ঋত্বিক চক্রবর্তী ঢাকায় যখন এসেছিলেন তখন তাকে কেউ চিনতো না, কিংবা তিনিও কাউকে চিনতেন না। এসেছিলেন থিয়েটারের সঙ্গে। তখন একজন সাধারণ নাট্যকর্মী ছিলেন। তাই থিয়েটারের রিহার্সেল আর শো করেই ফিরে যেতে হয়েছিল কলকাতায়।
খুব পরিচিত অ’ভিনেতা হয়ে ওঠেননি যার ফলে আবদার করে যে ঢাকা শহরটা ঘুরবেন সেটা হয়ে ওঠেনি। তার আবদার কে শুনবে? তবে আফসোস থেকেই গিয়েছিল শহরটা দেখা হলো না বলে। বছর তিনেক আগে এক দুপুরে কথা বলছিলেন ঋত্বিক চক্রবর্তী।বাংলাদেশি অ’ভিনেত্রী অ’পি করিমের বিপরীতে ঋত্বিক তখন ডীব্রি অফ ডেজায়ার বা মায়ার জঞ্জাল নামের একটি ছবিতে অ’ভিনয় করছিলেন। শুটিং চলছিল।
সেখানেই কথা হয়েছিল আমাদের কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে। শনিবারের সেই দুপুরে ঋত্বিক এক ঝাঁক বাংলাদেশি পেয়ে আফসোসের ডালা খুলেছিলেন। তবে ইচ্ছের কথাও জানাতে ভোলেননি।বলেছিলেন, ‘হয়তো আফসোসটা রয়েছে বলেই ঢাকায় যেতে করে খুব। গিয়ে খুব ঘুরবো আর স্ট্রিট ফুড খাবো। কিন্তু জানো তো এখন আমা’র একটু পরিচয় হয়েছে,
নিজে যে বাজার করবো সেটাও হয়ে ওঠে না। বাজার গেলেও মানুষজন চিনে ফেলে। স্বাভাবিক কাজ করা হয়ে ওঠে না। যখন কেউ চিনতো না তখন আবার সাম’র্থ ছিল না। তকহন অবশ্য আমা’র পরিবারের লোকজনেরাও আমা’র ওপর ভরসা করতো না। এখন খুব ব্যস্ত হয়ে গেছি। সপ্তাহে একটা দিন পরিবারকে সময় দেই। তবে খুব ইচ্ছে একটু ছুটি বের করেই ঢাকায় রওনা হয়ে যাবো।
তিন বছ্র আগে আমাদের বলেছিলেন ঋত্বিক আসবেন ঢাকায় কিন্তু তার ঢাকায় আসা হয়ে ওঠেনি। ঋত্বিকের এই বঙ্গ অর্থাৎ বাংলাদেশে স্বজন কেউ না থাকলে বিশেষ একটা টান বোধহয় রয়ে গেছে। সেটা কিসের? সেই ঢাকায় এসে অ’পূর্ণতার? জানা হয়নি। তবে টান, হ্যাঁ সেটা রয়ে গেছে। এই যেমন আজ, নিজের ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়েছেন। নিজের কয়েকটা ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘শহরে বৃষ্টি জল্কাদামাখানোংরা দেদার’ ছবিগুলোতে বৃষ্টির উপস্থিতিতি দিয়ে দিয়েছেন। সেখানেই প্রথম বিশ্বা’স নামের একজন তরুণ স্কুল শিক্ষক লিখেছেন, ‘দাদা আপনাকে হিমুর চরিত্রে দেখতে চাই।’
না প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাননি ঋত্বিক। উত্তর দিয়েছেন। লিখেছেন, ‘এখন মনে হচ্ছে হিমু হয়ে আছি। হলুদ পাঞ্জাবি টা ভিজে গেছে তাই তাই টি-শার্ট এ.’ বোঝা গেল হু’মায়ূন আহমেদকে আত্মস্ত করেছেন কতটা, কতটা এই বাংলাকে আর শহরে হেঁটে যাওয়া এক বাউণ্ডুলে যুবক হিমুকে।ঋত্বিক চক্রবর্তী তার ক্যারিয়ার শুরু করেন বাংলা থিয়েটার এ কাজ শুরুর মাধ্যমে। অনেক সংগ্রাম করে তিনি আজকের এই স্থানে আসতে পেরেছেন। তারপরে তিনি ২০০৮ সালে রুদ্রনীল ঘোষ এর সাথে ক্রস কানেকশন এ কাজ করার মাধ্যমে বড় পর্দায় আসেন।













































