ঘটনাটি ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন ভা’রতের কেরালার নিজ বাড়ি থেকে প্রে’মিকার কাছে পালিয়ে আসেন সাজিতা নামের এক নারী। আশ্রয় নেন প্রে’মিক আইলুর রহমানের ঘরে। এরপর তারা একসাথে বদ্ধ ঘরে থাকতে শুরু করেন। বিষয়টি আইলুরের মা-বাবাও টের পাননি।
সে সময় থা’নায় মে’য়ে নি’খোঁজ বলে সাজিতার মা-বাবা ডায়েরি করেন। পরে আইলুরকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল পু’লিশ। কিন্তু আইলুর কিছু স্বীকার করেননি। পু’লিশের অনুসন্ধানেও কিছু বের হয়নি। দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় মে’য়েকে ভুলতেই বসেছিলেন সাজিতার মা-বাবা। ধরেই নিয়েছিলেন যে তাদের মে’য়ে মা’রা গেছেন।
কিন্তু ১১ বছর ধরে প্রে’মিকা সাজিতা (২৮) কে সাথে নিয়ে কেরালায় পালাক্কাড় শহরের কাছে একটি গ্রামে নিজের বাড়িতে লুকিয়ে রেখে রীতিমত সংসার করছেন আইলুর রহমান (৩৪)। সবাইকে জানিয়ে বিয়ে করতে গেলে পরিবারের বাঁ’ধার মুখে পড়বেন, তাই কাউকে না জানিয়েই একসাথে সিদ্ধান্ত নেন তারা।কিন্তু একই বাড়িতে বসবাস করলেও অন্য বাসিন্দারা টের পাননি আইলুর-সাজিতার সংসার জীবনের কথা। কারণ সাজিতাকে নিজের ঘরে লুকিয়ে রেখেছিলেন আইলুর।তিন মাস আগে আইলুর তার বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে তার মা-বাবা নি’খোঁজের ডায়েরি করেন। এরপর তার ভাইয়ের সাথে সম্প্রতি দেখা হলে পুরো বিষয়টি সামনে আসে বলে জানায় ভা’রতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
বৃহস্পতিবার (১০ জুন) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মা-বাবা, ভাইবোনের সঙ্গে যে বাড়িতে থাকতেন আইলুর, সে বাড়িতেই নিজের ঘরে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা প্রে’মিকা সাজিতাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। ঘরটি সব সময় বন্ধ থাকতো। আইলুর ঘরে থাকলে ভেতর থেকে, আর বাইরে গেলে তালা দিয়ে দরজা বন্ধ রাখতেন।এভাবে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় স্বেচ্ছায় সেখানে থেকেছেন সাজিতা। হাতমুখ ধুতে রাতের বেলা সবার অলক্ষ্যে এক বার ঘর থেকে তিনি বের হতেন, আবার ঢুকেও যেতেন।
আইলুর তার ঘরের আশপাশে কেউ যাক- এটা পছন্দ করতেন না। আর আইলুরের মা-বাবাসহ সব সদস্যই প্রতিদিন কাজের জন্য বের হয়ে যেতেন। কিন্তু আইলুর নিজে নিয়মিত কাজ করতেন না। রংমিস্ত্রী’ বা বিদ্যুৎমিস্ত্রী’ হিসেবে কাজ পেলে মাঝে মাঝে বের হতেন তিনি। বাকি সময় নিজের ঘরেই থাকতেন।এভাবেই বদ্ধ ঘরে প্রায় এক যুগ পার হয়ে যায় সাজিতার। ওই ঘরেই তাকে খাবার এনে দিতেন আইলুর। এভাবে সবার অগোচরে তাদের সংসার জীবন কাটছিল। তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় তিন মাস আগে।
চলতি বছরের ৩ মা’র্চ আইলুর নি’খোঁজ বলে তার মা-বাবা থা’নায় ডায়েরি করেন। তিন মাসেও তারা সন্ধান পাননি ছে’লের। মঙ্গলবার তার ভাই আইলুরকে রাস্তায় দেখে ফেললে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তখনই চাঞ্চল্যকর মোড় নেয় পুরো ঘটনা। দুই ভাইয়ের ঝগড়ার সময় হস্তক্ষেপ করে টহলরত পু’লিশ। ঘটনার বর্ণনা শুনে আইলুরকে থা’নায় নেওয়া হয়। ডেকে পাঠানো হয় সাজিতাকেও।
জানা যায়, প্রে’মিকাকে ১১ বছর এক ঘরে লুকিয়ে রাখতে রাখতে হতাশ আইলুর স্বস্তিতে বাঁচতেই তিন মাস আগে কাউকে কিছু না জানিয়ে সাজিতাকে সঙ্গে নিয়ে ঘর ছাড়েন।পরে তাদের আ’দালতে তোলা হলে এই যুগল জানান, বর্তমানে ভিথুনাসারি এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন তারা। একে অ’পরকে ভালোবেসে স্বেচ্ছায় এক সঙ্গে থাকছেন বলে আ’দালতকে জানানোর পর বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হয়েছে তাদের।
নিনমা’রা থা’নার উপ-পরিদর্শক কে নুফা’ল বলেন, আইলুর-সাজিতার এ ঘটনা তাদের মা-বাবা বিশ্বা’সই করতে পারছেন না। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে আম’রা তাদের বাড়িতে গিয়েছি, তল্লা’শি চালিয়েছি, আলাদা করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। দুজনই একই গল্প বলেছেন।ইচ্ছে করে নি’খোঁজ হওয়ার আগে মা-বাবার কাছে পুরো বিষয়টি বিশ্বা’সযোগ্য করে তুলতে পাগলের মতো আচরণ করতেন আইলুর। মা-বাবাকে বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে তার কিছু ভালো লাগে না, তিনি হতাশ।এদিকে এই যুগলের খোঁজ পাওয়ার পর দুটি নি’খোঁজ মা’মলারই সমাপ্তি ঘোষণা করেছে পু’লিশ। বর্তমানে স্বাভাবিক জীবন কা’টাচ্ছেন তারা।













































