প্রথম বিয়ে ছাড়া দুই জান্নাতকেই কন্ট্রাকচ্যুয়াল (চুক্তিভিত্তিক) বিয়ে করেছিলেন হেফাজতে ইস’লামের যুগ্ম মহাস’চিব মা’ওলানা মামুনুল হক। অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা দিতেই দুই ডিভোর্সি না’রীকে বিয়ে করেছিলেন বলে রি’মান্ডে ত’দন্তসংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি করেন মামুনুল। রিসোর্ট’কা’ণ্ডের ঘ’টনায় শুরুতেই বিয়ের কথা স্বীকার করলে প্রথম স্ত্রী’ আ’মেনা তৈয়বা বড় ধরনের কা’ণ্ড ঘটিয়ে ফেলতেন বলে তার ধারণা ছিল।
এ কারণে তৎক্ষণাৎ স্বীকার করেননি। গ্রে’প্তারের পর জি’জ্ঞাসাবাদের প্রথম দিনই অন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক ত’থ্যের স’ঙ্গে এসব কথা বলেছেন মামুনুল। তবে এখন পর্যন্ত মামুনুল প্রথম বিয়ে ছাড়া বাকি দুই বিয়ের সপক্ষে কোনো আইনী প্রমাণ দেখাতে পারেননি বলে ত’দন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ অবস্থায় তার দুই বিয়ের বৈধতা-অ’বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
মু’সলিম বিবাহ রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী, কাবিন হলো বিয়ের আইনী দলিল। মু’সলিম পারিবারিক আইনে বিয়ের নিবন্ধ’ন একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করে। নিবন্ধ’ন ছাড়া স্বা’মী-স্ত্রী’র সম্প’র্ক প্রমাণ করা কঠিন। বিয়ের নিবন্ধ’ন না থাকা দেশের আইনে একটি শা’স্তিযোগ্য অ’পরাধ। এই অ’পরাধে দুবছর বিনাশ্রম কা’রাদ’ণ্ড ও তিন হাজার টাকা জ’রিমানা বা উভ’য় দ’ণ্ড হতে পারে।
বিবাহ রেজিস্ট্রেশন আইন: বিবাহ রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে স’রকারিভাবে বিবাহকে তালিকাভুক্তি করা। স’রকারের নির্ধারিত ফরমে বিবাহের ত’থ্যবলী দিয়ে এই তালিকাভুক্তি করতে হয়। তালিকাভুক্তি ফরমটিকে কাবিননামা’ও বলে। ১৯৭৪ সালের মু’সলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন অনুযায়ী প্রতিটি বিবাহ স’রকার নির্ধারিত কাজী বা নিকাহ্ রেজিস্ট্রার দ্বারা রেজিস্ট্রেশন করা বা’ধ্যতামূ’লক।
১৯৭৪ সালের মু’সলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইনটি ২০০৫ সালে সংশোধ’নী আনা হয় এবং বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করাকে অ’পরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ওই সংশোধ’নীতে বলা হয়েছে, নিকাহ্ রেজিস্ট্রার বা কাজী বিবাহ সম্পন্ন হবার স’ঙ্গে স’ঙ্গেই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করবেন অথবা তিনি ছাড়া অন্য কেউ বিবাহ সম্পন্ন করলে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ্ রেজিস্ট্রার বা কাজীর নিকট বিবাহের ত’থ্য প্রদান করতে হবে এবং কাজী উক্ত ত’থ্য প্রা’প্তির স’ঙ্গে স’ঙ্গে বিবাহ রেজিস্ট্রি করবেন।
যদি কেউ বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের এসব বিধান ল’ঙ্ঘন করেন তাহলে তার ২ (দুই) বছর বিনাশ্রম কা’রাদ’ণ্ড বা ৩০০০ (তিন হাজার) টাকা জ’রিমানা বা উভ’য়দ’ণ্ড হতে পারে। আইন অনুযায়ী কেউ যদি রেজিস্ট্রেশন বি’ষয়ে ভু’ক্তভোগী হয়ে থাকেন তবে প্রথম শ্রেণির ম্যা’জিস্ট্রেটের কাছে অ’ভিযোগ দা’য়ের করতে পারেন। উল্লেখ্য যে, রেজিস্ট্রেশন না হলে বিবাহ বাতিল হয় না, তবে আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হবার সম্ভাবনা থাকে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিবাহ রেজিস্ট্রি আইন অনুযায়ী মা’ওলানা মামুনুল হকের বি’রুদ্ধে তার ‘চুক্তিভিত্তিক’ দুই স্ত্রী’ অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রথম শ্রেণীর মেজিস্ট্রেট কোর্টে অ’ভিযোগ দা’য়ের করতে পারবেন। অ’ভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি যদি বৈধ কাগজপত্র (কাবিননামা) দেখাতে না পারেন, তাহলে মু’সলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী তিনি দুই বছর বিনাশ্রম কা’রাদ’ণ্ড অথবা তিন হাজার টাকা জ’রিমানা অথবা উভ’য় দ’ণ্ডে দ’ণ্ডিত হবেন। এক্ষেত্রে কাগজপত্রহীন দুই বিয়ের জন্য ৪র বছর বিনাশ্রম কা’রাদ’ণ্ড হতে পারে।
ত’দন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রি’মান্ডের প্রথম দিনে গো’য়েন্দাদের মামুনুল জানিয়েছেন, যে দুটি বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ওই দুই না’রীর স’ঙ্গে অনেক দিন ধরে স্বা’মী-স্ত্রী’ হিসেবে বসবাস করে আসছেন তিনি। তবে বিয়ে সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র তার কাছে নেই। কাবিনও নেই। ওই দুই না’রীর ডিভোর্স হওয়ায় মানবিক দৃষ্টিভ’ঙ্গি নিয়েই তাদের দিকে এগিয়ে যান তিনি।
একজনকে মোহাম্ম’দপুরের একটি মাদরাসায় চাকরিও দিয়েছেন। তাদের স’ঙ্গে শর্ত ছিল বিয়ে প্রকাশ করা যাবে না। আত্মীয়স্বজন ও সমাজের কাছে তাদের প্রতিষ্ঠিত করা হবে না। তবে ভরণপোষণ দেওয়া হবে। কাগজপত্র ও কাবিন না থাকা সত্ত্বেও বিয়ে কিভাবে বৈধ হলো, এমন প্রশ্নের উত্তরে অসংলগ্ন কথা বলেছেন মামুনুল হক।
সংশ্নিষ্ট একজন কর্মক’র্তা বলেন, এরই মধ্যে তিনি মা’নসিকভাবে ভে’ঙে পড়েছেন। ভে’তরে-বাইরে তিনি দ্বৈত চরিত্রের অধিকারী- এটি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কথিত বিয়ের কাহিনি ফাঁ’স হওয়ার পর থেকে ঘরে-বাইরে চা’পে আছেন তিনি। হেফাজতের ভে’তরেও একটি অংশ তার কর্মকা’ণ্ড নিয়ে ক্ষু’ব্ধ।
জানা যায়, রিসোর্ট’কা’ণ্ডের পর এসব বিয়ে প্রকাশ পেলে এতে ক্ষি’প্ত হয়ে প্রথম স্ত্রী’ তিন স’ন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। আর এ ঘ’টনায় প্রথম স্ত্রী’সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে বিরাগভাজন হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরে বাসায়ও যাননি তিনি।












































