প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

ভাত বেঁচে পেট চালাই, ‘সিসা অবৈধ কি-না তা আমার জানা নেই: ওমর সানি

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে আরএম সেন্টারে ‘মন্টানা লাউঞ্জ’ রেস্তোরাঁয় নিষিদ্ধ মা’দক সিসা ও সিসা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জ’ব্দসহ ঘটনাস্থল থেকে গ্রে’ফতার হওয়া ১১ জনকে আ’সামি করে মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী একটি মা’মলা দায়ের করেছে গুলশান থা’না পু’লিশ।

তবে ওই মা’মলায় অ’বৈধ সিসা বার পরিচালনাকারী ও ‘মন্টানা লাউঞ্জ’ রেস্তোরাঁর মালিক ফারদিন এহসান স্বাধীনকে আ’সামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

তিনি তারকা দম্পতি মৌসুমী ও ওম’র সানীর ছে’লে পু’লিশ বলছে, সিসা একটি নিষিদ্ধ মা’দকদ্রব্য। সিসা বার পরিচালনা, বিক্রি ও সেবন আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে অ’বৈধ ও নিষিদ্ধ। মন্টানা লাউঞ্জ রেস্তোরাঁয় অ’ভিযান চালিয়ে সিসা ও সিসা সেবনের সরঞ্জামাদিসহ গ্রে’ফতার হওয়া ১১ জনকে গ্রে’ফতার করা হয়।

তাদের মধ্যে কয়েকজন রেস্তোরাঁর সেফ (রাঁধুনি) এবং বাকিরা ওয়েটার হিসেবে সেখানে সিসা লাউঞ্জে কাজ করতেন। তবে অ’ভিযানের সময় রেস্তোরাঁর মালিক ফারদিন এহসান স্বাধীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

এদিকে, বাবা ওম’র সানীর দাবি, ওই রেস্তোরাঁটি মূলত ফুড আইটেম (খাবার) বিক্রি করা হতো। তবে সেখানে ৯০ শতাংশ ফুড আইটেম এবং ১০ শতাংশ সিসা লাউঞ্জ হিসেবে পরিচালিত হতো। রেস্তোরাঁটির মালিক ও তার ছে’লে ফারদিন এহসান স্বাধীন কোনো বে-আইনি কাজ করেনি বলেও দাবি করেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পু’লিশের (ডিএমপি) গুলশান থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) মো. আবুল হাসান বাংলানিউজকে বলেন, ‘গুলশানে মন্টানা লাউঞ্জ নামে একটি অ’বৈধ সিসা বারে অ’ভিযান চালিয়ে সিসা ও সিসা সেবনের সরঞ্জামাদিসহ ১১ জনকে হাতেনাতে গ্রে’ফতার করা হয়। তাদের বি’রুদ্ধে মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মা’মলা দায়ের করা হয়েছে। ’

সিসা বাব পরিচালনাকারী ও রেস্তোরাঁর মালিককে আইনের আওতায় আনা হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে যাদের হাতেনাতে গ্রে’ফতার করা হয়েছে শুধুমাত্র তাদেরই আ’সামি করা হয়েছে। মা’মলা’টি এখন ত’দন্তের বিষয়ে। ত’দন্ত সাপেক্ষে প্রমাণ মিললে রেস্তোরাঁর মালিককেও আইনের আওতায় আনা হতে পারে। তবে মা’মলা’টি এখন ত’দন্তাধীন রয়েছে। ’

এদিকে গ্রে’ফতার হওয়া আ’সামিদের রি’মান্ডের আবেদন করে আ’দালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে বুধবার (১৯ মে) দুপুরে ওম’র সানী বাংলানিউজকে বলেন, ‘সিসা অ’বৈধ কি-না তা আমা’র জানা নেই। আমি যতটুকু জানি সিগারেটে ১ দশমিক ৬ শতাংশ নিকোটিন থাকে।

