প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

ধর্ষণে শ্যালিকার মৃত্যু, লাশ পুকুরে ফেলে গোসল করেন দুলাভাই

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

কিশোরগঞ্জে মেলায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সাদিয়া আক্তার ওরফে রাস্না নামের এক কিশোরীকে (১৪) অপহরণ ও ধর্ষণ করে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মামলার আসামি মো. হাছানকে (৪৮)। তিনি ওই কিশোরীর চাচাতো বোনের স্বামী।পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত সাদিয়া ১৭ মার্চ বিকেলে লাউয়ের ডুগা আনার জন্য তার চাচাতো বোন জামাই আসামি হাছানের বাড়িতে যায়।

তখন আসামির স্ত্রী লাউয়ের ডুগা কেটে দেয়। এরপর সাদিয়া লাউয়ের ডুগা নিয়া বাড়ির দিকে রওনা হলে আসামি তার ঘরের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। তখন সাদিয়া আক্তার আসামিকে একটু আগায় দিতে বলে। এ সময় আসামি হাছান সাদিয়াকে মেলায় যাওয়ার প্রস্তাব দেন। তখন সাদিয়া মেলায় যাওয়ার জন্য রাজি হলে আসামি রাত ১২টায় প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলেন।পিবিআই জানায়, তখন আসামি হাছান মাসকান্দা বাজারে চলে যায়। আসামি মাসকান্দা বাজার থেকে রাতে বাড়িতে যায়। তারপর বাড়িতে মুরগির ফার্মে কাজ করে।

ফার্মে আসার আগে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খান আর একটি ট্যাবলেট সঙ্গে নেন। মুরগির ফার্মের কাজ শেষে রাত ১২টার দিকে আসামি সাদিয়ার বাড়িতে যান।পিবিআই আরও জানায়, আসামি টিনের ঘরে আঙুল দিয়ে শব্দ করলে সাদিয়া ঘর থেকে বের হয়। এরপর হাছান সাদিয়াকে নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে উত্তর দিকে মাটির রাস্তা দিয়ে পাকা রাস্তায় উঠে এসে ধান ক্ষেতের আইল দিয়ে মেলায় যাওয়ার কথা বলে সাদিয়াকে রসু মিয়ার কলাবাগানে নিয়ে যান।

তখন রাত অনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিট। সেখানে আসামি হাছান সাদিয়ার শরীরে হাত দেয়। হাত দিতে বাধা দেওয়ায় সাদিয়ার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এরপর আসামি ওড়না দিয়ে ভুক্তভোগীর দুই হাত বাঁধে। তারপর তাকে ধর্ষণ করেন। এসময় ভুক্তভোগী কিশোরী চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন আসামি বাম হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরেন।

এভাবেই দু’বার ধর্ষণের পর আসামি দেখেন সাদিয়া আর নড়াচড়া করছে না। তখন তিনি মনে করেন সাদিয়া মারা গেছে। তখন আসামি হাতের বাঁধন খুলে দেয়। এরপর লাশ কাঁধে নিয়ে কলাক্ষেতের পাশের সাহিনের পুকুর পাড়ে ফেলে গোসল করে বাড়িতে চলে যান।পিবিআইয়ের কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন জানান,

গ্রেপ্তার আসামি হাছান এর আগেও বলৎকার মামলায় নিম্ন আদালতে ১০ বছরের সাজা হয়েছে। সেই বলৎকারের মামলায় ২ বছর জেল হাজতে থেকে পরবর্তীতে মামলাটি আপিল করে জামিনে মুক্তি পেয়ে এই ঘটনা ঘটায়।তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোঃ হাছান (৪৮) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।