প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

বা’দী থেকে যেভাবে প্রধান আ’সামি বাবুল আক্তার

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

স্ত্রী’ মাহমুদা খানম মিতু হ’ত্যার ঘ’টনায় সাবেক পু’লিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পেয়েছে মা’মলার ত’দন্তকারী সংস্থা পু’লিশ ব্যুরো অব ইনভে’স্টিগেশন (পিবিআই)। পাঁচ বছর পর এ ঘ’টনায় নতুন দিক উন্মো’চিত হলো।

চা’ঞ্চল্যকর এই হ’ত্যা মাম’লা’টি ত’দন্তের ধারা’বাহিক’তায় প্রায় পাঁচ বছরের মা’থায় বা’দী বাবুল আক্তারই হচ্ছেন ঘট’নার প্রধান অ’ভিযু’ক্ত।
ইতোমধ্যে বুধবার (১১ মে) বাবুল আক্তারকে প্রধান আ’সামি করে চ’ট্টগ্রামের পাঁচলাইশ আরো একটি মাম’লা দা’য়ের করেছেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

পিবিআই জানায়, মিতু হ’ত্যা’কা’ণ্ডের মা’মলা’টি ত’দন্তে তার স্বামী বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। কিন্তু মা’ম’লার বা’দীকে ইচ্ছে করলেই আ’ইন অনুযায়ী গ্রে’ফতার করা যায় না। এদিকে আগের মাম’লা’টির চূড়ান্ত প্রতি’বেদন দিতে ইতো’মধ্যে আদা’লতে গেছেন পিবিআই’র ত’দন্ত সং’শ্লিষ্টরা।

পরে দা’য়েরকৃত নতুন হ’ত্যা মা’মলায় বাবুল আক্তারকে গ্রে’ফতার দেখিয়ে আ’দালতে পাঠানো হবে। বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের স’ঙ্গে আলাপকালে পিবিআই প্রধান বনজ কু’মা’র মজুম’দার বলেন, আম’রা চাইলেও কাগজে-কলমে অনেক কিছু বলতে পারি না মাম’লার ত’দন্তের স্বার্থে।

মিতু হ’ত্যার ঘ’টনায় উ’দ্ধার হওয়া ভিডিও ফুটেজ আম’রা একজনকে দেখেছিলাম তার নাম কাম’রুল ই’সলাম মু’সা। কিন্তু মু’সা এখনো নি’খোঁজ। আম’রা জেনেছি মু’সা নিয়মিত বাবুল আক্তারের বাসায় যাতায়াত করতেন। বাবুলের অ’নুপ’স্থিতিতে মু’সা ঘরের বাজারও করে দিতেন।

পিবিআই জানার চে’ষ্টা করেছে মু’সা সোর্স ছিল কিনা। এটাই পিবিআই প্র’মাণের চে’ষ্টা করেছে। মু’সাকে শুধু বাবুল আক্তারই চিনতেন। ভিডিও ফুটেজ স্প’ষ্ট এই মু’সাকে চেনা গেছে। কিন্তু ত’দন্তে ও জি’জ্ঞা’সাবা’দে মু’সার দিকে বাবুল আ’ক্তারের স’ন্দেহ হচ্ছিলো না।

পরে আম’রা ত’থ্যপ্রযু’ক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি যে বাবুল আক্তার ইচ্ছা’কৃতভাবে তার ব্যক্তি’গত সোর্স মু’সাকে স’ন্দেহ করেনি বা স’ন্দেহ’জনক বলে পু’লিশকে জানায়নি। বনজ কুমা’র মজু’ম’দার বলেন, মিতু হ’ত্যাকা’ণ্ডের কিছুদিন আগে জ’ঙ্গি কার্যক্রমে আ’হত হন বলে দা’বি করেন বাবুল।

আম’রা সেটিই বি’শ্বা’স করেছি। আবার স্ত্রী’ মিতু নি’হতের পর তার যে আ’চরণ ছিল, তা ছিল সবচেয়ে আপন’জন হা’রানোর মতো। তাই তার কথা সবাই বি’শ্বা’স করেছিলেন। ত’দন্তের স্বার্থে পিবিআই বাবুল আক্তারকে ডেকে ছিল। সাক্ষা’তের পর বাবুল আক্তার পিবিআইকে কিছু প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

