প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

বিপর্যস্ত ভারত, আক্রান্ত-মৃত্যু দুইই কমলেও তবুও বিপদ

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

এ মুহূর্তে মহামা’রি করো’না ভাই’রাস সবচেয়ে বেশি বিধ্বংস ছড়াচ্ছে ভা’রতে। দেশটিতে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ আকান্ত হচ্ছে। হাজারো মানুষের প্রা’ণ যাচ্ছে। টানা ৪ দিন করো’নায় দৈনিক আ’ক্রান্ত ৪ লাখেরও বেশি ছিল। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সেটি ৩ লাখে নেমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভা’রতে নতুন করে করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৪৯৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে দৈনিক মৃ’ত্যুর সংখ্যাও ৪ হাজারের নিচে নেমেছে। এই সময়ে মা’রা গেছে ৩ হাজার ৭৪৮ জন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ রবিবার দেশটিতে আ’ক্রান্ত হয়েছিলেন ৪ লাখ ৩ হাজার ৭৩৮ জন এবং মৃ’ত্যু হয়েছিল ৪ হাজার ৯২ জনের।

করো’না ভাই’রাসে আ’ক্রান্ত, মৃ’ত্যু ও ‍সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের সবশেষ দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১০ মে) সকাল পর্যন্ত ভা’রতে মোট সংক্রমিত হয়েছে ২ কোটি ২৬ লাখ ৬২ হাজার ৪১০ জন। মোট মৃ’ত্যু হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৬ জনের।

দেশটিতে আ’ক্রান্ত ও মৃ’ত্যুর সঙ্গে সুস্থতার সংখ্যাও পাল্লা দিয়েই বাড়ছে। এ পর্যন্ত করো’নায় আ’ক্রান্তদের মধ্যে মোট ১ কোটি ৮৬ লাখ ৬৫ হাজার ২৬৬ জন সুস্থ হয়েছেন।

ভা’রতে প্রতিদিন নতুন আ’ক্রান্ত রোগী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। বর্তমানে দেশে মোট সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৯৯৮ জন।

গত মা’র্চের মাঝামাঝিতে ভা’রতে দিনে করো’না রোগী শনাক্তের সংখ্যা ছিল ২০ হাজারের কাছাকাছি। এরপর দেশটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। যে কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়তে থাকে। দিল্লি, মহারাষ্ট্রসহ অনেক রাজ্যে অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দেয়। অক্সিজেন, আইসিইউ বেডের জন্য হাহাকারের মধ্যে মৃ’ত্যু বেড়েছে আতঙ্কজনক হারে। দিল্লির অনেক শ্মশানে মৃ’তদের দাহ করার জায়গা পাওয়া যায়নি। পার্ক, পার্কিং লটে দাহ করা হয়েছে। অ’ভিযোগ উঠেছে অনেক ক্ষেত্রে করো’নায় মৃ’ত্যুর সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে না। ভা’রতের করো’না পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস বলেছেন, করো’না মহামা’রি কতটা বিপর্যয়কর হতে পারে তার পূর্বাভাস হচ্ছে ভা’রত।

বিশ্ব করো’না: বিশ্বজুড়ে করো’না মহামা’রিতে মৃ’তের সংখ্যা ৩৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। শনাক্ত পৌঁছেছে ১৫ কোটি ৮৯ লাখে। দক্ষিণ এশিয়ার জনবহুল দেশ ভা’রতসহ বেশ কয়েকটি দেশ এখন করো’নার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত। এরই প্রভাবে প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে শনাক্ত ও মৃ’ত্যু।

সারা’বিশ্বে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রা’ণঘাতী এ ভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হয়ে ৯ হাজার ৭২২ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃ’তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ লাখ ৬ হাজার ৩১৩ জনে।

আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল পর্যন্ত করো’নায় মা’রা গেছেন ৩৩ লাখ ৬ হাজার ৩১৩ জন। আ’ক্রান্ত হয়েছেন ১৫ কোটি ৮৯ লাখ ৫৬ হাজার ১৮২ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৩ কোটি ৭৩ লাখ ৮৩ হাজার ১৭০ জন।

বিশ্বে করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃ’ত্যু হয়েছে যু’ক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করো’নায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৮১২ জনের প্রা’ণ নিয়েছে করো’না। এছাড়া সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮১ জনের দেহে।

যু’ক্তরাষ্ট্রের পর করো’নায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ভা’রত। এশিয়ার মধ্যেও করো’নায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত দেশটি। ভা’রতে এখন পর্যন্ত করো’না রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২ কোটি ২৬ লাখ ৬২ হাজার ৪১০ জন। মা’রা গেছেন ২ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৬ জন।

তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। ল্যাটিন আ’মেরিকার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত করো’না আ’ক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৫১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৯০ জন। তাদের মধ্যে মা’রা গেছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৪১৮ জন।

সংক্রমণ ও মৃ’ত্যুর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখনও ৩৩তম। দেশে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ জন করো’না রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মা’রা গেছেন ১১ হাজার ৯৩৪ জন। আর করো’না থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭ লাখ ১০ হাজার ১৬২ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করো’নাভাই’রাস শনাক্ত হওয়ার পর তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। চীনে করো’নায় প্রথম রোগীর মৃ’ত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করো’না রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে।

করো’না প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করো’নায় প্রথম কোনো রোগীর মৃ’ত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে। ওই বছরেরই ১১ মা’র্চ করো’নাকে বৈশ্বিক মহামা’রি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।