প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

দেড় বছরের শিশুর জীবন বদলে দিলেন এক মানবতার ফেরিওয়ালা

7
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

খুব বেশি সাজানো-গোছানো নয় অনেকটা অনিশ্চয়তার শেকড়ে ব’ন্দি দেড় বছরের শি’শু মিমের জীবন। সময়টা তখন ২০১৯ সাল। তখন শি’শু মিমসহ তার পরিবারের বসবাস ছিলো কমলাপুর রেলস্টেশনে একটি ময়লার স্তুপের পাশে। তবে কে জানতো একজন মানবতার ফেরিওয়ালা এসে মিমের জীবন পাল্টে দিবে?

হ্যাঁ, বলছি সহম’র্মিতা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মানবতার ফেরিওয়ালা পারভেজ হাসানের কথা। আজ থেকে বছর আগে কমলাপুর রেলস্টেশনে ভাসমানদের খাবার বিতরণ করতে গিয়ে দেখে গভীর রাতে ময়লার স্তুপের পাশেই দেড় বছরের এক ফুটফুটে বাচ্চা খেলা করছে। বাচ্চাটি দেখে তার বিষয়ে জানার কৌতুহল বাড়ে পারভেজের।

শি’শুটিকে পারভেজ জুস নিয়ে দিয়ে তার পাশে থাকা মিমের মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেন সার্বিক বিষয় নিয়ে। তিনি জানতে পারেন মিমের মায়ের কেউ নেই। মা/বাবাহীন এতিম মিমের মায়ের জীবন একপ্রকার অন্ধকারাচ্ছন্ন নিরুপায় হয়ে গ্রাম থেকে শহরে এসেছেন, অনেকেই মিথ্যা স্বপ দেখিয়ে দুর্বলতার সুযোগ নিলেও ঠাই হয়নি কারো কাছে। তখন এই মানবতার ফেরিওয়ালা অনুধাবন করেন মিমের পরিবারের ভবিষ্যৎ অনেকটা অনিশ্চয়তা শেকড়ে ব’ন্দি।

পরে পারভেজ শি’শু মিমের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখে রাজধানীতেই একটি ভাড়া বাসায় তাদের তুলেন। প্রতি মাসের খাদ্য সামগ্রীসহ বাসার ভাড়া চালিয়ে যায়। পরবর্তী দীর্ঘ কয়েক মাস তাদের সঙ্গে পারভেজের ব্যস্ততার জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও গেল রমজাম মাসে হঠাৎ মিমের মায়ের ফোন, দিল ইফতারের দাওয়াত।

ইফতারের দাওয়াতে গিয়ে পারভেজ দেখে এখনো তেমন একটা উন্নতি হয়নি মিম এর পরিবারের। সেইসাথে অ’সুস্থ হয়ে অসহায় সময় কা’টাচ্ছেন, কর্মহীন মিমের বাবাও। তখন ফেসবুকে মাধ্যমে মিমের মায়ের চিকিৎসার জন্য বিত্তবানের সহযোগিতা কামনা করে, মানবিক মানুষেরা এগিয়ে আসলে চিকিৎসা সম্পূর্ন হয় মিম এর মায়ের।

সেইসাথে পরিবারটিকে পরিপূর্ণ ভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ গ্রহণ হিসাবে সহম’র্মিতা ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে একটি ভ্যান ও কিছু নগদ অর্থ (ভ্যানে করে কাঁচামাল বিক্রির জন্য) দিয়ে জীবনকে আরেকটু সচল করার পরাম’র্শ দেন। এই উপহার সামগ্রী পেয়ে মিমের বাবা মোহাম্ম’দ রানা কা’ন্নাজ’ড়িত কন্ঠে জানান, এই মানুষটির (পারভেজ) জন্য আমা’র পরিবারটি একটি আশ্রয় পেয়েছে। যা আম’রা স্বপ্নেও ভাবিনি, কত মানুষ কত কথা দিয়েছিলো কেউ আমাদের পাশে দাঁড়াননি, কিন্তু উনি (পারভেজ) আমাদের যেই উপকারটা করলেন আম’রা সারাজীবনও ভুলতে পারবোনা। আম’রা তার ঋণ শোধ করতে পারবোনা, আল্লাহ তাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখুক।

এমন বহু অনিশ্চিত জীবনে পরিবর্তন আনার সুযোগ পেয়ে ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখে এগিয়ে যেতে চাই জানিয়ে পারভেজ হাসান বলেন, মানুষ হয়ে অসহায় মানুষের পাশে সঠিক সময়ে দাঁড়াতে পারছি, তার উপকারে অবদান রাখতে পারছি। তার জন্য মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেইসাথে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমাদের দাতা শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি যাদের মানবিক সহযোগিতায় আম’রা এমন অসংখ্য মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনার সুযোগ পাচ্ছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।