প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

মুনিয়ার একের পর এক পুরুষ শিকার ছিলো নেশা ও পেশা

7
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

কুমিল্লায় নবম শ্রেণিতে পাঠরত অবস্থাতেই মোসারাত জাহান মুনিয়া পাশের গ্রামের নিলয় নামের এক যুবকের গলায় ঝুলে পড়েছিলেন। বিবাহিত, দুই সন্তানের জনক নিলয়ের হাত ধরে বাড়ি ছেড়ে অজানা উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন, শুরু করেছিলেন দাম্পত্য জীবন। কিন্তু মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থা’নায় নিলয়কে আ’সামি করে নারী নি’র্যাতন সংক্রান্ত মা’মলা রুজু করেন। মা’মলায় বলা হয়, আমা’র অ’প্রাপ্ত বয়স্ক বোনকে ফুসলিয়ে অ’পহ’রণ করে অ’জ্ঞাত স্থানে নিয়ে তার সম্ভ্রম লুটসহ জানমালের ভ’য়াবহ ক্ষতির শ’ঙ্কা করছি। দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পরে কুমিল্লার পু’লিশ ফেনীতে নিলয়ের এক আত্মীয় বাড়িতে অ’ভিযান চালিয়ে উ’দ্ধার করে আনে মুনিয়াকে। কিন্তু ততদিনে মুনিয়া-নিলয় রীতিমতো বিয়েশাদি করে ঘরসংসার শুরু করে দিয়েছিল। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় গ্রাম্য বৈঠকে মোটা অঙ্কের জ’রিমানা আদায়ের মাধ্যমে নিলয়-মুনিয়ার বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটানো হয় এবং যে যার পরিবারে ফিরে যায়।

নিলয়ের সঙ্গে পালিয়ে থাকা থাকাবস্থায় বেশ কিছুদিন রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় নিলয়ের বন্ধু হিরুর আশ্রয়ে অবস্থান করতে হয়েছিল মুনিয়াদের। তার মাধ্যমেই বিএফডিসিতে আসা-যাওয়া, শুটিং, আড্ডাবাজি, নাচ-গান, ফুর্তির সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠে মুনিয়া। এবার সে শোবিজের প্রতি উৎসাহী হয়ে ওঠে। কিন্তু এর মাঝেই বোনের অ’পহ’রণ মা’মলায় পু’লিশি তৎপরতায় কোথাও পালিয়ে থাকার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষমেষ নিলয়ের আত্মীয়ের বাড়ি ফেনীর পল্লীতে গিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করে তারা।

নিলয়ের সঙ্গে প্রে’ম-বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর দুই বছর বড় বোনের কাছে থেকে পড়াশোনা চালালেও এসএসসি পরীক্ষা দিয়েই মুনিয়া পাড়ি জমিয়েছিলেন ঢাকার উদ্দেশে। নিলয়ের হাত ধরে পরিচিত হিরু মিয়ার মাধ্যমে শোবিজ জগতে ওঠা-বসা শুরু হয় তার, আর পেছনে তাকাতে হয়নি মুনিয়ার। এরপর একের পর এক প্রে’মিক বদলে মুনিয়া হয়েছে অ’ভিজাত, বোন-ভগ্নিপতিকে বানিয়েছে ধনাঢ্য। পিয়াসা সিন্ডিকে’টের সদস্য মোসারাত জাহান মুনিয়া হয়ে উঠছিলেন আরেক পাপিয়া? হাতবদল আর একটার পর একটা প্রে’মিক পাল্টানোর মাধ্যমে মুনিয়া যেমন আভিজাত্যের শীর্ষে পৌঁছেছিলেন তেমনি নিজের বোন-ভগ্নিপতিকেও ধনাঢ্য করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

মা-বাবা মৃ’ত্যুর পর এই বোন-ভগ্নিপতিই ছিল তার একমাত্র অ’ভিভাবক। কিন্তু দুহাতে অঢেল টাকা কামানোর ধান্ধায়, অর্থবিত্তের লো’ভে মুনিয়ার জীবন কোথায় পৌঁছে যাচ্ছে সে খবর নেওয়ার কোনো দরকারই তারা মনে করেননি। বরং ছোট বোনকে যথেচ্ছ চলাচল, যার সঙ্গে খুশি দিন-রাত যাপনের অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে বোন-ভগ্নিপতি হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।

মুনিয়ার নে’শা ও পেশা ছিলো একের পর এক পুরুষ শিকার ও টাকা কামানো। বহু হাত ঘুরতে ঘুরতে তার এ ম’র্মা’ন্তিক পরিণতি। আত্মহনন।

রাজধানীর গুলশানের অ’ভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার মৃ’তদেহ উ’দ্ধারের পর থেকেই ট’ক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয় মুনিয়া। কুমিল্লার একটি সাধারণ পরিবারের মে’য়ে মোসারাত জাহান মুনিয়া। তার পুরো পরিবার কুমিল্লায় থাকলেও ২০১৭ সাল থেকেই ঢাকায় একাকী’ থাকছেন তিনি। এসএসসি পাসের পর থেকেই মুনিয়ার স্বপ্ন ছিল সিনেমায় কাজ করার। এক প্রযোজকের হাত ধরে পরিচয় হয়েছিল ঢাকাই সিনেমা’র এক নায়কের সঙ্গে। তার সঙ্গে অল্প কিছুদিন লিভ টুগেদারের পর তার আকাশ কুসুম স্বপ্নজাল হঠাৎ ছিন্ন হয়। সেই অ’ভিনেতার সঙ্গে অন্তরঙ্গ স’ম্পর্কে ছেদ পড়তেই বেসামাল হয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে অ’ভিনেতা বাপ্পী রাজের সঙ্গে পরিচয় হয় মুনিয়ার। পরিচয় থেকে গভীর প্রে’ম। বাপ্পীর মিরপুরের বাসায় নিয়মিত একান্তে দেখা হতো তাদের। ওই বাসাতেই শোবিজের অনেকের সঙ্গেই আড্ডায় মেতে উঠতেন তারা। সেখানেই তাদের গ্রুপভিত্তিক নানারকম স’ম্পর্কের মজাদার সব কাহিনি ছড়িয়ে আছে শোবিজের অন্দরে-বাইরে। এক দিন দেখা গেল প্রে’মিকা মুনিয়া বিয়ের দাবিতে বাপ্পীর বাসায় গিয়ে ধরনা ধরে। সেখানে টানা দুদিন অবস্থানের পর আত্মহ’ত্যা করারও চেষ্টা করে সে। পরে বাপ্পী রাজের বন্ধু-বান্ধবীরা বুঝিয়ে-শুনিয়ে মুনিয়াকে বাপ্পী রাজের বাসা থেকে বের করে নিয়ে যান।