বিষয়গুলো আইজিপিকে জানানো হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী’কেও জানানো হয়। এ অব’স্থায় ব্যাক করার সুযোগ নেই বলে জানায় পিবি’আই। পিবিআই প্রধান বলেন, মা’মলার ত’দন্তে আম’রা নড়া’ইলের এক লোক’কে পর্য’বে’ক্ষণে নেই। তার নাম গাজী আল মামুন, তিনি বাবুল আ’ক্তারের বন্ধু।

তার অ’পর বন্ধু সা’ইফুল হক’কেও পিবিআই ডাকে। তারা সা’ক্ষী হি’সেবে ১৬৪ ধারায় জ’বানব’ন্দি দিয়েছেন। এর ভিত্তিতে পুরনো মা’মলা’টির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে। মা’মলার ত’দন্ত স’ম্পর্কে বনজ কু’মা’র আরও বলেন, ঘট’নায় প্রথমে বাবুল আ’ক্তারের সম্পৃক্ততা আসেনি।

মহামান্য হাইকো’র্ট জানতে চেয়েছেন কতো’দিন ঝুলে থাকবে এ মা’মলা? ত’দন্তে কিছু নতুন প্রশ্ন আসে, সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁ’জতে গিয়ে মা’মলা ভিন্ন’দিকে মোড় নেয়। এদিকে মাহ’মুদা আ’ক্তার মিতু হ’ত্যার নতুন মা’মলায় পু’লি’শের সাবেক এসপি বাবুল আ’ক্তারকে এক নম্বর আ’সামি করে মা’মলা দা’য়ের করা হয়েছে।

বুধবার (১২ মে) দুপুরে পাঁচলাইশ থা’নায় মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বা’দী হয়ে ৮ জনের বি’রুদ্ধে এ মাম’লা দা’য়ের করেন। এর আগে সোমবার (১০ মে) মা’মলার বাদী হিসেবে জি’জ্ঞাসাবা’দের জন্য পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে ডেকে আনা হয় তাকে।

মঙ্গলবার (১১ মে) সারাদিন বাবুল আক্তারকে জি’জ্ঞাসাবা’দ করা হয় বলে জানি’য়েছেন পিবিআই’র এক কর্মক’র্তা। ২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে চট্টগ্রামের জি’ইসি মো’ড়ে কু’পিয়ে হ’ত্যা করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। এ ঘ’ট’নায় ঢাকায় অবস্থান করা মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার বা’দী হয়ে চট্টগ্রামের পাঁচ’লাইশ থা’নায় একটি মা’মলা দা’য়ের করেন।

মা’মলার অ’ভিযোগে নিজে’র জ’ঙ্গিবি’রোধী কার্য’ক্র’মের জন্য স্ত্রী’কে হ’ত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি অ’ভিযোগ করেন। ঘ’টনার কয়েক দিন পরেই মা’মলার ত’দন্তে নতুন মোড় নেয়। এক’পর্যায়ে আ’লোচিত এই হ’ত্যা’কা’ণ্ডের স’ঙ্গে বাবুল আ’ক্তারের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অ’ভিযোগ করেন তার শ্ব’শুর মোশারফ হোসেন।

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থা’না পু’লিশের পর চট্টগ্রামের ডিবি পু’লিশ মা’মলা’টির ত’দন্ত করে। তারা প্রায় তিন বছর ত’দন্ত করেও অ’ভিযোগপত্র দিতে ব্য’র্থ হয়। পরে ২০২০ সালের জা’নুয়ারি মাসে আ’দাল’তের নি’র্দেশে মা’মলা’টি ত’দন্তের ভা’র পায় পিবিআই।

মিতু হ’ত্যার পর বাবুল আক্তার প্রথমে ঢাকার মেরা’দিয়া’য় শ্ব’শু’রবা’ড়িতে উঠেছিলেন। ২০১৬ সালের ২৪ জুন বাবুল আ’ক্তারকে ঢাকার ডিবি পু’লিশের কার্যালয়ে এনে প্রায় ১৫ ঘণ্টা জি’জ্ঞাসাবা’দ করা হয়।

পু’লিশ জা’নায়, বাবুল চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পরে বাবুল আক্তার দা’বি করেন, তিনি স্বেচ্ছায় প’দত্যা’গ করেননি। পদত্যা’গপত্র প্র’ত্যাহা’রের জন্য ৯ আ’গস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্র’ল’য়ের জ্যেষ্ঠ সচি’বের কাছে তিনি আবার আবে’দন করেন।