প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

রানা প্লা’জার রানা কোন কা’রাগা’রে থাকেন, জে’নে নিন তার আচরণ…

29
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

আজ থেকে ঠিক আট বছর আগে সাভারের রানা প্লাজা ধ’সে এক হাজারের বেশি শ্রমিক নিহ’তের ঘটনা আ’লোড়ন সৃষ্টি করেছিল সারা বিশ্বে। আলোচিত এই ভবনটির মালিক সোহেল রানা ঘটনার পরপর গ্রে’প্তা’র হন। এই ঘটনায় তার বি’রুদ্ধে রয়েছে হ’ত্যা’সহ বেশ কিছু মা’মলা। এসব মাম’লার একমাত্র আ’সামি হিসেবে সোহেল রানাই আছেন কা’রা’গারে। বা’কিরা জামিনে কিংবা পলা’তক রয়েছেন। সোহেল রানার বাবাসহ মারা গেছেন দুজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের কাশিমপুর পার্ট-২ কা’রাগা’রে আছেন সোহেল রানা। সাধারণ ব’ন্দীদের মতোই তিনি সেলে থাকেন। প্রায় আট বছর ধরে কা’রা’গারে থাকার কারণে কা’রাজী’বনের সঙ্গে অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। ভাবলেশহীন অবস্থায় দিন কাটান। ইতিহাসে স্থান করে নেয়া ভ’য়ংকর ট্রা’জেডির জন্য দায়ী হিসেবে তেমন কোনো অনুশোচনাবোধও তার মধ্যে লক্ষ্য করা যায় না বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

কা’রাগারের একটি সূত্র জানায়, সাধারণ ব’ন্দীদের সঙ্গে একটি সেলে থাকেন এক সময় বিলাসবহুল জীবনযাপনকারী এই সোহেল রানা। তিনি সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠে যান। অন্যান্য বন্দীদের সঙ্গে গ’ল্পগু’জব করে সময় কাটান। কা’রাগার থেকে দেয়া সাধারণ খাবারই খান। আগে পরিবারের সদস্যরা নিয়ম করে তাকে দেখতে গেলেও গত এক বছর ধরে করোনার প্রকোপের কারণে খুব একটা যান না। এছাড়া গত বছর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক। বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে না পারার আক্ষেপ আছে রানা প্লাজার মালিকের মধ্যে।

কাশিমপুর পার্ট-২ কারাগারের জেলার মো. আবু সায়েম বলেন, ‘সোহেল রানা একজন সাধারণ ব’ন্দী। অন্য আর দশজনের মতোই কা’রাগা’রে আছেন। কারাগারে দেয়া খাবার খান। তবে প্রিজন ক্যান্টিন থেকেও চাইলে খাবার কিনে খেতে পারেন। কা’রাবিধি মোতাবেক তিনি সব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।’

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে নয় তলা বিশিষ্ট রানা প্লাজা ভবনটি ধ’সে পড়ে। ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে নবম তলা পর্যন্ত ছিল পাঁচটি পোশাক কারখানা। এতে প্রায় চার হাজার পোশাক শ্রমিক কাজ করতেন। ভবন ধসের সঙ্গে সঙ্গে ধ্বং’সস্তূ’পের ভেতরে চা’পা পড়েন চার হাজার পোশাক শ্রমিক। তাদের কান্না আর আ’হাজা’রিতে শোকের মাতম নেমে আসে পুরো সাভারে। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে দুই হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়, যাদের বেশির ভাগই প’ঙ্গু’ত্ব বরণ করে। ভয়াবহতম এই ট্রাজেডিতে এক হাজার ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরপর ভবনটির মালিক সোহেল রানা পালিয়ে দেশত্যা’গের চেষ্টা করেন। ঘটনার চার দিন পর যশোরের বে’নাপোল থেকে তাকে গ্রে’প্তা’র করে পুলিশ। এরপর থেকে রানা কা’রাগা’রেই আছেন। মাঝে ২০১৭ সালে একটি দু’র্নী’তি মা’মলায় তার তিন বছরের কা’রাদ’ণ্ড হয়েছে।

রা’না প্লা’জার ঘটনায় করা হ’ত্যা মাম’লার বিচার এখনো থমকে আছে। মা’মলার চা’র্জশি’টভুক্ত দুই আ’সামির পক্ষে উচ্চ আদালতের স্থগি’তাদেশ থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।কবে নাগাদ মা’মলা’টির সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হবে, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানাতে পারেননি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মিজানুর রহমান।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘রানা প্লাজা ধসের ঘটনার হ’ত্যা মা’মলা’য় দুজন আ’সা’মির পক্ষে উচ্চ আদালতের স্থগি’তাদেশ বহাল থাকার কারণে সা’ক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

জানা যায়, দেশ-বিদেশে আ’লো’ড়ন সৃষ্টি করা এ ঘটনায় মোট তিনটি মা’মলা হয়। এর মধ্যে অবহে’লাজনি’ত মৃ’ত্যুর অভি’যোগ এনে হ’ত্যা মা’মলাটি করে পুলিশ। ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘ’ন করে ভবন নি’র্মাণের অ’ভিযোগে অপর মাম’লাটি করে রাজ’ধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আর দুর্নী’তি দমন কমিশন (দুদক) ভবন নির্মাণ’সংক্রান্ত দু’র্নীতি নিয়ে আরেকটি মা’মলা করে।

২০১৬ সালের ১৮ জুলাই হ’ত্যার অ’ভিযোগে সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরু’দ্ধে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত অভি’যোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।ঢাকা জেলার পিপির দপ্তর সূত্র বলছে, বিচারিক আদালতের অভি’যোগ গঠনের আদেশের বৈধতা চ্যালে’ঞ্জ করে আট আ’সামি হাইকোর্টে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে এই আটজনের পক্ষে হাইকোর্টের স্থগি’তাদেশ আসে। ইতিমধ্যে ছয় আ’সামির স্থগি’তাদেশ প্র’ত্যাহার করা হয়েছে। কেবল সাভার পৌরসভার তৎকালীন মেয়র রেফায়েত উল্লাহ এবং তৎকালীন কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী খানের পক্ষে স্থগিতা’দেশ বহাল আছে।

রানা প্লাজা ধ’সের জন্য ছয়জন সরকারি কর্মকর্তাকে অ’ভিযোগ’পত্রভুক্ত আ’সামি করার অনুমতি না পাওয়ার কারণে তিন বছর ঝুলে ছিল এই মা’মলা। সে সময় জনপ্রশাসন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুক্তি ছিল, যারা বড় অপরা’ধ করেননি, তাদের অভি’যোগপত্রভু’ক্ত আ’সামি করার অনুমতি দিতে পারবে না তারা। শেষ পর্যন্ত সরকারের অনুমোদন না পাওয়া গেলেও তাদের বি’রু’দ্ধে অভিযো’গপত্র দেয় পুলিশ।

আদালত সূত্র বলছে, রানা প্লাজা ধস হ’ত্যা মাম’লায় ৪১ আসা’মির মধ্যে বর্তমানে কা’রাগা’রে আছেন একজন। তিনি হলেন আলোচিত ভবনটির মালি’ক সোহেল রানা। জামিনে আছেন ৩২ আ’সা’মি। প’লাত’ক ছয়জন। সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেকসহ মা’রা গেছেন দুই আ’সা’মি।