত্রে ঢুকতে নায়ককে সাহায্য করেছে।













































