প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

জে’নে নিন প্রাকৃতিক ভাবে কোমরের ব্য’থা নি’রাময়ের উপায়

0
Facebook
Twitter
Pinterest
WhatsApp
LINE

জীবনে একবারও কোমরে ব্য’থা অ’নুভব করেননি পৃথিবীতে এমন লোক খুঁজে পাবেন না। মেরুদণ্ডের নিচের হাড়ের মধ্যবর্তী তরুণাস্থি বা ডিস্কের বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের ফলে এ ব্য’থার সুত্রপাত হয়। তরুণাস্থির এই পরিবর্তনের সাথে সাথে মেরুদণ্ডের নিচের দিকে সংবেদনশীলতার পরিবর্তন হয়। সাধারণত এ পরিবর্তন ৩০ বছর বয়স থেকে শুরু হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ রো’গের কোনো উপস’র্গ থাকে না। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রো’গের উপস’র্গও বাড়তে থাকে।

লকডাউনে টানা কয়েক মাস গৃহবন্দি হয়ে থাকায় কোমর বা হাঁটুর ব্য’থা বেড়ে গেছে অনেকেরই। বিশ্বের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জন কোমরের ব্য’থায় কষ্ট পান। তা হলে প্রায় ৮০০ কোটি জনসংখ্যার এই গ্রহে কত জন কোমরের ব্য’থায় ভু’গছেন, হিসেব কষতে বসলে চোখ কপালে উঠবে!

মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে অজস্র মানুষ কোমরের ব্য’থায় কষ্ট পাচ্ছেন। আম’রা যাকে ‘কোমর’ বলি, চিকিৎ’সা বিজ্ঞানের পরিভাষায় তাকে বলে লাম্বার স্পাইন, বললেন ফিজিক্যাল মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ মৌলিমাধব ঘটক। ভুল ভঙ্গিমায় শোওয়া-বসা, হাঁটা চলা, সামনে ঝুঁকে ভারী জিনিস তোলা বা কখনও কখনও রিকশা, ট্যাক্সি বা বাসে ঝাঁকুনি লে’গেও কোমরে ব্য’থা শুরু হতে পারে।

বেশি বয়সে হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মেরুদণ্ডের দুটি কশেরুকার মাঝখানে যে ডিস্ক আছে, তাও ক্ষয়ে যায় বলে ব্য’থা শুরু হয়, একে বলে ‘স্পন্ডাইলোসিস’।

আ’সলে প্রতিদিনের কাজক’র্মের সময় শ’রীরের বিভিন্ন অংশে ওয়্যার অ্যান্ড টিয়ার হয়। অল্প বয়সে এই ক্ষয় পূরণ হয়ে গেলেও বেশি বয়সে তা হয় না। ফল স্বরূপ কোমরে ব্য’থা করে। কোমরে ব্য’থা শুরু হলে প্রথম চিকিৎ’সা বিশ্রাম।

ব্য’থা কিন্তু হাড়ে হয় না, হয় পেশিতে। যথাযথ শ’রীরচর্চার অভাবে কোমরের দিকের পেশি বা মাসল শক্ত হয়ে যায়। এর স’ঙ্গে হাড়ের ক্ষয় যোগ হলে স্প্যাজম শুরু হয়।

কোমরে ব্য’থা হলে বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি পেশির স্প্যাজমের ওষুধ দেওয়া হয়। ফলে ব্য’থা কমে। অবশ্য খুব প্রয়োজন না হলে ব্য’থার ওষুধ দেওয়া হয় না। এই প্রস’ঙ্গে চিকি’ৎসকরা বলেন, পেশির সংকোচন বা স্প্যাজম কিন্তু শ’রীরের একটা প্র’তির’ক্ষা ব্যব’স্থা। স্প্যাজমের ফলে ব্য’থা হলে মানুষ বাধ্য হয়েও বিশ্রাম নেয়। এর ফলে হাড় কিছুটা র’ক্ষা পায়, শ’রীর বড় ক্ষয়ক্ষ’তি থেকে বাঁ’চানোর জন্যে স্প্যাজম তৈরি করে। শুধু ব্য’থার ওষুধ খেয়ে ব্য’থা কমালে হাড়ের ক্ষয় বাড়বে। তাই কোমরের ব্য’থায় অবশ্যই চিকি’ৎসকের পরাম’র্শ নিয়ে ব্য’থার কারণ জে’নে চিকিৎ’সা করা উচিত।

