সরকারের বিধিনিষেধের কারণে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ। চলছে না ট্রেন, লঞ্চও। তবুও ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের চলার গতি থামানো যাচ্ছে না। বাস-ট্রেন নেই তো কী হয়েছে, যে যেভাবে পারছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটছের গ্রামের বাড়ি।
স্বাভাবিক সময়ের বাস-ট্রেনের থেকেও দুই-তিন গুণ বেশি ভাড়ায় ট্রাক-পিকআপ-মাইক্রোবাসে গাদাগাদি করে ছুটছে মানুষ। রাতে, ভোরে, সকালে, দুপুর তারা ছুটে চলছেন নিজ গন্তব্যে। স্বাস্থ্যবিধি তো বহুদূর, রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটলে কী হবে সেটাও তোয়াক্কা করছে না কেউ।
জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সংযোগ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে ঘরমুখো মানুষের স্রোত ঠেকাতে পারছে না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।কখনো পুলিশ চেকপোস্টের অংশটুকু পায়ে হেঁটে অতিক্রম করে আবার কখনো মূল সড়ক এড়িয়ে সরু গলি বা কাদামাখা পথ মাড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও গ্রামের পথ ধরেছেন অসংখ্য মানুষ। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ সীমা ছাড়িয়েছে। কেউ কাভার্ডভ্যান, কেউবা ট্রাকে করেই ধরেছেন গন্তব্যের পথ। অনেকে আবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, সামর্থ্যবান মানুষজনের ব্যক্তিগত যানবাহনে গ্রামের বাড়ি ফেরার পাল্লায় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে যানজটের।গাবতলী, হেমায়েতপুর ও সায়েদাবাদ এলাকার খোঁজ নিয়ে গেছে, কয়েক হাজার মানুষ বাড়িতে যাওয়ার জন্য যানবাহন খুঁজছেন হন্যে হয়ে। অধিকাংশ মানুষই স্বাস্থ্যবিধি মানছিলেন না। গাবতলীতে গণপরিবহন না পেয়ে অনেককেই পায়ে হেঁটে বা অটোরিকশায় সেখান থেকে আমিনবাজারের দিকে রওনা হয়েছেন। আমিনবাজার এলাকায় ঘরমুখী মানুষের প্রচুর ভিড় বলেও খবর পাওয়া গেছে।
লেগুনা, ট্রাক কিংবা মোটরসাইকেলে চড়ে অনেকেই দুই বা তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। এমনকি অনেকে পায়ে হেঁটেও লম্বা পথ পাড়ি দিচ্ছেন।মগবাজারের বিভিন্ন গলি থেকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার জন্য চারটি পিকআপ এবং ফেনীতে যাওয়ার জন্য একটি মাইক্রোবাস অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
ফেনী সোনাগাজীর দিকে যাওয়া মাইক্রোর ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি আগের ভাড়া থেকে কিছু টকা বেশি নিচ্ছেন। আর ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার দিকে যাওয়ার জন্য লোড করা পিকআপের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা জনপ্রতি ৬ থেকে ৭শ টাকায় পিকআপে চড়ছেন।
এক ড্রাইভার বললেন, ‘আমরা খুব বেশি ভাড়া নিচ্ছি না। আমাদের আত্মীয় স্বজনের ভেতরে লোকজনই নিচ্ছি। প্রতি পিকআপে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা ভাড়া নেবো আমরা।’তিনি আরও বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নারী, শিশু নিয়ে যাত্রা পথে কোনো অঘটন ঘটলে আমাদের কিছুই করার নেই। আল্লাহ ভরসা, বাড়ি যেতে হলে ঝুঁকি নিতে হবে।
ড্রাইভাররা জানালেন, রাস্তায় একটু সমস্যা হয়, পুলিশ গাড়ি আটকে রাখে। আবার টাকা দিলে ছেড়ে দেয়। গত দুইদিন ধরে এভাবে তারা যাত্রী নিয়ে যাচ্ছেন এলাকায়।এদিকে লঞ্চ ও ফেরি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে ভোগান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। ভোর থেকেই মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে ভিড় করছেন ঘরমুখো হাজারো মানুষ। মাঝে-মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের জন্য ফেরি ঘাটে ভিড়লেই হুড়মুড়িয়ে উঠে পড়ছেন তারা।
ছোট শিশুসন্তানকে নিয়ে গ্রামে যেতে পিকআপে উঠছেন হাছনা বেগম। তিনি জানান, রাজধানীর মধুবাগ থেকে গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে বেড়িয়েছেন তারা। ময়মনসিংহ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলেই আর চিন্তা নেই বলে জানান তিনি।
পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা এক বাড়ির দারোয়ান আইয়ুব আলী বলছেন, ‘মানুষ আর কী করবে সব গাড়ি বন্ধ। গ্রামের পথে ছুটে চলা বেপরোয়া মানুষগুলো কারও কোনো বাধাই তোয়াক্কা করছেন না। আর স্বাস্থ্যবিধি পালন করার তো প্রশ্নই আসে না। দেখেন, অন্ধকারে কিভাবে মানুষগুলো গাদাগাদি করে দেড়টনি পিকআপে উঠছে, দূরের পথ রাস্তায় তো সমস্যা হতে পারে। কিন্তু ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য গাড়ি চললে কী হতো।’এদিকে, মানুষকে সচেতন করতে ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলামুখী মহাসড়কের পয়েন্টে পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়েও কার্যকর কোনো ফল মিলছে না বলে জানা গেছে।













































