প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

নিয়ামতপুরে চকলেটের লোভ দেখিয়ে শিশু ধর্ষণ, আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের নমনীয়তার অভিযোগ

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

নওগাঁর নিয়ামতপুরে চকলেটের লোভ দেখিয়ে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার কয়েক ঘন্টা পর শিশুটিকে গ্রামীণ ক্লিনিক প্যাথলজি, ঝিলিম রোড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রথমে ১ এপ্রিল নাচোল থানায় পরে ঘটনার স্থান নিয়ামতপুর থানায় হওয়ায় ১৬ এপ্রিল নিয়ামতপুর থানায় পুনরায় মামলা দায়ের করা হয়।

এলাকাবাসী ও থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) সকাল ১০টায় নাচোল উপজেলার পিরপুর সাহানাপাড়া গ্রামের ঐ শিশু ও প্রতিবেশীর আরেক শিশু বাড়ীর পাশে খেলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী একরামুল হকের ছেলে রাসেল বাবু (১৭) চকলেট খাওয়ার লোভ দেখিয়ে জোতালী মৌজায় অবস্থিত বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভীর নলকূপের ঘরে নিয়ে গিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে আসামির মা রেনুকা বেগম উদ্ধার করে বাড়ী নিয়ে আসলে শিশুটি তার বাবা-মাকে সব বলে দেয়। পরে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য গ্রামীণ ক্লিনিক প্যাথলজি, ঝিলিম রোড, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ১ এপ্রিল নাচোল থানায় একটি ২০০০ সালের শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী/০৩) ৯(১) ধারায় মামলা হয়। মামলা নং-১/৪২। তদন্তে ঘটনাস্থল নিয়ামতপুর হওয়ায় ১৬ এপ্রিল পুনরায় একই ধারায় নিয়ামতপুর থানায় পুনরায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-১৪/৭০।

ভিকটিম শিশুটির পিতা এ প্রতিবেদককে বলেন, মামলা দায়ের হলে পুলিশ শুধুমাত্র একদিন তদন্তে আসে। এসে চলে যায়। আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য তেমন কোন ভূমিকা পালন করছেন না। পুলিশ উল্টো আমাদেরকেই আসামির খবর জানাতে বলে। আমরা আসামির খবর দিলে তারা গ্রেপ্তার করবে।

শিশুটির মা বলেন, আমরা গরীব মানুষ কাজের জন্য সবাইকে বাইরে যেতে হয়। সেদিনও কাজের জন্য আমরা বাইরে ছিলাম। তখন আমার মেয়ে ও আমার ভাইয়ের মেয়ে বাড়ীর পার্শ্বে খেলা করছিল। সে সময় আমাদের প্রতিবেশী একরামুল হকের ছেলে রাসেল বাবু চকলেটের লোভ দেখিয়ে ডিপ ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পুলিশ আস‍ামি গ্রেপ্তারে গড়িমসি করছে। কোন তৎপরতা নেই তাদের। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ হুমায়ন কবির বলেন, ঘটনার একমাস তিনদিন পর আমার থানায় মামলা হয়েছে। ভুল বুঝাবুঝির কারণে মামলা নাচোল থানায় হয়েছিল। ভিকটিম শিশু এবং অভিযুক্ত শিশু। তাই অভিযুক্তকে আসামিও বলা যাবে না আবার গ্রেপ্তারও দেখানো যাবে না। আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। অভিযুক্তকে খোঁজা হচ্ছে। তাকে পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।