হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য কমিউনিকেশন, নেভিগেশন অ্যান্ড সার্ভিল্যান্স–এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট (সিএনএস-এটিএম) সিস্টেমসহ রাডার সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। ফ্রান্স থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে রাডারটি কিনতে ব্যয় হবে ৬৫৮ কোটি ৪০ লাখ ৩২ হাজার টাকা।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) কর্তৃক ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও)-এর পরামর্শে কমিউনিকেশন-নেভিগেশন- সার্ভিলেন্স ও এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট (সিএনএস-এটিএম) ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থার আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের এয়ার স্পেস সিঙ্গেল মোড থেকে মাল্টিমোড সার্ভিলেন্সের আওতায় এয়ার স্পেসের ওপর সক্রিয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে উড়োজাহাজ পরিচালনায় অধিকতর নিরাপদ সেবা দেওয়ার জন্য গৃহীত উদ্যোগটির বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিএনএস-এটিএম সিস্টেমসহ রাডার স্থাপন সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি আধুনিকায়নের জন্য পিপিপি-এর মাধ্যমে কেনার বিষয়টি গত ২০১৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেয়।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পিপিপি-র আওতায় ১০ বছর চুক্তির মেয়াদে আয়কর ও ভ্যাট ছাড়া প্রায় ১৭৫৫ কোটি টাকার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। পরে প্রকল্পটি পিপিপি-এর পরিবর্তে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়।সূত্র জানায়, এরমধ্যে বাংলাদেশস্থ ফ্রান্স দূতাবাস ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থার আধুনিকায়নের কার্যক্রম, জি-টু-জি ভিত্তিতে ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় সংস্থা থেলস, ফ্রান্সের মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়।
থেলস রাডার সিস্টেম সরবরাহের জন্য বিশ্বের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ব্যবহৃত রাডারটি তাদেরই সরবরাহ করা। এ পরিপ্রেক্ষিতে থেলস, ফ্রান্সের কাছ থেকে রাডার সিস্টেমসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য যন্ত্রপাতি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এর ৬৮ ধারার আওতায় রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৭৬(২) এর বিধান অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কেনার জন্য ২০১৯ সালের ৮মে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেয়।
সেই অনুমোদনের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর তারিখে ফ্রান্সের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।সূত্র জানায়, জি-টু-জি ভিত্তিতে রাডার কেনার কাজ সম্পাদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারির পরিপত্র অনুসারে একটি জি-টু-জি নেগোসিয়েশন কমিটি গঠন করা হয় এবং ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর তারিখে জি-টু-জি নেগোসিয়েশন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। থেলস, ফ্রান্সের কাছ থেকে পাওয়া কারিগরি প্রস্তাব প্রাথমিকভাবে যাচাই বাছাইয়ের জন্য একটি কারিগরি সাব কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন কমিটি রাডার কেনার সংশ্লিষ্ট যাচাই-বাছাই করে।
এছাড়াও নেগোশিয়েশন কমিটি নির্মাতা সংস্থা থেলস-এর সঙ্গে দরকষাকষি করে ইউরো ৬৩,৭০০,০০০.০০ (কর ব্যতীত) নির্ধারণ করে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬৫৮ কোটি ৪০ লাখ ৩২ হাজার টাকা।এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য বৃহস্পতিবার (২৭ মে) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে বলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।













































