প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

প্রিয় সন্তানকে ডায়াবেটিসের হাত থেকে বাঁ’চাতে মে’নে চলুন কিছু সহজ নিয়ম, নিজেও সুস্থ থাকুন

6
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

ভালমন্দ খাইয়ে ও ঘরে আটকে রেখে যত মেদ জ’মাবেন বা’চ্চার শ’রীরে, তত স’র্বনাশ হবে তার৷ মা নিজে যদি মোটাসোটা হন, আরও বি’পদ৷ গ’র্ভসঞ্চারের সময় ওজন স্বা’ভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকলে জেস্টেশনাল ডায়াবিটিসের আশ’ঙ্কা বেড়ে যায়৷ প্র’সবের পর তা সেরে গেলেও পরে আবার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷

মায়ের জে’স্টেশনাল ডায়াবিটিস থাকলে সন্তান বেশি ওজন নিয়ে জ’ন্মাতে পারে৷ আবার খুব বেশি বা কম ওজনের বাচ্চার পরবর্তী কালে ডায়াবিটিস হতে পারে৷ আশ’ঙ্কা আরও বাড়ে কম ওজনের বাচ্চাকে খুব তাড়াতাড়ি খাইয়েদাইয়ে মোটা করলে৷ কাজেই বুঝতেই পারছেন, সন্তানের ডায়াবিটিস হওয়া ঠে’কাতে বাবা-মায়ের ভূমিকা বিরাট৷

মায়ের দায়িত্ব- সেমি–তে উচ্চতা মেপে তা থেকে ১০০ বিয়োগ করলে যে সংখ্যা পাবেন, সেটাই আপনার আদ’র্শ ওজন৷ গর্ভধারণের আগে সঠিক খাবার খেয়ে ও ব্যায়াম করে ওজন তার কাছাকাছি নিয়ে আসুন৷ গ’র্ভাবস্থাতেও স্ত্রীরো’গ বিশেষজ্ঞের প’রামর্শমতো হাল’কা ব্যায়াম করবেন৷ গর্ভাবস্থায় খাবারের পরিমাণ নয়, তার গুণগত মানের দিকে নজর দিন৷ থার্ড ট্রাইমেস্টারে গিয়ে তবে ২৫০–৩০০ ক্যালোরির মতো বেশি খেতে হবে৷

গর্ভাবস্থায় ধূমপান, মদ্যপান, অতিরি’ক্ত চা–কফি–কোলা না খেলে এবং ডাক্তারের কথা মেনে চললে খুব কম ওজনের বাচ্চা হওয়ার চান্স কম৷ এ ছাড়া নবজাতককে যত দিন পারেন স্রেফ বুকের দুধ খাওয়ান৷ প্রথম ৬ মাস তো বটেই। কৌটোর দুধের এমনিই নানা অসুবিধে আছে, তার উপর বাচ্চার ওজনও বাড়ে দ্রুত৷ বাড়ে ভবিষ্যতে ডায়াবিটিসের আশ’ঙ্কা৷ খেয়াল রাখু’ন, বাচ্চা বড় হওয়ার পর যেন ভুল খাবারে তার আসক্তি না জ’ন্মায়৷

আবার বেশি মদ খেলে ওজন বাড়ে, কো’লেস্টেরলও পাল্লা দিয়ে বাড়ে৷ ডায়াবিটিসের চিকিৎ’সায় ওজন ও কোলেস্টেরল কম রাখার ভূমিকা বিরাট৷ দেখা গিয়েছে সুগারের পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমাতে পারলে চিকিৎ’সার কা’র্যকারিতা প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়ে যায়৷ ওজন কমাতে পারলে তো কথাই নেই৷ মদের নে’শা থাকলে যা করে ওঠা খুব ক’ঠিন৷ ডায়েট মেনে থালা সাজান।

ধূমপান ও ডায়াবিটিস হল তেল আর জলের মতো৷ একস’ঙ্গে মিলেমিশে থাকতে পারে না৷ কাজেই ডায়াবিটিসের কুফল এড়িয়ে বাঁচতে চাইলে ধূমপান ত্যা’গ ক’রতেই হবে৷ যত তাড়াতাড়ি তা ক’রতে পারবেন, তত মঙ্গল৷

শুয়ে–বসে থাকার অভ্যাস হলে স্বা’ভাবিক যা ওজন হওয়ার কথা, তাকে ২০ দিয়ে, হালকা কাজক’র্ম করলে ২৫ দিয়ে আর দৌড়ঝাঁপ করে কাজ করলে ৩০ দিয়ে গুণ করে যে সংখ্যা আসবে, তত ক্যালোরির খাবার খেয়ে ডায়াবিটিস ঠেকিয়ে রাখু’ন৷

কিছু নিয়ম- নিয়ম মানলে ৫০ শতাংশ মানুষের ডায়াবিটিস হয় না, আর বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে যাঁদের এ রো’গের প্র’বণতা আছে, তাঁদের হয় বছর ১৫ পরে৷ দেরিতে ডায়াবিটিস হওয়ার অর্থ, দেরিতে জ’টিলতা হওয়া৷ অর্থাৎ অনেক বেশি দিন ভাল থাকা৷ কখন কী করলে ডায়াবিটিস ঠেকানো যায় তা দেখে নিন৷ সন্তানের সাইকেল চালানোর অভ্যাসে উৎসাহ দিন।

১. দুপুরে ১৫–২০ মিনিটের জন্য একটু গড়িয়ে নেওয়া ভাল, কাজক’র্মের উৎসাহ বাড়ে৷ শ’রীর ভাল থাকে৷ কিন্তু দু’–এক ঘণ্ঢা ধ’রে টানা ঘুমোলে উল্টো বিপত্তি হয়৷

২. সাইকেল বিক্রি করে দিয়ে স্কুটার কিনবেন না৷ বরং উল্টোটা করুন৷ সাইক্লিংয়ে যতটুকু ব্যায়াম হবে, তাতে অনেক উপকার পাবেন৷
বাজার–হাট করুন হেঁটে৷

৩. সকালে বা বিকেলে কম করে আধঘণ্টা টানা হাঁটার চেষ্টা করুন৷

৪. সারা মাসে ৫০০ মিলি–র বেশি তেল খাবেন না৷

৫. সারা দিনে নুন খাবেন চায়ের চামচের এক চামচেরও কম৷

৬. ওজন বেশি হলে, তা স্বা’ভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ব্যায়াম করার পাশাপাশি, দিনে যত ক্যালোরি খাওয়া উচিত তার চেয়ে ৫০০ ক্যালোরি কম খান৷

৭. পে’ট ভরাতে লো–ক্যালোরির ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যেমন শাকসব্জি–ফল খান বেশি৷

৮. সকাল–দুপুর ও রাতের খাওয়ার মাঝে আরও দু’বার হালকা খাবার খান৷ ফল, স্যালাড, ক্লিয়ার স্যুপ জাতীয়৷