জানা যায়, এরপর থেকেই অ’ভিনেতা বাপ্পী রাজের কাছ থেকে উধাও হয়ে যায় মুনিয়া। তারপর এক সঙ্গীতশিল্পীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠলেও মুনিয়া যোগ দেয় পিয়াসা সিন্ডিকে’টে।

মুনিয়াকে নিয়ে যা বললেন বাপ্পী রাজ: মুনিয়ার সঙ্গে প্রে’মের বিষয়ে বাপ্পী রাজ বলেন, ‘আমা’র সঙ্গে ভালো স’ম্পর্ক ছিল। আমি মন থেকে ওকে পছন্দ করতাম। আমা’র পুরো পরিবার বিষয়টি জানত। স’ম্পর্কের মাঝে হঠাৎ গ্যাপ হয়ে গেল। তারপর মুনিয়া কোথায় যেন হারিয়ে গেল।’ বাপ্পী রাজ আরও বলেন, ‘গত বছর আমি খুলনাতে ছিলাম। এখনও খুলনাতেই আছি। তখন বলেছিল, আম’রা বিয়ে করেছি। তারপর চার-পাঁচ দিন টানা কথা হয়েছিল আমাদের, ও সেখান থেকে বেড়িয়ে আসতে চাইছিল। তারপর আবার রাগ করে ব্লক করে দেয়।’

আপনার সঙ্গে কবে নাগাদ স’ম্পর্ক ছিল? আর মুনিয়া তখন কিসে পড়ত? জানতে চাইলে বাপ্পী আরও বলেন, ‘২০১৭-১৮ সালে, দুই বছর আমাদের স’ম্পর্ক ছিল। আসলে তো লুকোচু’রি লুকোচু’রি ভাবেই আমা’র ওর বিষয়গুলো শেয়ার করত। ওর বোনের (নুসরাত) সঙ্গেও ফেসবুকে আমা’র কথা হয়েছে। আগের আইডিটি এখন আর নেই।’

বাপ্পী রাজ ছাড়াও একাধিক প্রে’মের স’ম্পর্ক ছিল মুনিয়ার। সে বেশ আড্ডাবাজ ছিল। সব ধরনের আসরেই ওঠাবসা ছিল তার। গুলশানের ওয়েস্টিনে নিয়মিত আড্ডাবাজির কারণে বহুল আ’লোচিত পাপিয়ার সঙ্গেও স’ম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। কিন্তু অ’তিমাত্রার উচ্চাভিলাষী মুনিয়ার আশপাশে থাকা নিরাপদ মনে করেননি পাপিয়া। তাই পাপিয়া নিজেই সরে যান মুনিয়ার পাশ থেকে। ওই সময় পাপিয়া তার ঘনিষ্ঠজনদের বলতেন, এই মে’য়ে (মুনিয়া) বড়ই ভ’য়ঙ্কর, সে সাপের মুখেও চুমু খায়, ব্যঙের মুখেও চুমু খায়।’ পাপিয়ার সে অগ্রিম বার্তাকেও সত্য হিসেবেই প্রমাণ করে ছেড়েছেন মুনিয়া। হুইপপুত্র শারুনের সঙ্গেও অন্তরঙ্গ স’ম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন। মুনিয়াকে দিয়ে একজন শিল্পপতির পুত্রকে ছবি দিয়ে ব্লাকমেইল করাতে উৎসাহ দিচ্ছিলেন হুইপ পুত্র শারুন। বিভিন্ন সময়ে শারুনের কাসাথে মুনিয়ার কথোপকথনের প্রমাণাদি এখন পু’লিশের হাতে। এর ভিত্তিতে ইতোমধ্যেই হুইপপুত্র শারুনকে পু’লিশ এক দফা জিজ্ঞাসাবাদও করেছে।

হুইপপুত্র শারুনের সঙ্গেও অন্তরঙ্গ স’ম্পর্ক মুনিয়ার: গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার ঝুলন্ত লা’শ উ’দ্ধারের পর আত্মহ’ত্যায় প্র’রোচনা মা’মলার ত’দন্ত শুরু করেছে পু’লিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হুইপপুত্র শারুন চৌধুরীর সঙ্গে মুনিয়ার কিছু কথোপকথনের স্ক্রিনশটের সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার বিকালে একটি সূত্র তার কাছে কিছু তথ্য জানতে চায়। শারুন সরকারদলীয় হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর ছে’লে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের এক ব্যাংক কর্মক’র্তাকে আত্মহ’ত্যায় প্র’রোচনা দেওয়ার অ’ভিযোগ ওঠে শারুনের বি’রুদ্ধে। ওই অ’ভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন শারুন।

সূত্র: দৈনিক সময়ের আলো