কোমরে ব্য’থা যে শুধু বয়স্ক মানুষদের হয় তা নয়, অল্প বয়সেও কোমরের ব্য’থার ভোগান্তি হয়, বললেন অর্থোপেডিক সার্জন সুদীপ্ত ঘোষ। কম বয়সে কোমরের ব্য’থার বিভিন্ন কারণের মধ্যে আছে স্লিপ ডিস্ক এবং দাঁড়িয়ে, বসে বা একই ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ থাকা এবং সামনে ঝুঁকে ভারি ওজন তোলার মতো ভুল ভঙ্গিমা। এর থেকে স্লিপ ডিস্ক ও মাসল স্প্যাজম হয়ে ব্য’থার সূত্রপাত হয়।

এই অব’স্থায় অব’স্থানের বদল এনে ও বিশ্রাম নিয়ে সঠিক চিকিৎ’সা না করালে ব্য’থার স’মস্যা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁ’কি থাকে, সা’বধান করলেন সুদীপ্তবাবু। বেশি বয়সে কোমরে ব্য’থার মূল কারণ লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস। মূলত মেরুদণ্ডের হাড়ের ক্ষয় ও পেশির নমনীয়তা ন’ষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে কোমরে ব্য’থার কষ্ট নিয়ে দিন যাপন ক’রতে হয়। অনেকের আবার কোমরের একটা হাড় অন্য হাড়ের উপর উঠে যায়। সেক্ষেত্রেও কোমরের ব্য’থার ভোগান্তি হতে পারে।

চিকি’ৎসকরা জা’নান, এই স’মস্যার ডাক্তারি নাম স্পন্ডাইলোলিস্থেসিস। এই স’মস্যা হলে কোমরের ব্য’থার পাশাপাশি ব্য’থা ঊরু হয়ে পায়ের দিকে নেমে আসতে পারে। পায়ের পিছন দিকের পেশিও শক্ত হয়ে যায়। মূলত খেলোয়াড়দের মধ্যে এই স’মস্যার ঝুঁ’কি বেশি। ফুটবল, জিমন্যাস্টিক, ভারোত্তোলন ছাড়াও যাঁরা স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করেন তাদেরও এই স’মস্যা হতে পারে।

বয়স্ক মানুষদের কোমরে ব্য’থার মূলে আছে অস্টিওপোরোসিসের কারণে মেরুদণ্ডের হাড় সংকুচিত হয়ে পড়া। এর ফলে নার্ভ ও পেশিতে চা’প প’ড়ে ব্য’থার কষ্ট হয়।

আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ ভাটিব্রাল কম্প্রেশনে কষ্ট পান। এই স’মস্যা বাড়লে অনেক সময় ভার্টিব্রোপ্লাস্টি করে অর্থাৎ মেরুদণ্ডের হাড়ের মধ্যে বোনসিমেন্ট পাঠিয়ে স’মস্যার সমাধান করা হয়। এছাড়া প্রচলিত চিকিৎ’সা তো আছেই, বললেন সুদীপ্ত ঘোষ। তবে শুধুই যে হাড় ক্ষয়ে যাওয়া বা পেশির নমনীয়তা কমে যাওয়ার কারণে কোমরে ব্য’থা হয়, তা নয়।

কি’ডনিতে স্টোন হলে, প্যাংক্রিয়াসের অসুখ হলে, স্পাইনা-বাইফিডা নামে জ’ন্মগত ত্রুটি থাকলে, বা অন্য কোনও বড় অসুখের উপস’র্গ হিসেবেও কোমরের ব্য’থা হতে পারে। টানা তিন মাস যদি কেউ কোমরের ব্য’থায় কষ্ট পান, কোমরের পাশাপাশি পায়ের পেশিতেও টান ধ’রে বা অবশ হয়ে যায়, প্রস্রাবে বা মলত্যা’গে স’মস্যা হয়, তা হলে অন্য কোনও বড় অসুখের কথা ভাবতে হবে। এক্ষেত্রে চিকি’ৎসকের পরাম’র্শে প্রয়োজন হলে এমআরআই ক’রতে হতে পারে।

দৈনন্দিন কাজে সত’র্কতা- নিচ থেকে কিছু তোলার সময়: কোমর ভাঁজ করে কিংবা ঝুঁকে তুলবেন না। হাঁটু ভাঁজ করে তুলুন।

