প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

প্রধানমন্ত্রী কি সব খবর পাচ্ছেন?

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রোজিনা ইসলাম লাঞ্ছিত হওয়ার পর একটি প্রশ্ন সবার সামনে এসেছে, প্রধানমন্ত্রী কি সব খবর পাচ্ছেন? প্রধানমন্ত্রীকে কি সাদা কালো ফ্রেমে সব সত্য খবর পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে? এই প্রশ্নটি উঠেছে এই কারণেই যে, অনেকেই মনে করছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে আমলাদের দৌরাত্ম্য, বাড়াবাড়ি এবং তাদের মাস্তান হয়ে ওঠা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ইত্যাদি বিষয়ে অনেক সত্য খবরই প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া হচ্ছে না। আমলারা প্রধানমন্ত্রীকে এমন ভাবে ঘিরে ফেলেছে, এমন একটি আবহ তৈরি করেছেন যেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সব সঠিক খবর পাওয়া সম্ভব নয়। যেমন, রোজিনা ইসলামের কথাটিই ধরা যাক। এখানে রোজিনা ইসলাম তথ্য চুরি করেছেন, নাকি তাকে ফাঁসানো হয়েছে, নাকি এই ঘটনাটি নিছকই একটি তুচ্ছ ঘটনা, এই তিন তথ্যের সঠিক তথ্যটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়েছে?

সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক তথ্যের উৎস রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে যে সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা থাকেন, তারা প্রধানমন্ত্রীকে যেকোনো বিষয়ে আপডেট করেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানমন্ত্রীকে তথ্য দিয়ে অবহিত করেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকর্মী এবং কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে অনেক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব উৎস থেকেও তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। কিন্তু তথ্য পাওয়ার যে ভিন্ন ভিন্ন চারটি উৎস এই উৎসবগুলোর মধ্যে যদি সিন্ডিকেট হয়, প্রত্যেকটি উৎস যদি একে অপরের সাথে যোগসাজশ করে একই তথ্য প্রধানমন্ত্রীকে দেয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কি সঠিক তথ্য পাবেন? এই প্রশ্নটি এখন খুব জোরেশোরেই উঠেছে। বিশেষ করে আমলারা যেভাবে তথ্য গোপন করেছেন এবং ভুল তথ্য দিচ্ছেন তাতে এই প্রশ্নটিই সামনে চলে এসেছে যে, আমলারা হয়তো অন্য সব তথ্যও ফিল্টার করছেন এবং সেইটুকু তথ্যই প্রধানমন্ত্রীকে দিচ্ছেন, যেটুকু তথ্য তাদের তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ রোজিনা ইসলামের ঘটনাটি একটি ছোট্ট বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এই ঘটনাটি মীমাংসিত হয়ে যাবে।

কিন্তু লকডাউন নিয়ে আমলারা যে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন তাতে মানুষের যে প্রতিক্রিয়া হয়েছে সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী সঠিক তথ্য পেয়েছেন কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন মহল সংশয় প্রকাশ করেন। গত এক বছরের বেশি সময় করোনার কারণে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক যোগাযোগ কমে গেছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আগে যেমন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সহজে দেখা করতেন, বিভিন্ন বিষয়ে তার পরামর্শ নিতেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের কাছ থেকে যেমন বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য নিতেন, সেই ধারাটা বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী যে বিকল্প উৎসগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করত সেই তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ এখন গণভবণে যাওয়া, প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করাটা অনেকটাই সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। যার ফলে এখন তথ্য প্রাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রী মাত্র দুটি উৎসের ওপর নির্ভরশীল। একটি গোয়েন্দা তথ্য, অন্যটি তার চারপাশে থাকা আমলাদের তথ্য। কাজেই আমলারা কোনো সময় তাদের বিরুদ্ধে তথ্য দিবে এটি মনে করার কোনো কারণ নাই। আর এ কারণেই সরকারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শুভাকাঙ্খীরা মনে করছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সঠিক তথ্য দেওয়াটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।