তবে সিগারেটের চেয়ে কম পরিমাণে সিসাতে নিকোটিন থাকে। আমাদের মূল ব্যবসা হচ্ছে রেস্তোরাঁয় খাবার বিক্রি করা। এরসঙ্গে মাত্র ১০ শতাংশ হচ্ছে সিসা লাউঞ্জ। গুলশান-বনানীর ট্র্যাডিশন (ঐতিহ্য) হিসেবে রেস্তোরাঁয় সিসা রাখতে হয়। এটি রেস্তোরাঁয় একটি সাপ্লিম্যান্ট হিসেবে চলে। ’

তিনি আরও বলেন, ‘আম’রা আইনের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। এখন পু’লিশ যদি আমাদের রেস্তোরাঁয় সিসা অফ (বন্ধ) করে দেয় তাতে আমা’র কোনো আ’পত্তি নেই। কিন্তু গুলশান বনানীসহ বাংলাদেশে অন্তত এক-দেড়শ (১০০ থেকে ১৫০) সিসা লাউঞ্জ বা সিসা বার রয়েছে। শুধু গুলশান ও বনানীতেই ৩০-৪০টি সিসা বার চলছে। তবে এগুলো সবই বন্ধ করা উচিত। সিসা বার অ’বৈধ হয়ে থাকলে আমি এগুলো চালাবো না। চালাতে চাই না। ’

২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ‘মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮’ কার্যকর হয়েছে। ওই নতুন আইনে সিসাকে মা’দকদ্রব্যের ‘খ’ শ্রেণির তালিকাভুক্ত করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন আইনে মা’দক স’ম্পর্কিত অ’প’রাধ প্রমাণিত হলে ন্যূনতম এক বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদ’ণ্ড ও নগদ অর্থদ’ণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সিসাকে নিষিদ্ধ মা’দক হিসেবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও রাজধানীর গুলশান, বনানী ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ও গো’পনে সিসা বার পরিচালনা করে আসছে অসাধু রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। আইনে সিসা সেবন, বিক্রি ও সিসা বার পরিচালনা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হলেও কেউ তোয়াক্কা করছেন না। তারা নানা কৌশলে নিষিদ্ধ সিসা কেনাবেচা অব্যাহত রেখেছেন।

মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মক’র্তারা জানান, এর আগে অধিদফতরের পক্ষ থেকে গুলশান-বনানী ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন স্থানে ও রেস্তোরাঁয় এবং সিসা লাউঞ্জে অ’ভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে নিষিদ্ধ মা’দক সিসা ও সিসা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উ’দ্ধারসহ অনেক আ’সামিকে গ্রে’ফতার করা হয়। এরপরও সিসা লাউঞ্জ বন্ধ হয়নি। গো’পনে গো’পনে বিভিন্ন নামি-দামি রেস্তোরাঁয় চলছে অ’বৈধ সিসা লাউঞ্জ।

এদিকে মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের ডেপুটি ডিরেক্টর (ডিডি) মুকুল জ্যোতি চাকমা বাংলানিউজকে বলেন, ‘মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯০ এর সিসা মা’দক হিসেবে তফসিলভুক্ত ছিল না। এরপর ২০১৮ সালে নতুন আইনে সিসা মা’দক হিসেবে তফসিলভুক্ত হয়। ’

‘কিন্তু আইনের ব্যাখ্যায় বলা আছে, যদি সিসার মধ্যে ০ দশমিক ২ এর বেশি মাত্রায় নিকোটিন থাকে তবে তা মা’দক হিসেবে গণ্য হবে এবং আইনের আওতায় পড়বে। আর নিকোটিনের পরিমাণ এর কম হলে সেটি আইনে বাইরে থাকবে। ’

তিনি আরও বলেন, ‘আম’রা বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অ’ভিযান চালিয়েছি। ফলে ওই সব প্রতিষ্ঠানগুলো আ’দালতে রিট করেছে, যেন অহেতুক তাদের হয়রানী না করা হয়। তবে আম’রা বিভিন্ন সিসা লাউঞ্জের নমুনা নিয়েছি। সেগুলো আম’রা রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছি। ওই প্রতিবেদন এলেই আম’রা সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেবো। ’