কোনো কিছু বহন করার সময়: ঘাড়ের ওপর কিছু তুলবেন না। ভারি জিনিস শ’রীরের কাছাকাছি রাখু’ন। পিঠের ওপর ভারি কিছু বহন করার সময় সামনের দিকে ঝুঁকে বহন করুন।

শোয়ার সময়: উপুড় হয়ে শোবেন না। ভাঙ্গা খাট, ফোম বা স্প্রিংয়ের খাটে শোবেন না। সমান তোশক ব্যবহার করুন। বি’ছানা শক্ত, চওড়া ও সমান হতে হবে। শক্ত বি’ছানা বলতে সমান কিছুর ওপর পাতলা তোশক বিছানোকে বোঝায়।

দাঁড়িয়ে থাকার সময়: ১০ মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে থাকবেন না। হাঁটু না ভে’ঙে সামনের দিকে ঝুঁকবেন না। দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে বা দাঁড়াতে হলে উঁচু হিল পরবেন না। অনেকক্ষণ দাঁড়াতে হলে কিছুক্ষণ পর পর শ’রীরের ভর এক পা থেকে অন্য পায়ে নিন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হলে ছোট ফুট রেস্ট ব্যবহার করুন।

বসে থাকার সময়: আপনার চেয়ারটি টেবিল থেকে বেশি দূ’রে নেবেন না। সামনে ঝুঁকে কাজ করবেন না। কোমরের পেছনে সাপোর্ট দিন। এমনভাবে বসুন যাতে ঊরু মাটির সমান্তরালে থাকে। নরম গদি বা স্প্রিংযুক্ত সোফা বা চেয়ারে বসবেন না।

যানবাহনে চড়ার সময়: গাড়ি চলানোর সময় স্টিয়ারিং হুইল থেকে দূ’রে সরে বসবেন না। সোজা হয়ে বসুন। ভ্রমণে ব্য’থার সময় লাম্বার করসেট ব্যবহার করুন।

কোমর ব্য’থায় আদা- এই কোমর ব্য’থা খুব সহজে দূ’র করা সম্ভব। আদা যে কোনো ব্য’থা কমাতে সক্ষম। আদার মাধ্যমেই দূ’র করে দিতে পারবেন এই স’মস্যা। আসুন জে’নে নিই এই স’মস্যা সমাধানে কা’র্যকরী আদা পানি বানানোর প্রক্রিয়াটি।

যা যা লাগবে: আদা, প’রিষ্কার পাতলা কাপড়, গরম পানি

কিভাবে তৈরি করবেন- প্রথমে আদা কুচি করে ফেলুন। এরপর আদা কুচিগুলো পাতলা কাপ’ড়ে রাখু’ন। কাপড়টির মুখ সুতা বা রশি দিয়ে ব’ন্ধ করে দিন। একটা পুটলি বানিয়ে ফেলুন। এবার চুলায় পানি গরম ক’রতে দিন। এই পানির মধ্যে আদার পটলিটা চিপে রস পানিতে দিন। রস ভাল করে চিপে ফেলার পর আদার পুটলিটা পানির মধ্যে দিয়ে দিন।

এবার একটি কাপড় গরম আদা পানিতে চুবিয়ে নিন। এবার কাপড়টি থেকে ভাল করে পানি চিপড়িয়ে ফেলুন। এই আদা পানিতে চুবানো কাপড়টি ব্য’থার জায়গায় রাখু’ন। লক্ষ্য রাখবেন কাপড়টা যেন খুব বেশি মোটা না হয়।

সারা রাত কাপড়টি ব্য’থার জায়গায় রেখে দিন। সারা রাত সম্ভব না হলে কয়েক ঘণ্টা এটি ব্য’থার জায়গায় রেখে দিন। দেখবেন কোমর ব্য’থা গায়েব হয়ে গেছে। এটি আপনাকে দীর্ঘমেয়াদি আরাম দেবে।

ব্য’থা হওয়ার আগেই কোমর ব্য’থার স’মস্যাকে দূ’রে সরিয়ে রাখতে হবে। ছোট থেকেই নিয়মিত শ’রীরচর্চা করা, পুষ্টিকর খাবার খেয়ে ওজন ঠিক রাখলে ভবিষ্যতে কোমরের ব্য’থায় কষ্ট পেতে হবে না। ক’রোনার ভ’য়ে নিজে’রা ব্য’থার ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই চিকি’ৎসকের পরাম’র্শ নিন, ব্য’থা মু’ক্ত থাকুন।