প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

পটুয়াখালীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

বর্তমানে মহামারী করোনার চেয়েও ডায়রিয়া ভয়াবহ রূপধারণ করেছে পটুয়াখালীতে। হাসপাতালগুলোতে তিল ধরনের ঠাঁই নেই। গত ২২ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসে জেলায় ৪৩০৯ জন ডায়রিয়ার অক্রান্ত হয়ে জেলা সদরের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের আটটি হাসপাতালে ভর্তি হয়। গত সাতদিনে পটুয়াখালীতে সদরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের আটটি হাসপাতালে ভর্তি হয় ২১৭৩ জন। সবচেয়ে বেশী রুগী ভর্তি হচ্ছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত এক মাসে সেখানে ভর্তিকৃত রুগীর সংখ্যা ১৫৬৮ জন, এরমধ্যে গত এক সপ্তাহে ৬৩৭ জন। উপজেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত মির্জাগঞ্জ উপজেলায়। গত এক মাসে হাসপাতালে ভর্তি ৭৪০ জন এবং এরমধ্যে গত এক সপ্তাহেই ৫১৬ জন। মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী এলাকায় গত শনিবার সকালে তৈয়ব আলী সিকদার (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন, বিকেলে তিনি বাড়িতেই মারা যায়। এছাড়াও ১নং মাধবখালি ইউনিয়নের সমাদ্দারকাঠি গ্রামের রাকিব খন্দকারের মেয়ে কাঁঠালতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী শাহারা সানফুল (১৫) গত রোববার সকালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুপুরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই বাড়িতেই মারা যায় বলে জানান ১নং মাধবখালী ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন তালুকদার। তিনি আরো জানান, তার এলাকায় দুই শতাধিক লোক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এবিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, মির্জাগঞ্জে ডায়রিয়া ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি দুইজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ারর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তারা বাড়িতে মারা গেছেন।

গত শনিবার সকালে দুমকী উপজেলার জলিশা গ্রামের আ. হক মুনশী (৮২) ডায়রিয়া নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন, পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মীর শাহিদুল হাসান।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সূত্র মতে, গত রোববার বাউফলের ভরিপাশার খাদিজা বেগম (২৭) ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান। এছাড়া ১৯ এপ্রিল বাউফলে পিয়ারা বেগম (৬০) ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।