মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ম্যাচে গতানুগতিক বোলিং ধারা বজায় রাখতে পারলেন না মুস্তাফিজুর রহমান। সঙ্গে পারেননি বাকি বোলাররাও। ১৭২ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েও তাই রাজস্থান রয়্যালসকে হারতে হয়েছে ৭ উইকেটে। আগে ব্যাট করে সঞ্জু স্যামসনের দল ১৭১ রানেই ইনিংস শেষ করে।
১৭২ রানের লক্ষ্য ৯ বল বাকি রেখে ৩ উইকেটেই পেরিয়ে যায় রোহিত শর্মার দল। বাংলাদেশী সমর্থকদের হতাশ করে ফিজ ৩ ওভার ৩ বলে ৩৭ রান দিয়ে পেয়েছেন ১ উইকেট। মুম্বাইয়ের ইনিংসের চতুর্থ ওভারে মুস্তাফিজকে বোলিংয়ে আনেন রাজস্থান অধিনায়ক। প্রথম বলেই তাকে চার হাঁকিয়ে স্বাগত জানান কুইন্টন ডি কক। পরের বলেই হাঁকান একটি ছয়। ফলে দুই বলে ১০ রান দিলেও বাকি ৪ বলে ফিজ ছিলেন নিয়ন্ত্রিত। রোহিত আর ডি কক মিলে নিতে পারেন মাত্র ৩ রান।
নিজের প্রথম ওভারে ফিজ দেন ১৩ রান। এর ৩ ওভার পর ফিজ করতে আসেন তার দ্বিতীয় ওভার। এবারও প্রথম বলে চার আদায় করে তাকে স্বাগত জানান সূর্যকুমার যাদব। বাকি ৫ বলে অবশ্য ৪ রানের বেশি দেননি কাটার মাস্টার। ওভারের তৃতীয় বলে ছিল লেগ বিফোরের জোড়ালো আবেদন। আম্পায়ার সাড়া না দেয়ায় রিভিউ নেন রাজস্থানের অধিনায়ক। কিন্তু পরে দেখা যায় বল গিয়ে আগে ডি ককের ব্যাটে আঘাত হানে। বাতিল হয় আউটের আবেদন, উইকেট বঞ্চিত হন ফিজ। এই ওভারে দেন ৮ রান।
তৃতীয় ওভারে অবশ্য ঘুরে দাড়ান। তার প্রথম বলে ক্রুনাল পান্ডিয়া ছয় হাকালে, চতুর্থ বলেই তাকেই আবার বোল্ড করেন ফিজ। পঞ্চম বলে অবশ্য নতুন ব্যাটসম্যান পোলার্ডকে একবার কাটারে বিদ্ধস্তও করেন। শেষ বলে ১ রান নিলে এই ওভারে ফিজ দেন ৭ রান। আর উইকেট ১টি। নিজের চতুর্থ ওভার করেন যখন জয়ের জন্য ১২ বলে ৯ রান প্রয়োজন মুম্বাইয়ের। ফিজ প্রথম তিন বলে ৯ রান দিলে মুম্বাইয়ের জয় নিশ্চিত হয়।
১৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৯ রানের সময় রোহিতের উইকেট হারায় মুম্বাই। তার ব্যাট থেকে আসে ১৭ বলে ১৪ রান। তাকে চেতন সাকারিয়ার ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরের পথ দেখান ক্রিস মরিস। সূর্যকুমারের উইকেটিও তার। আউট হবার আগে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান করেন ১০ বলে ১৬ রান। রোহিতের সঙ্গি ডি কক শুরুতে মন্থর ব্যাটিং করলেও পরে খেলতে থাকেন হাত খুলে, উইকেটের চারপাশে। দলকে জয় পাইয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৫০ বলে ৭০ রানে।
তাকে কিছুটা সময় সঙ্গ দেন ক্রনাল পান্ডিয়া। যদিও ফিজের বলে আউট হবার আগে ২৬ বলে ৩৯ রানের বেশি করতে পারেননি। ডি ককের সঙ্গে দলের জয় নিশ্চত করে মাঠ ছাড়েন কায়রন পোলার্ডও। তার ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ১৬ রান। এদিকে ম্যাচের শুরুতে মুম্বাই টসে জিতে রাজস্থানকে আগে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায়। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে তারা সংগ্রহ করে ৪ উইকেটে ১৭১ রান। জস বাটলার আর যশস্বী জয়সওয়ালের ব্যাটে প্রথম উইকেট জুটিতে আসে ৬৬ রান।
জয়সওয়াল কিছুটা ধীরে সুস্থে খেললেও বাটলার খেলতে থাকেন হাত খুলে। ৩২ বলে ৪১ রান করে রাহুল চাহারের লেগ স্পিন বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন। জয়সওয়াল আউট হয়েছেন ৩০ বলে ৩২ রান করে। তাকেও শিকার করেন চাহার।
এরপর অধিনায়ক স্যামসনও খেলতে থাকেন বেশ আক্রমণাত্বক। যদিও ২৭ বলে ৪২ রানের বেশি করতে পারেননি। আউট হয়েছেন ট্রেন্ট বোল্টের অসাধারণ এক ইয়োর্কারে। তাকে সঙ্গ দেয়া শিভাম দুবে আউট হয়েছেন ৩১ বলে ৩৫ রান করে। তার উইকেটের পাশে জাসপ্রিত বুমরাহর নাম। শেষ দিকে অবশ্য ডেভিড মিলার অপরাজিত ছিলেন ৭ রানে অপরপ্রান্তে রিয়ান পরাগ ৮ রানে। মুম্বাইয়ের হয়ে চাহার পেয়েছেন সর্বোচ্চ ২ উইকেট।













































